সুভাষের ভুল রণনীতি এবং খেলোয়ারদের যোগ্যতার অভাবেই আটকে গেল ইস্টবেঙ্গল

কলকাতা কাস্টমসের বিরুদ্ধে কলকাতা লিগের দ্বিতীয় ম্যাচ ড্র করল ইস্টবেঙ্গল।

কলকাতা লিগে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই পয়েন্ট হারাল ইস্টবেঙ্গল। অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল ক্যালকাটা কাস্টমসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করল লাল-হলুদ। আল আমনা-সুরাবদ্দিনরা দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামলেও কাঙ্খিত জয় তুলতে পারল না ইস্টবেঙ্গল।

সুভাষের ভুল রণনীতি এবং খেলোয়ারদের যোগ্যতার অভাবেই আটকে গেল ইস্টবেঙ্গল

তবে, লিগের দ্বিতীয় ম্যাচে লাল-হলুদের মুখ থুবড়ে পড়ার কারণ ব্যখ্যা করতে গেলে উঠে আসবে একের পর এক ভুল-ত্রুটির খাতিয়ান।

এমনিতেই জায়েন্ট কিলার হিসেবে বরাবর পরিচিত কাস্টমস। ছোট দল হলেও, কাস্টমস দলটার বাঁধুনিটা যথেষ্ট দৃঢ়। কাস্টমসের দলে যে তিন বিদেশি রয়েছেন, তাঁরাও দীর্ঘ দিন ধরে কলকাতা ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত। সেখানে দীর্ঘদিন ময়দানি ফুটবলে হাত পাকানো সুভাষ ভৌমিক কী ভাবে দল গঠনে একের পর এক ভুল করলেন তা বোঝা গেল না কোনও যুক্তিতেই।

লিগ শুরুর আগেই সুভাষ জানিয়েছিলেন, কলকাতা লিগ তাঁর লক্ষ্য নয়। আই লিগকে পাখির চোখ করে এগোচ্ছেন তিনি। কলকাতা লিগে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দলটাকে সেট করে নেওয়াই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।

কিন্তু ভাবলে অবাক লাগে, যেই কলকাতা লিগকে ঘিরে সমর্থকদের এত উন্মাদনা এবং উচ্ছ্বাস, সেই কলকাতা লিগকে কী ভাবে দুয়োরানি করে রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন সুভাষ!

লিগের শুরু থেকে সুভাষের নেতিবাচক এই চিন্তাধারার প্রভাবই দেখা গেল ইস্টবেঙ্গলের দল গঠনে। এক ঝাঁক তরুণ মুখ থাকলেও দলের ফর্মেশনে কোনও বাঁধুনি ছিল না লাল-হলুদের। সদ্য পঞ্জাব থেকে আসা গগনদীপ সিং-কে এক মাত্র স্ট্রাইকার হিসেবে রেখে গোটা ম্যাচটা খেলিয়ে গেলেন আশিয়ান জয়ী কোচ। কিন্তু যে আশা করে গগণদীপকে সই করিয়েছে ইস্টবেঙ্গল, সেই আশা পূরণ করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ আই লিগ জয়ী তরুণ স্ট্রাইকার। একজন বক্স স্ট্রাইকারের যে যে গুণ থাকা প্রয়োজন তার কোনওটাই আজকের ম্যাচে চোখে পড়ল না গগণদীপের খেলায়।

শুধু একা গগণদীপ নয়, বিদ্যাসাগর সিং প্রথমার্ধে যে খেলাটা খেলল, তাতে মনে হতে বাধ্য এক ঝাঁক অচেনা প্লেয়ারের মধ্যে পাড়া থেকে তুলে এনে একজন শিক্ষার্থীকে লাল-হলুদ জার্সি পরিয়ে মাঠে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গোটা দলের মধ্যে না রয়েছে কোনও বোঝাপড়া, না রয়েছে বাঁধুনি। প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গল দলটাকে শুধু আলাদা করা গিয়েছিল শুধু তাদের জার্সির উজ্জ্বল লাল-হলুদ রঙ দেখেই। এছাড়া খেলার নীরিখে আলাদা করার কোনও উপায়ই ছিল না। যদিও প্রথমার্ধে একটা সহজ সুযোগ মিস করেন ডিকা। সামাদ আলির ক্রস থেকে হেড করতে ভুল করেন, লাল-হলুদের বহু যুদ্ধের নায়ক। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে তাঁরই নিশ্চিত গোলে রাখা শট দারুণ দক্ষতায় বাঁচায় কাস্টমসের গোলরক্ষক।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে আল আমনা মাঠে নামতেই বদলে গেল গোটা চিত্রটা। প্রথমার্ধের শেষ পর্যন্ত যে দলটার খেলা ছিল ভুলে ভরা সেই দলটাই আকস্মিক যেন তেল খাওয়া মেশিনের মতো দৌড়াতে লাগল। এবং তার একটাই কারণ, সেটা হল মহম্মদ আল আমনার দলে অন্তর্ভুক্তি। বিদ্যাসাগর সিং-এর পরিবর্তে আমনা মাঠে নামার পর থেকে বদলে যায় লাল-হলুদের খেলা। পরবর্তী সময়ে ইস্টবেঙ্গল আরও ক্ষুরধার হয়ে ওঠে সুরাবদ্দিন মল্লিক এবং ব্র্যান্ডন ভানলালরেমডিকা আসায়। যার ফলে ইস্টবেঙ্গলের যে খেলা দেখতে ফুটবলপ্রেমীরা অভ্যস্ত, সেই খেলাই তুলে আনে লাল-হলুদ ব্রিগেড। চুম্বকে মাঠে তখন একটাই নাম, তা হল আল আমনা। তবে, শেষ ৪৫ মিনিট ইস্টবেঙ্গল দৃষ্টি নন্দন ফুটবল খেললেও কাঙ্খিত গোল তুলে আনতে ব্যর্থ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ের অন্তিমলগ্নে ওপেন নেট পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন ব্র্যান্ডন ভানলালরেমডিকা।

এমনিতেই ছোট লিগে একটা ম্যাচে হার বা ড্র মানে লিগ খেতাব থেকে অনেকটা দূরে সরে যাওয়া। এই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় ম্যাচই ড্র করে বেশ চাপে পড়ে গেল ইস্টবেঙ্গল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পরের ম্যাচে যদি ফের জয়ের ছন্দে লাল-হলুদ ফিরতে না পারে, তাহলে কিন্তু লিগ জয়ের ট্রিপিট হ্যাটট্রিক করার লক্ষ্য থেকে যে বেশ কিছুটা দূরে চলে যাবে সুভাষের ইস্টবেঙ্গল, তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এই মুহূর্তে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে লাল-হলুদ। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান রয়েছে লিগের শীর্ষস্থানে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+