জঘন্য ডিফেন্স, গোয়ার বিরুদ্ধে চার গোল হজম ইস্টবেঙ্গলের

চলতি আইএসএল-এ পাঁচটি ম্যাচ খেলা হয়ে গেলেও জয়ের দেখা পেল না ইস্টবেঙ্গল। মঙ্গলবার লিগ টেবলের অন্তিমে থাকা এফসি গোয়া'র বিরুদ্ধে ৩-৪ গোলে হারের গ্লানি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হল লাল-হলুদ জার্সিধারী'দের। ইস্টবেঙ্গলের এই ভরাডুবির নেপথ্যে প্রধান কারণ দলের অবিন্যস্ত এবং শোচনীয় ডিফেন্স।

জঘন্য ডিফেন্স, গোয়ার বিরুদ্ধে চার গোল হজম ইস্টবেঙ্গলের

এ দিনের ম্যাচে তিন বার পিছিয়ে পড়ে্ সমতা ফিরিয়ে আনে ইস্টবেঙ্গল। আক্রমণ এবং মাঝমাঠের বোঝাপড়া এবং গোয়া রক্ষণের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষের উপর প্রতিআক্রমণ নির্ভর ফুটবলের মধ্যে দিয়ে চাপ তৈরির স্ট্র্যাটেজি নিয়েছিল মশালবাহিনী। অ্যান্তোনিও পেরোসেভিচ-আমির ডার্ভিসেভিচ বা অমরজিৎ কিয়ামে'র লড়াই বারবার লাল-হলুদ'কে ম্যাচে ফিরিয়ে নিয়ে এলেও ডিফেন্সে টমিস্লাভ মার্সেলা, রাজু গায়কোয়াড়ে'র অবিশ্বাস্য একের পর এক ত্রুটি গোটা ম্যাচে ডুবিয়েছে ইস্টবেঙ্গল'কে।

ম্যাচের ১৪ মিনিটে প্রথম গোলটি হজম করে লেসলি ক্লডিয়াম সরণি'র ক্লাব। ১৪ মিনিটে জর্জ ওর্টিজে'র পাস ধরে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া অ্যালবার্তো নোগুয়েরার কোনাকুনি নেওয়া শটের কোনও জবাব ছিল না শুভম সেনে'রা কাছে। তবে, গোলরক্ষক শুভম যদি গোল লাইন ছেড়ে বেশি এগিয়ে না আসতেন তা হলে ফিস্ট করে বারের উপর দিয়ে বলটি বের করে দেওয়ার সুযোগ থাকতো তাঁর সামনে।

তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকতে হয়নি ইস্টবেঙ্গল'কে। ২৬ মিনিটে আমিরের ফ্রি-কিক ওয়ালে লেগে প্রতিহতে হলে ফিরতি বলে আউটস্টেপে দূরপল্লার শটে চোখ ধাঁধানো গোল করে যান অ্যান্তোনিও পেরোসেভিচ। ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনায় আত্মবিশ্বাসী ইস্টবেঙ্গলের মাঝমাঠ এবং আক্রমণ প্রতিপক্ষের গোলমুখে আঘাত হানার জন্য ঘুঁটি সাজাচ্ছে তখনই খেলার ছন্দটা নষ্ট করে দেন সৌরভ দাস। প্রতিআক্রমণে আসা এফসি গোয়ার ফুটবলার'কে বক্সের মাথায় ফাউল করেন সৌরভ। প্রথমে ফ্রি-কিকের সিদ্ধান্ত নিলেও সহকারীর সঙ্গে আলোচনা করে পরে পেনাল্টি'র নির্দেশ দেন রেফারি। স্পট কিক থেকে গোল করতে ভুল করেননি ওর্টিজ। আইএসএল-এর স্তরে এই ধরনের ভুল বিরল।

ডিফেন্সের ভুলে দ্বিতীয় বারের জন্য পিছিয়ে পড়লেও আমিরের ব্যক্তিগত নৈপুন্য ম্যাচে ফিরিয়ে আনে ইস্টবেঙ্গল'কে। ৩৭ মিনিটে বিশ্বমানের বাঁক খাওয়ানো ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন স্লোভেনিয়ার এই ফুটবলার। এই গোল দীর্ঘদিন মনের মনিকোঠায় থাকবে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের। নিখুঁত প্লেসিং-এ গোল লাইনে ক্রস করার আগে ড্রপ নেওয়া ফ্রি-কিক বাঁচানো সম্ভব ছিল না তরুণ গোলরক্ষক ধীরাজের।

'সাপ-লুডো'র প্রথমার্ধ শেষের ঠিক এক মিনিট আগে আবারও পিছিয়ে পড়ে ইস্টবেঙ্গল। পেরিসেভিচের আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে ইস্টবেঙ্গল। তবে, এই গোলের ক্ষেত্রে তাঁকে দোষ দেওয়া যায় না। অন্য দিকে, গোলরক্ষক শুভমের আউটিং ঠিক হলে বল মাটিতে পরার আগেই তিনি গ্রিপ করতে পারতেন।

প্রথমার্ধে পাঁচ গোলের রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার দেখার পর দ্বিতীয়ার্ধে আরও টানটান নাটকের পটভূমির জন্য অপেক্ষা করছিল গোটা দেশ। হতাশ করেনি দুই দলের ডিফেন্স। নিজেদের পাড়ার ক্লাবের স্তরে নামিয়ে এনে গোল পাল্টা গোলে জমিয়ে দিয়েছিল দ্বিতীয়ার্ধ। একটা সময়ে ম্যাচ দেখে মনে হচ্ছিল আইএসএল-এর ইতিহাসে সব থেকে ব্যর্থ দুই ডিফেন্স লাইনআপের গোল হজমের মহড়া চলছে। অনেকটা কে কত বেশি গোল হজম করতে পারে, তারই প্রতিযোগীতা।

দ্বিতীয়ার্ধের গোল স্কোরিং শিটে প্রথম নাম তোলে ইস্টবেঙ্গল। পেরোসেভিচের দ্বিতীয় গোলে সমতা ফেরায় ইস্টবেঙ্গল। খেলার ফল দাঁড়ায় ৩-৩। গ্লেন মার্টিন্সের ভুলের সুযোগে ইভান গঞ্জালেজ'কে গতিতে পরাস্থ করে ডান পায়ের প্লেসিং-এ গোল করে সমতায় ফেরান পেরোসেভিচ। তিন বার পিছিয়ে পড়েও তিন বার সমতা ফেরানো ইস্টবেঙ্গল তখন কার্যত ফুটছে জয় সূচক গোল তুলে নেওয়ার জন্য। স্ট্র্যাটেজি'তে পরিবর্তন এনে চিমা'কে নামিয়ে আক্রমণে আরও গতি বাড়িয়েছে স্প্যানিশ কোচ দিয়াজ। লাল-হলুদের মুহূর্মুহু আক্রমণে তখন ত্রাহি ত্রাহি রব গোয়ার ডিফেন্সে। দু'টি ক্ষেত্রেও গোলের সুযোগও চলে এসেছিল কিন্তু ঠিক মতো বল নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় লাভ হয়নি।

ম্যাচের ৭৯ মিনিটে ফের পিছিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। ওর্টিজের পাস থেকে পদ্মাপারের ক্লাবের কফিনে শেষে পেরেকটি পুঁতে দেন নোগুয়েরা। অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে মোট ১৬ মিনিট হাতে থাকলেও আর সমতা ফেরাতে পারেননি আমির-চিমা'রা। এই নিয়ে পাঁচ ম্যাচে ১৪ গোল হজম করল ইস্টবেঙ্গল। গড়ে যা দাঁড়ায় ম্যাচ প্রতি ২.৮। যেই দলের ডিফেন্স প্রতি ম্যাচে প্রায় তিনটি করে গোল হজম করে সেই দলের জেতা তো দূর অস্ত্ ড্র করাটাও বড় প্রাপ্তি হয়ে দাঁড়ায় সমর্থকদের কাছে। ইস্টবেঙ্গলের এই দলটায় প্রয়োজন একাধিক পজিশনে পরিবর্তন। মূলত বদলি দরকার ডিফেন্স এবং গোলরক্ষক পজিশনে। জানুয়ারির ট্রান্সফার উইন্ডো'তে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তন করতে না পারলে আরও খারাপ ফলাফল অপেক্ষা করছে মশাল ব্রিগেডের জন্য।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+