Football Fans' Protest: সমর্থকদের কেনা যায় না, কিন্তু ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের কর্তারা নীরব কোন স্বার্থে?
Football Fans' Protest: ডুরান্ড কাপে কলকাতা ডার্বি বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে লাঠি চালিয়েছে পুলিশ। পিছু হঠতেও পুলিশকে বাধ্য করেন ফুটবলপ্রেমীরা।
পুলিশের অত্যাচারের শিকার হয়েছেন অনেক ফুটবল ভক্ত। যদিও তাঁদের পাশে দাঁড়াতে এলেন না দুই প্রধানের কর্তারা। আর তাতেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

ফুটবলপ্রমীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশি লাঠিচার্জের নিন্দা হয়েছে সব স্তরেই। বিষয়টি গিয়েছে আদালত পর্যন্ত। এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে দাবি করেন, ডুরান্ড কাপের ডার্বি বাতিল অনৈতিক। আর শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশি বলপ্রয়োগ বিশ্বের ফুটবলের কালো দিন।
কল্যাণ নিজে দাঁড়িয়ে থেকে প্রিজন ভ্যান থেকে আটকদের ছাড়তে বাধ্য করেছেন। অনেক রাত অবধি লালবাজারে থেকে ছাড়িয়ে এনেছেন আটক হওয়া ফুটবলপ্রেমীদের। যদিও আইএফএ থেকে ময়দানের ক্লাবগুলি কেউই ফুটবলপ্রেমীদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি।
মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট অধিনায়ক শুভাশিস বোস সস্ত্রীক আরজি কর কাণ্ডে ন্য়ায়বিচার দাবি করেছেন। আরজি কর কাণ্ডের জেরে নিরাপত্তার ছুতোয় পুলিশ-প্রশাসনের ডার্বি বাতিলের সিদ্ধান্তে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রিয় দলের পতাকা, জাতীয় পতাকা নিয়ে যেভাবে পথে নেমেছিলেন সকলে তা দেথে ফিলিপ ডি রাইডার অবধি মুগ্ধ।
হাতে গোনা কয়েকজন তিন প্রধানের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন দেখে ফুটবলপ্রেমীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। সমর্থকরা জোর গলায় দাবি করছেন, তাঁদের ফুটবল আবেগ বিক্রি হওয়ার নয়। আর তারপরই প্রশ্ন উঠছে ক্লাব কর্তাদের ভূমিকা নিয়ে।
ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান ক্লাবের কর্তারা নীরব। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেবব্রত সরকার ও দেবাশিস দত্ত নিখোঁজ বলেও কটাক্ষ চলছে। দুই ক্লাবের সোশ্যাল মিডিয়ায় ফুটবলপ্রেমীদের উপর পুলিশি বর্বরতা নিয়ে একটা লাইনও লেখা হয়নি। রাখি বন্ধনের শুভেচ্ছাবার্তা দেখা গিয়েছে।
ইস্টবেঙ্গল কর্তা দেবব্রত সরকার মুখ খোলেননি সংবাদমাধ্যমের কাছে। মোহনবাগান ক্লাবে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও দেবাশিস দত্তকে দেখা যায়নি। ফুটবলপ্রেমীদের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরাগভাজন হতে না চেয়েই তাঁদের এই মৌনব্রত পালন চলছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কথাও অনেকে লিখছেন, ৫০ লক্ষ টাকা দিয়েই কি ক্লাব কর্তাদের কিনে নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? যে কারণে প্রিয় দলের হয়ে গলা ফাটাতে, ক্লাবের জার্সি ও পতাকা হাতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যেখানে আহত হলেন, আটক হলেন, কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ রইল ইএম বাইপাস, সেখানে ক্লাবের কর্তারা ফুটবলপ্রেমীদের প্রতি এতটুকু সহমর্মী নন! তা কি সরকারকে খুশি রাখতেই।
২১ জুলাইয়ের সমাবেশ থেকে নির্বাচনী প্রচারেও যেখানে প্রাক্তন ফুটবলারদের হাঁটতে দেখা যায় শাসক দলের সমর্থনে, তাঁরাও নীরব। চোখ-কান বন্ধ করে যেন বসে রয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ সরকারের নানা কমিটিতেও আছেন। মানস ভট্টাচার্য-সহ কয়েকজন আজ ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পাশে হাজির ছিলেন রাজ্য সরকারের রাখি বন্ধন কর্মসূচিতে। কিন্তু তাঁদের আরজি কাণ্ডের প্রতিবাদ না করা, ফুটবলপ্রেমীদের পাশে না দাঁড়ানো দেখে অনেকেরই প্রশ্ন, কোন লোভনীয় কিছু হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় তাঁরা এমন অমানবিক হয়ে উঠছেন! এই প্রাক্তনীদের বয়কটের দাবিও উঠছে।












Click it and Unblock the Notifications