ডুরান্ড সেমি ও ফাইনাল হোক কলকাতায়, আর্জি তিন প্রধানের, সাংবাদিকদের প্রশ্নবাণে দিশেহারা দশায় ক্লাব কর্তারা
Clubs On RG Kar Incident: ডুরান্ড কাপের ডার্বি বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সামিল হয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান ও মহমেডান স্পোর্টিংয়ের সমর্থকরা।
এবার কার্যত নজিরবিহীনভাবে আজ কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবে ময়দানের এই তিন প্রধান ক্লাবের কর্তারা সাংবাদিক বৈঠক করলেন। দাবি তুললেন ডুরান্ড কাপ নিয়ে।

আরজি কর কাণ্ডের জেরে বাতিল হয়েছিল কলকাতা ডার্বি। কলকাতা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় ডুরান্ডের কোয়ার্টার ফাইনাল। তবে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল কলকাতা থেকে না সরানোর জন্য আর্জি জানালেন ক্লাব কর্তারা। ডুরান্ড কমিটি সব দিক খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে।
তবে সূত্রের খবর, এই ম্যাচগুলি কলকাতায় হওয়ার ব্যাপারে পুলিশ-প্রশাসন ইতিবাচক বার্তাই দিতে চলেছে। মোহনবাগানের সচিব দেবাশিস দত্ত, মহমেডানের সচিব ইসতিয়াক আহমেদ রাজু ও ইস্টবেঙ্গলের সচিব রূপক সাহা যৌথ প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করেছেন।
তিন প্রধানের কর্তারা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান, ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল যাতে কলকাতাতেই হয়। যৌথ প্রেস বিবৃতিতে উল্লেখ, গত ম্যাচের আগে পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের কিছু ভয়াবহ ও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি দেখানো হয়। সমর্থকদের কাছে অনুরোধ, যাতে তাঁরা প্রশাসনের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করে শান্তিপূর্ণভাবে ম্যাচ উপভোগ করেন।
একইসঙ্গে আরজি করে ধর্ষণের পর যে তরুণী চিকিৎসককে খুন করা হয়েছে তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা ব্যক্ত করার পাশাপাশি দ্রুত সুবিচার ও দোষীদের কঠোরতম শাস্তিরও দাবি জানানো হয়। এই লড়াইয়ে রাজনৈতিক রং বাদ দিয়ে সর্বতোভাবে থাকার অঙ্গীকারও করা হয়।
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে তিন প্রধানের সচিবরা ছাড়াও ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের আরেক কর্তা দেবব্রত সরকার। দেবাশিস ও দেবব্রতকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সন্ধান চাই বলে কটাক্ষ করেছিলেন সমর্থকরা। তিন প্রধানের কোনও কর্তাকেই সেদিন ফুটবলপ্রেমীদের পাশে দেখা যায়নি।
আজও তাঁরা স্পষ্ট করে দিলেন, সেদিনের প্রতিবাদ মিছিলে ওঠা মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে তাঁরা সমর্থন করেন না। একের পর এক প্রশ্নবাণে বেসামাল ও বিধ্বস্ত হয়ে সাংবাদিক সম্মেলন শেষ করার ঘোষণা করেন দেবব্রত সরকার। যদিও অনেক প্রশ্নেরই সদুত্তর দিতে ব্যর্থ ক্লাব কর্তারা।
মহমেডান স্পোর্টিং ও ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলাররা খেলা চলাকালীন আরজি কর কাণ্ডে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তবে ক্লাব কর্তাদের বক্তব্য, এমন প্রতিবাদ ক্লাবকে না জানিয়ে করা হয়েছে। সেটা ফুটবলারদের গণতান্ত্রিক অধিকার। অর্থাৎ সরকারের বিরাগভাজন হতে না চেয়ে বিষয়টি থেকে দূরত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করা হলো।
ফুটবলপ্রেমীদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশি লাঠিচার্জ, কয়েকজন সমর্থকের আটক হওয়ার ঘটনায় পাশে দাঁড়াননি কর্তারা। দেবব্রত, দেবাশিসদের সাফাই, তাঁরা নিখোঁজ ছিলেন না। যে সংবাদমাধ্যমগুলি ফোন করেছে তাঁদের প্রতিক্রিয়াও দিয়েছেন। এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে নিজে থাকায় নাকি অন্য কোনও ক্লাবের কর্তারা সেদিন ফুটবলপ্রেমীদের পাশে গিয়ে দাঁড়াননি বলে আজব সাফাই দেন দেবব্রত ওরফে নীতু সরকার।
দেবাশিস দত্ত আবার বললেন, এটাও দেখতে হবে পুলিশ কেন লাঠি চালাল? অর্থাৎ পরোক্ষে সেই ফুটবলপ্রেমীদের ঘাড়েই দায় চাপানোর চেষ্টা! নীতু সরকার অবশ্য বললেন, তাঁরা সমর্থকদের পাশেই রয়েছেন। কেউ আইনি সহায়তা চাইলেও তাঁরা সহযোগিতা করবেন।
ফুটবলপ্রেমীদের প্রতিবাদ দমনে যত সংখ্যক পুলিশ ছিল তার চেয়ে অনেক কম পুলিশকর্মী দিয়েই ডার্বি করানো যেত বলে দাবি কল্য়াণ চৌবে কিংবা সমর্থকদের। যদিও সেই সহজ স্বীকারোক্তির সৎ সাহসও দেখাতে পারলেন না তিন প্রধানের কর্তারা। তাঁদের যুক্তি, সবদিক পর্যালোচনা করে পুলিশ-প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা তাদের ব্যাপার। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন রয়ে গেল, আদৌ এই কর্তারা সমর্থকরা ফুটবলপ্রেমী সমর্থকদের প্রতি কতটা আন্তরিক। এই কর্মকর্তারা রাজনৈতিক রং না লাগাতে আহ্বান জানিয়েও কোনও বিশেষ মহলকে খুশি রাখতেই ধরি মাছ না ছুঁই পানি গোছের অবস্থান নিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications