লালহলুদের জাদুকর ফুটবলার আমেদ খান প্রয়াত, স্মৃতিচারণায় ফুটবল মহল
ড্রিবলিংয়ের জাদুকর নামে খ্যাত ছিলেন বেঙ্গালুরুর এই ফুটবলার। বুটের আগের জমানার শেষ সৈনিকের প্রয়ানে শোকস্তব্ধ ফুটবল মহল।
২০১২ সালে পঞ্চ পান্ডবের শেষ পান্ডবকে জীবনকৃতি সম্মানে ভূষিত করেছিল ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। লালহলুদের ঘরের ছেলের এভাবে চলে যাওয়ায় একটা শূন্যতা যেন তৈরি হয়ে গেল। হয়ত থাকতেন না কলকাতায়। কিন্তু বেঙ্গালুরুতে দল গেলেই শরীর সুস্থ থাকলেই যোগাযোগ করতেন। পঞ্চ পান্ডবের সেরা পান্ডবের প্রয়াণে তাই স্মৃতির সারণী বেয়ে হাঁটলেন ময়দানের কর্ম কর্তা থেকে ফুটবলার সকলেই।

পি কে বন্দোপাধ্যায়
আমেদ খান সর্বকালের সেরা ফুটবলার ছিলেন। ইনসাইড ড্রিবলে বল কন্ট্রোলের অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তাঁর মধ্যে। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। শুধু সেসময়ের নয়,দীর্ঘদিন অবধি বাংলা ফুটবলের হিরো ছিলেন তিনি। যে দক্ষতায় মারাদোন-মেসি বল কন্ট্রোল করেন আমেদ খানও খালি পায়ে সেই স্তরের বল কন্ট্রোল করতেন। আমি যখন আমেদ খানের খেলা দেখেছি সেটা প্রায় তাঁর কেরিয়ারের শেষ অধ্যায়ে। তাতেই মুগ্ধ হয়ে যেতে হয়। সর্পিল গতিতে বিপক্ষের রক্ষণ চিড়ে স্লিক খেলতেন তিনি। আমেদ খান আসার পর ইস্টবেঙ্গল অনেক উন্নতি করে। তাঁর সঙ্গে খেলায় উন্নতি হয়েছিল আসাধরণ ইস্টবেঙ্গলের বল যে দক্ষতা মেসির কথা শোনাতার মত স্লিক খালিয়া পায়ে মারাদোনা। স্পিড গেতিতে চলে যেতেন। উনি স্টান্ডাড্ অন্য জায়গায় চলে গেল আপ্পারাও, ভেঙ্কটেশদের খেলাও। একাই ম্যাচের রঙ বদলে দিতেন।'

সুব্রত ভট্টাচার্য
'আমেদ দা-র সঙ্গে দেখা হয়েছে বেঙ্গালুরুর বাড়িতে। ভারতীয় ফুটবলে 'বল প্লেয়ার'- হিসবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। ইনডিভিজুয়াল ড্রিবল একা গোল করতেন। যুগান্ত সৃষ্টিকারী ফুটবলার চলে গেলেন। আমি ১৯৮৫ সালে বেঙ্গালুরুতে যখন খেলতে গিয়েছিলান তখন আমেদ দা-র সঙ্গে দেখা করেছিলাম। ছোটদের সঙ্গে অত্যন্ত স্নেহপূর্ণ ব্যবহার করতেন, আমি মোহনবাগানে খেলি শুনে বলেছিলেন খুব বড় ক্লাব। অত্যন্ত সম্মানীয় ক্লাব। ভাল করে খেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সঙ্গে কথা বলেছেন ছোটেদের স্নেহ করেন ব্যবহারও খুব ভাল ছিল। সিনিয়রদের কাছ থেকে যা শুনেছি তা যদি চিত্রায়িত করি তাহলে পুসকাসের মত বড় ফুটবলার নিঃসন্দেহে বলা যায়। '

শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত
'পঞ্চ পান্ডেবর শেষ জন ছিলেন এই আমেদ খান। ভারতের ফুটবলের অন্যমাত্রা যোগ করেছিলেন তিনি। খালি পায়ে ফুটবল খেলতেন কিন্তু বুট পড়া প্লেয়ারদের স্কিল, স্ট্যামিনা হার মেনে যেত। অনেকটা অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন তিনি। ওনার সময়ে বুলগেরি, রাশিয়ায় খেলতে গিয়েছিল দল। ওনার স্কিলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিল ওখানকার সংবাদ মাধ্যম। ওনার খেলা যাটের দশকের শেষের দিকের একটা ম্যাচ আবছা মনে পড়ে। একক দক্ষতায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়ে ছেলেখেলা করেছিলেন তিনি। খেলাটা সহজাত ছিল ওনার মধ্যে। সে সময় খোলা মাঠে খেলা হত, খেলতে খেলতে উনি সাইড লাইনে দাঁড়ানো বাদামওয়ালার থেকে বাদম নিয়ে খেতে খেতে আবার খেলায় ঢুকে যেতেন। মনোসংযোগেও কোনও বাধা হত না। এখনকার দিনের কারোর সঙ্গে তুলনা করাও সম্ভব নয়।'

মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য
'আমেদ খানে অনেক কথা শুনেছি। দু একবার দেখা হয়েছে। নিঃসন্দেহে পঞ্চ পান্ডবের সেরা পান্ডব ছিলেন।ওনার খেলা দেখার আমার সৌভাগ্য হয়নি। আমরা যখন ইস্টবেঙ্গল দলের হয়ে বেঙ্গালুরুতে খেলতে যেতাম উনি সুস্থ থাকলে মাঠে খেলা দেখতে আসতেন। হোটেলেও আসতেন গল্প করতে। ক্লাবের বিষয়ে সব কথা জানতে চাইতেন। আসলে কলকাতা ফুটবল ছাড়ার পর উনি পাকাপাকি ভাবে বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা হয়ে গিয়েছিলেন। আমার মনে হয় যতদিন ইস্টবেঙ্গল ক্লাব থাকবে ততদিন আমেদ খানও থাকবেন।'

মেহতাব হোসেন
'দীর্ঘদিন ধরেই ভুলে যাওয়ার মত মারাত্মক অসুখে আক্রান্ত ছিলেন আমেদ খান। আমি গতবছর একবারই ওনার সঙ্গে দেখা করেছি। ওনার ছেলে বলেছিলেন ইল্টবেঙ্গল বললেই ওনার স্মৃতি সজীব হয়ে যেত। বলতেন ইস্টবেঙ্গলই ওনার জীবনের মসজিদ। যখন জানাই আমি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে খেলি, তখন খুবই খুশি হয়েছিলেন তিনি। আজ উনি নেই, নিশ্চয় ফুটবল জগতে খুবই দুঃখের ঘটনা। ওনার আত্মা যেন শান্তি পায়। '












Click it and Unblock the Notifications