Emiliano Martinez: মার্তিনেজ ঘুরে গেলেন সুজিত ও সজলের ক্লাবে, বাংলার ফুটবল কতটা লাভবান এই সফরে?
Emiliano Martinez: এমিলিয়ানো মার্তিনেজের কলকাতা সফরের আজই শেষ দিন। আজ সকালে আর্জেন্তিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলকিপার গেলেন মন্ত্রী সুজিত বোস ও বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষের ক্লাবে।
তবে মার্তিনেজের সঙ্গে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎ হলো না। শুধু তাই নয়, ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারির পাশাপাশি মার্তিনেজের সঙ্গে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দেখাও করাতে পারলেন না উদ্যোক্তারা।

মার্তিনেজ গতকাল দুপুরে পরেছিলেন ইস্টবেঙ্গলের জার্সি, বিকেলে মোহনবাগানের। রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও মার্তিনেজের সফরে তৃণমূল বনাম বিজেপি ১-১ হয়ে গেল আজ। সুজিত বোসের শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবে গিয়ে দিয়েগো মারাদোনার মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন এমি।
মার্তিনেজের সফরকে কেন্দ্র করে কয়েকটি জেলায় গোলকিপিংয়ের প্রতিযোগিতা করেছিলেন উদ্যোক্তারা। সেখানকার বাছাইদের নিয়ে আজ শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবে হলো মূলপর্বের প্রতিযোগিতা। এমিলিয়ানো মার্তিনেজ সেখানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। তিনি নিজেও গোলকিপিং করতে নেমে পড়েন। রুখে দেন সুজিত বোসের তিনটি শট।

এদিনই বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষের ক্লাব সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারে যান মার্তিনেজ। সেখানেও মার্তিনেজকে নিয়ে তুমুল উন্মাদনা। দুই জায়গাতেই মার্তিনেজের হাতে ছিল বিশ্বকাপের রেপ্লিকা। মার্তিনেজকে দিয়ে দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করাল এই ক্লাব। তবে ঘেঁটে ঘ হলো উঠতি ফুটবলারদের ক্লাস।
নানা বয়সের উঠতি গোলকিপারদের উৎসাহিত করতে এখানে ফুটবল ক্লিনিক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মার্তিনেজের সঙ্গে ছবি তুলতে ও সই নিতে উন্মাদনা এতটাই ছিল যে, ফুটবলারদের টিপস দেওয়ার সুযোগই পেলেন না মার্তিনেজ। কয়েকজনকে অটোগ্রাফ দিয়েই ফিরে গেলেন মঞ্চে।
গতকাল শহরের একটি অভিজাত হোটেলে চ্যারিটির জন্য নিলামের আয়োজন করা হয়েছিল। মার্তিনেজের সফরে বাংলার ফুটবল আদৌ উপকৃত হলো কিনা সে প্রশ্ন থেকেই গেল। ফেলো কড়ি মাখো তেল তত্ত্ব মেনেই চললেন মার্তিনেজকে কলকাতায় আনার প্রধান উদ্যোক্তারা।

বাংলাদেশে মার্তিনেজকে দেখার সুযোগ পাননি সেখানকার ফুটবলপ্রেমীরা। বাংলাতে তবু মার্তিনেজকে দেখতে পারলেন কয়েক হাজার দর্শক। কিন্তু সুষ্ঠু পরিকল্পনা করলে বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মার্তিনেজকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া যেতেই পারতো। যে মাঠে খেলে গিয়েছিল লিওনেল মেসির আর্জেন্তিনা।
যুবভারতীতে বহু মানুষ মার্তিনেজকে দেখতে পারতেন। বলতে দ্বিধা নেই মার্তিনেজকে কলকাতায় আনা হলো স্রেফ পণ্য হিসেবে। স্পনসররা টাকা ঢাললেন, তাঁরাই ছবি তুললেন। অনেকে লক্ষাধিক টাকা খরচ করে ছবি তুলতে পারলেন না, পেলেন না জার্সি। তাঁদের ক্ষোভ প্রশমনে মার্তিনেজের সই করা জার্সি পাঠানোর ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।
আইএফএকেও মার্তিনেজের সফরে সক্রিয় দেখা গেল না। আইএফএ-র মাধ্যমেই কিছুটা সময় নিরিবিলিতে মার্তিনেজকে দিয়ে বাংলার উঠতি ফুটবলারদের উৎসাহিত করতে ক্লিনিক করা যেত। যেখানে মূল্যবান টিপস দিতেন তিনি। তা তো হলোই না, হৈ-হট্টগোল, ঠেলাঠেলি, হুড়োহুড়িতেই ঝটিকা সফর সারলেন সদাহাস্যময় মার্তিনেজ। বিশৃঙ্খলার মধ্যেও তাঁর ধৈর্য্যের তারিফ করতেই হয়।












Click it and Unblock the Notifications