Durand Cup 2023 Final: ইস্ট-মোহন ডুরান্ড কাপ ফাইনালে সাফল্যের অস্ত্র কী? কাদের এগিয়ে রাখলেন বিশেষজ্ঞরা?
Durand Cup 2023 Final: ডুরান্ড কাপ ফাইনালে কাল বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ইমামি ইস্টবেঙ্গল মুখোমুখি হচ্ছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের। গ্রুপ পর্বের কলকাতা ডার্বিতে ডুবেছিল পালতোলা নৌকা, জ্বলেছিল লাল হলুদ মশাল।
ইমামি ইস্টবেঙ্গল এবারের ডুরান্ড কাপে অপরাজেয়। মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কাছে এই ফাইনাল প্রতিশোধের ম্যাচ। যে দলই কাল জিতবে একে অপরকে ছাপিয়ে যাবে। দুই দলই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ১৬ বার করে।

১৯ বছর আগের ডুরান্ড কাপ ফাইনালে মোহনবাগানকে হারিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। দীপেন্দু বিশ্বাস বললেন, ভালো ম্যাচ হবে। মানসিকতার ম্যাচ, যারা ভালো খেলবে তারাই জিতবে। দুই দলই ছন্দে। বড় ম্যাচের প্রেডিকশন হয় না। লাল হলুদ ছন্দে, সবুজ মেরুনও ভালো খেলতে শুরু করেছে। কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে দুটি ভালো টিমকে হারিয়েছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট।
কোন ফুটবলারদের উপর নজর রাখতে হবে সেই প্রশ্নের উত্তরে দীপেন্দু বললেন, মোহনবাগানে কাকে ছেড়ে কার কথা বলব। ইস্টবেঙ্গলের নতুন প্লেয়াররা, বিদেশিরাও ভালো। নন্দকুমার, মহেশ, শৌভিকরা ভালো খেলছেন। আগের ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গল ভালো কাউন্টার অ্যাটাকে গিয়েছে। মহেশ ও নন্দ ভালো খেলেছেন। রেফারিং নিয়ে চর্চা চাপ তৈরির খেলা বলেই মনে করেন দীপেন্দু।
সৈয়দ রহিম নবি বললেন, যা টিকিটের চাহিদা, উন্মাদনা তাতে কে বলেছে ডার্বির সেই মজা নেই? আমারই তো নেমে পড়তে ইচ্ছে করছে। মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট তুলনামূলক ভালো দল। তবে এই ম্যাচ সব সমই ৫০-৫০ থাকে। আবেগ নিয়ে যারা খেলবে তাদের সাফল্যের সম্ভাবনা বেশি থাকে। ইমামি ইস্টবেঙ্গল ২ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৮ মিনিটে গোল করে ম্যাচ বের করেছে।

মোহনবাগান সুপার জায়ান্টও ১ গোলে পিছিয়ে থাকার পর সমতা ফিরিয়েছে এবং তারপর এগিয়ে নিয়ে সেই লিজ ধরে রেখে জিতেছে। নবির কথায়, যথেষ্ট ভালো খেলছিল এসি গোয়া। দুই দলই ভালো লড়াই করে এই জায়গায়। পেনাল্টি নিয়ে প্রশ্ন থেকেছে। সেটা রেফারির ব্যাপার। কিন্তু আবার বড় ম্যাচ ফাইনালে।
সাদিকু, নন্দকুমারদের খেলার প্রশংসা করে নবি বললেন, কার্লেস কুয়াদ্রাত যেন সুভাষ ভৌমিক, সুব্রত ভট্টাচার্যদের মনে করাচ্ছেন। অল্প সময়ে যেভাবে দলটা সাজিয়েছেন তাতে কুর্নিশ জানাতেই হয়।
বিদেশ বসু বলেন, ইমামি ইস্টবেঙ্গল আগের ম্যাচে ভালো খেলেছে। আমি ফাইনালে কাউকে এগিয়ে রাখছি না। দুই দলেই এমন ফুটবলাররা আছেন যাঁরা ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ফারাক গড়ে দিতে পারেন। চাইব দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিক। এই ধরনের ম্যাচে যারা চান্স কাজে লাগাতে পারবে তারাই ভালো করব। তবে দুই দলেই বাঙালি বা ভারতীয় ফুটবলার তেমন কোথায়?
বিদেশের কথায়, আমাদের সময় বাঙালি তথা ভারতীয় ফুটবলাররা খেলতেন। তাঁরা এই ম্যাচের আবেগ বুঝতেন। বাড়ির লোক, আত্মীয়-বন্ধুদের কাছে এই ম্যাচ প্রেস্টিজেরও। ফলে বাঙালি তথা ভারতীয়রা এই ম্যাচের আবেগ বুঝবেন। দর্শকরা এখন ফুটবলারদের থেকে বেশি আবেগাপ্লুত থাকেন। ফল যাই হোক অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি যেন না হয়। রাস্তাঘাটে অশালীন কথাবার্তা বন্ধ হলেও ভালো হয়।
সেই আবেগের কথা উঠে এলো সুব্রত ভট্টাচার্যের কথাতেও। তিনি বলেন, ডার্বি ঘিরে মানুষ কতটা আকৃষ্ট হচ্ছেন? প্রতিদ্বন্দ্বিতা কোথায়? চেহারা ভালো বিদেশিদের ফুটবল নেই, ধাক্কাধাক্কিতে ভালো। এতে আকর্ষণ বাড়ে না। চুনী গোস্বামী, সুরজিৎ সেনগুপ্তদের মতো ফুটবলার কোথায়? আমি বিদেশি নিয়ে চলিনি। আমার কাছে চিমা-এমেকারা বেশি হেরেছেন।
বাংলা থেকে প্রতিভা তুলে আনলে তবেই ভারতীয় ফুটবলের অগ্রগতি হবে বলে উপলব্ধি ময়দানের বাবলুর। তিনি বলেন, যে ভালো খেলবে সেই জিতবে। হেভিওয়েট বলে কিছু হয় না। আমরাও ১৯৭৭ সালে হেভিওয়েট ছিলাম, দু গোলে হেরেওছিলাম। ফাইনালে এই ম্যাচের গুরুত্ব বুঝিয়ে কর্মকর্তারা টিমকে কতটা তাতাতে পারবেন তার উপর অনেক কিছু নির্ভরশীল বলে মন্তব্য বিদেশ বসুরও।












Click it and Unblock the Notifications