Exclusive: বিশ্বকাপের আগেই ভারতে কাফু! ব্রাজিলের কিংবদন্তি অধিনায়ককে কলকাতায় আনারও উদ্যোগ
নভেম্বরে শুরু ফুটবল বিশ্বকাপ। তার আগেই সাম্বা ঝড় আছড়ে পড়তে চলেছে কলকাতায়। পেলে, মারাদোনা, ভালদেরামার মতো কিংবদন্তিদের কলকাতায় এনেছিলেন ক্রীড়া সংগঠক শতদ্রু দত্ত। এবার তিনিই শহরে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন ব্রাজিলের আরেক কিংবদন্তি কাফুকে। ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়কের বার্তাও পৌঁছে গিয়েছে শতদ্রুর কাছে।
|
কাফু আসছেন ভারতে
নভেম্বরে কাতারে বসছে ফিফা বিশ্বকাপের আসর। ওই মাসের প্রথম সপ্তাহে কাফু ভারতে আসবেন। শতদ্রু দত্ত ওয়ানইন্ডিয়া বাংলাকে জানিয়েছেন, কাফুর ভারকীয় উপমহাদেশে বেশ কিছু কর্মসূচি আছে। তিনি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই ভারতে আসবেন। কলকাতাতেও নিশ্চিতভাবেই একটা দিন থাকবেন। কাফু কোন কোন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর বিস্তারিত সফরসূচি জানিয়ে দিতে পারব।
|
ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক
কাফুই বিশ্বের একমাত্র ফুটবলার যিনি তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন। তার মধ্যে ব্রাজিল জিতেছে ২টি বিশ্বকাপে। ২০০২ সালে কাফুর অধিনায়কত্বেই শেষবার বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রাজিল। তারপর আর পেলের দেশ বিশ্বকাপ জেতেনি। ২০০২ সালের বিশ্বকাপটি আয়োজনের দায়িত্বে ছিল দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। সেটিই ছিল এশিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপ এবং ব্রাজিলের জেতা আজ অবধি শেষ বিশ্বকাপ। ব্রাজিল ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জেতে। এ ছাড়া ১৯৩৮ ও ১৯৭৮ সালে রানার-আপ হয়।
|
দখলে একাধিক রেকর্ড
জাপানের ইওকোহোমা স্টেডিয়ামে ব্রাজিল রেকর্ড পঞ্চমবারের জন্য বিশ্বকাপ খেতাব জিতেছিল। জার্মানি ও ইতালি বিশ্বকাপ জিতেছে চারবার করে। রোনাল্ডোর জোড়া গোলে ফুল-ব্যাক কাফুর অধিনায়কত্বে ব্রাজিল ২০০২ বিশ্বকাপ জিতেছিল জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে। কাফু ১৯৯৪ থেকে ২০০২ অবধি টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার ঈর্ষণীয় রেকর্ডটিও নিজের দখলে রেখেছেন। কাফু ব্রাজিলের হয়ে সর্বাধিক ১৪২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। বিশ্বকাপে রেকর্ড সংখ্যক ২০টি ম্য়াচ খেলার নজিরও রয়েছে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ১৫টি ম্যাচ জেতার রেকর্ডটিও তাঁর দখলে ছিল দীর্ঘদিন, ২০১৪ সালে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসে সেই রেকর্ডটি নিজের দখলে নেন। ১৯৯০ সাল থেকে ২০০৬ অবধি কাফু ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন। পাঁচটি গোলও করেছেন। কাফু এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ২৪ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জেতা ছিল স্বপ্নের মতো। আবার ২০০২ সালে আমার অধিনায়কত্বে ব্রাজিল পঞ্চমবার বিশ্বকাপ জেতে, ফলে আমার কাছে গুরুত্ব বেশি ২০০২-এর কাপ জয়েরই।

প্রতীক্ষার পালা শুরু
২০০২ সালের বিশ্বকাপের আগে কাফু দলকে বলেছিলেন, ফাইনাল অবধি উঠতে সকলে যেভাবে খেলেছেন তার বাইরে কিছু করতে হবে না। ফাইনালের আগে কাপ জয়ের কথাই ছিল শয়নে-স্বপনে-জাগরণে। বিশ্বকাপ জয়ের অনুভূতি, সেই রাত তাঁর জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও জানান কাফু। কাতার বিশ্বকাপের অন্যতম অ্যাম্বাসাডর কাফু আত্মবিশ্বাসী ব্রাজিল এবার ২০ বছরের কাপ খরা মেটাতে পারবে বলে। কলকাতা বিশ্বকাপের সময় আর্জেন্তিনা ও ব্রাজিলে ভাগ হয়ে যায়। ব্রাজিলের প্রতি সমর্থনের পাল্লা ভারী। বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কেও কাফুর সঙ্গে দেখা করানোর পরিকল্পনা রয়েছে শতদ্রুর। সৌরভ নিজে ব্রাজিল-ভক্ত, তবে দিয়েগো মারাদোনার বিশাল ফ্যান। কলকাতায় পেলে, দুঙ্গা এসেছেন। দুঙ্গাকে পুজোয় ঢাক বাজাতেও দেখা গিয়েছিল। আইএসএল খেলতে এসেছেন ব্রাজিলের প্রাক্তন তারকারাও। তবে বিশ্বকাপের আগে শহরের ফুটবল জ্বর নিশ্চিতভাবেই বাড়িয়ে দেবে কাফুর আগমন।












Click it and Unblock the Notifications