পাঁচ গোলের ম্যাচের অন্যতম নায়কের প্রয়াণে শোকবিহ্বল ইস্টবেঙ্গল
পাঁচ গোলের ম্যাচের অন্যতম নায়কের প্রয়াণে শোকবিহ্বল ইস্টবেঙ্গল
ভারতীয় ফুটবলে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে সুভাষ ভৌমিক বিদায় নিয়েছেন এক মাসও হয়নি। তারই মধ্যে আবারও অন্ধকার নেমে এল এই দেশের ফুটবলে, প্রয়াত হলেন অতীত দিনের দিকপাল ফুটবলার সুরজিৎ সেনগুপ্ত। মৃত্যু কালে তাঁর বয়স হয়েছিল একাত্তর বছর। রেখে গেলেন স্ত্রী ও একমাত্র ছেলে স্নিগ্ধদেবকে।

বৃহস্পতিবার ইএম বাইপাস সংলগ্ন এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই তারকা ফুটবলার। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। ভারতীয় ফুটবল যে সকল দিকপাল ফুটবলারদের জন্ম দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম সুরজিৎ সেনগুপ্ত এই উইঙ্গার/ফরওয়ার্ড নিজের সময়ে কলকাতার তিন প্রধান ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান এবং মহমেডানে দাপিয়ে খেলার পাশাপাশি ভারতীয় দলের জার্সিতে অসংখ্য ম্যাচ খেলেছেন।
প্রাক্তন অধিনায়কের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ইস্টবেঙ্গল তাঁবু। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান এবং শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হয়। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পতাকা এ দিন অর্ধনমিত রাখা হয়।
সুরজিৎ সেনগুপ্তর মৃত্যর খবর আসার পরেই অনুশীলন রত ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের হকি খেলোয়াড়রা নীরবতা পালন করেন। সাথে সাথে ইস্টবেঙ্গল ফুটবল স্কুলের শিক্ষার্থী এবং কোচেরা ও কিংবদন্তির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন এবং নীরবতা পালন করেন।
১৯৭৪ সালে মোহনবাগান থেকে ইস্টবেঙ্গলে সই করেন সুরজিৎ সেনগুপ্ত। ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৯ পর্যন্ত লাগাতার ছয় বছর লাল-হলুদের জার্সিতে ভারতীয় ফুটবল দাপিয়ে বেড়িয়েছেন এই উইঙ্গার। ১৯৭৮ সালে ইস্টবেঙ্গল দলের অধিনায়কও ছিলেন সুরজিৎ।
শুধু ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা নন, আপমর ক্রীড়াপ্রেমী সুরজিৎ সেনগুপ্তর পায়ের জাদুতে মোহিত হয়ে পড়েছেন সাতের দশকে। আটাত্তর সালে তাঁর অধিনায়কত্বে ইস্টবেঙ্গল যুগ্মভাবে ফেডারেশন কাপ জয় করেছে। এছাড়া সেবার ইস্টবেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ডুরান্ড কাপ এবং বরদলুই ট্রফিতে। ১৯৭৫-এর আইএফএ শিল্ড ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল ৫-০ গোলে হারিয়েছিল মোহনবাগানকে। পাঁচ গোলের ম্যাচে সুরজিৎ করেছিলেন একটি গোল। বরদলুই ট্রফিতে বিদেশি দল পোর্ট অথরিটির বিরুদ্ধে সুরজিৎ সেনগুপ্তর খেলা আজও সবার মুখে মুখে। বিদেশি দলের বিপক্ষে সুরজিৎ ইস্টবেঙ্গলকে চ্যাম্পিয়ন করতে নিজে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থ ফুটবলারদের দিয়ে গোল করিয়েছিলেন।
শুধু লাল-হলুদ জার্সি গায়ে নয়, সন্তোষ ট্রফিতে বাংলাকে বেশ কয়েকবার চ্যাম্পিয়ন করতে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। এমনকি ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে এশিয়ান গেমসে প্রতিনিধিত্ব করার কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর।
Recommended Video
শুধু ফুটবলার হিসেবে নন, একজন তবলা বাদক হিসেবেও তাঁর খ্যাতি ছিল। বিখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সুচিত্রা মিত্রের সঙ্গে বেশ কয়েকবার তবলা সঙ্গত করেছেন। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পদ্মশ্রী কিংবা অর্জুন পুরস্কার পাননি শিল্পী ফুটবলার সুরজিৎ। সে ভাবে স্বীকৃতি না পেলেও বাংলা তথা ভারতীয় ফুটবলে তাঁর অবদান কখনও ভোলার নয়। শিল্পী ফুটবলার হিসেবে সে ভাবে স্বীকৃতি না পেলেও ইস্টবেঙ্গল ক্লাব তাঁকে ২০১৮ সালে জীবন কৃতি সম্মানে সম্মানিত করেছিল। তাঁর মৃত্যু তে বাংলা তথা ভারতীয় ফুটবলে এক যুগের অবসান হল।












Click it and Unblock the Notifications