East Bengal: ইস্টবেঙ্গল নিয়ে বড় ঘোষণা ইমামির, শহরে পৌঁছেই চ্যাম্পিয়নরা ভাসলেন লাল হলুদ সুনামিতে
East Bengal: প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে নয়। না, ভারতীয় ক্রিকেট দলকে স্বাগত জানানো। দমদম বিমাবন্দরে আজ বিকেলে যে সুনামি আছড়ে পড়ল তার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক সম্পর্কও নেই।
কলকাতার বিমানবন্দরের রং আজ কয়েক ঘণ্টার জন্য হয়ে গেল লাল হলুদ। ১২ বছর পর সর্বভারতীয় ট্রফি জিতে ইস্টবেঙ্গল শহরে পৌঁছেই ভাসল ফুটবল আবেগে।

ওডিশা এফসিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ইস্টবেঙ্গল কলিঙ্গ সুপার কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তারপরই আজ ইমামি গ্রুপের তরফেও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। কলিঙ্গ সুপার কাপ উৎসর্গ করা হয়েছে ক্লাবের সমর্থকদের। সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সঙ্গে গাঁটছড়া স্বল্পমেয়াদের নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী।
ইস্টবেঙ্গলে বিনিয়োগের পর থেকেও অনেকটা সময় সব যে মসৃণভাবে চলেছে তা নয়। তবে ডুরান্ড কাপ ফাইনালে ওঠা, কলিঙ্গ সুপার কাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে তা দেখেই উজ্জীবিত হয়ে ক্লাবকে নিয়ে বড়সড় পরিকল্পনা সেরে ফেলেছে ইমামি গ্রুপ। শর্ট-টার্ম ফলাফলকেও তাই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।
ইমামি জানিয়েছে, ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখা সমর্থকরা দলের উপর বিশ্বাস হারাননি। আগাগোড়া টুর্নামেন্ট জেতার মানসিকতা নিয়েই এগিয়ে গিয়েছেন কোচ, ফুটবলার ও অন্যান্য সাপোর্ট স্টাফরা। ইস্টবেঙ্গলের হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারই যে ইমামির লক্ষ্য, সে কথা জানিয়ে দিয়েছেন সংস্থার ডিরেক্টর আদিত্য বর্ধন আগরওয়াল ও মণীশ গোয়েঙ্কা।
ইমামি যে ফুটবলের সাপ্লাই লাইন তৈরি করায় জোর দিচ্ছে, সে কথাও আজ জানিয়েছে বিবৃতির মাধ্যমে। ফুটবলের সামগ্রিক পরিকাঠামোর উন্নতিসাধনার পাশাপাশি ইউথ ডেভেলপমেন্টকেও যথোপযুক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাতের ভিশনের বাস্তবায়নে দলকে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ইমামি।
গতকালই জানা গিয়েছিল, আজ বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ শহরে পৌঁছবে কলিঙ্গ সুপার কাপ চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল। সকাল থেকেই বিমানবন্দরে বাড়তে থাকে লাল হলুদ সমর্থকদের ভিড়। আট থেকে আশি, সকলেই প্রিয় দলকে স্বাগত জানাতে, বরণ করে নিতে হাজির ছিলেন। ভিড় বাড়তে বাড়তে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়।
লাল হলুদ জনতার আবেগের সুনামি এতটাই বেড়ে যায় যে, বিমান অবতরণের পরও অনেকটা সময় ধরে ফুটবলার ও কোচেরা বের হতে পারছিলেন না। বিধাননগর পুলিশ ও ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার বারবার অনুরোধ জানাতে থাকেন, দলের বাসে ওঠার রাস্তা পরিষ্কার করে দেওয়ার জন্য। নয়তো দলকে অন্য গেট দিয়ে বের করে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়।
অনেকটা সময় পর কোচ ও প্লেয়াররা বাসে ওঠেন। বিমানবন্দর থেকে টিম বাস রওনা দেয় ক্লাব তাঁবুর দিকে। যদিও বাসের দুই পাশে, সামনে ও পিছনে প্রচুর সংখ্যক বাইক, স্কুটি, গাড়ি ছিল। সমর্থকরা বাসের সামনে হাঁটতেও থাকেন। ফলে বাসের গতি বাড়ানো যাচ্ছিল না। সমর্থকদের আবেগ উন্মাদনা দেখে তৃপ্তির হাসি দেখা যায় স্বপ্নের ফেরিওয়ালা কোচ কুয়াদ্রাতের মুখে।












Click it and Unblock the Notifications