ফিরে দেখা! আজকের দিনেই ঠিক ১৯ বছর আগে ঐতিহাসিক আশিয়ান জেতে ইস্টবেঙ্গল
ফিরে দেখা! আজকের দিনেই ঠিক ১৯ বছর আগে ঐতিহাসিক আশিয়ান জেতে ইস্টবেঙ্গল
ঠিক ১৯ বছর আগে আজকের দিনেই আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতীয় ক্লাব ফুটবলকে অন্য স্তরে পৌঁছে দিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল, চ্যাম্পিয়নের শিরোপা অর্জন করে আশিয়ান কাপকে সুদূর ইন্দোনেশিয়া থেকে ভারতের মাটিতে নিয়ে এসেছিল মশালবাহিনী। তারিখটা ২০০৩ সালে ২৬ জুলাই, অগুণিত ইস্টবেঙ্গল সমর্থকের মতো ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে চির উজ্জ্বল লাল-হলুদ জার্সিধারীদের অপেক্ষা প্রহর গুণছে গোটা দেশের ফুটবল মহল। উৎকন্ঠার অবসান ঘটিয়ে সেরার সেরা হয়ে ভারতীয় ফুটবলের মুখ বিশ্ব দরবারে উজ্জ্বল করে লাল-হলুদ।

আশিয়ান কাপে ইস্টবেঙ্গলের যাত্রা:
আমন্ত্রিত দল হিসেবে হাইপ্রোফাইল এই প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। গ্রুপ 'ডি'-তে ছিল ইস্টবেঙ্গল। ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গেই এই গ্রুপে ছিল থাইল্যান্ডের হাইপ্রোফাইল দল বেক তেরো সাসানা যা বর্তমানে পরিচিত পুলিশ তেরো সাসানা এবং ফিলিপাইন্স আর্মি। গ্রুপের ম্যাচে বেক তেরো সাসানার বিরুদ্ধে ১-০ গোলে হারে ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয় ম্যাচে ফিলিপাইন্স আর্মিকে ৬ গোলে হারিয়ে লাল-হলুদ পৌঁছয় কোয়ার্টার ফাইনালে। ইন্দোনেশিয়ার দল পার্সিতা তাঞ্জেরাংকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় ভারতীয় দলটি। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে গোল দু'টি করেন বাইচুং ভুটিয়া এবং বিজেন সিং। সেমিফাইনালে লেসলি ক্লডিয়াস সরণির ক্লাব মুখোমুখি হয়েছিল ইন্দোনেশিয়ার অপর দল পেত্রোকিমিয়া পুত্রার বিরুদ্ধে। নির্ধারিত সময়ে খেলার ফল ছিল ১-১। প্রথম গোল হজম করা ইস্টবেঙ্গলকে ৫৩ মিনিটে সমতায় ফেরান বাইচুং। টাইব্রেকারেও খেলার ফল নির্ধারন না হলে ম্যাচ গড়ায়সাডেন ডেথে। ম্যাচটি সাডেন ডেথে ৭-৬ ব্যবধানে জিতে ইস্টবেঙ্গল ফাইনালে স্থান করে নেয়।

এশিয়ার হাইপ্রোফাইল দলগুলি নিয়ে আয়োজিত হয়েছিল আশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ:
এশিয়ার অন্যতম হাইপ্রোফাইল দলগুলিকে নিয়ে এই আশিয়ান আয়োজিত হয়েছিল। লিগা ইন্দোনেশিয়ার চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্স দল পেত্রোকিমা পুত্রা এবং পার্সিতা তাঞ্জেরাং, কম্বোডিয়ান লিগ জয়ী সামার্ট ইউনাইটেড, মায়ানমার প্রিমিয়ার লিগ জয়ী ফিন্যান্স অ্যান্ড রেভিনিউ, মালয়েশিয়ান প্রিমিয়ার ১ লিগ জয়ী পেরাক, সিঙ্গাপুর লিগ চ্যাম্পিয়ন সিঙ্গাপুর আর্মড ফোর্স, ব্রুণেই প্রিমিয়ার লিগ জয়ী ডিপিএমএম এফসি, ভিয়েতনাম লিগ জয়ী হোয়াং আন গিয়া লাই, লাও লিগ জয়ী এমসিটিপিসি, থাই লিগ জয়ী বেক তেরো সাসানা, ফিলিপাইন্স ন্যাশনাল ফুটবল লিগ জয়ী ফিলিপাইন্স আর্মি এবং জাতীয় লিগ জয়ী ইস্টবেঙ্গল ক্লাব আমন্ত্রিত হয়ে এই প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ফিরে দেখা ঐতিহাসিক ফাইনাল:
আজকের দিনে অর্থাৎ ২০০৩ সালের ২৬ জুলাই জাকার্তার গিলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে আশিয়ান কাপের ফাইনাল আয়োজিত হয়েছিল। ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রতিপক্ষ ছিল থাইল্যান্ডের চ্যাম্পিয়ন দল বেক তেরো সাসানা। এই বেক তেরো সাসানা এবং ইস্টবেঙ্গল একই গ্রুপে ছিল এবং প্রথম ম্যাচেই হাইপ্রোফাইল থাই দলের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে হারতে হয়েছিল ইস্টবেঙ্গলকে। অতীতের স্মৃতি মাথায় থাকলেও ফাইনালে দাপটের সঙ্গে শুরু করে ইস্টবেঙ্গল। মাইক ওকোরোর গোলে প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে মাঠ ছাড়ে ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হওয়ার সঙ্গেই আরও একটি গোল তুলে নেয় লাল-হলুদ। বেক তেরো সাসানা আক্রমণাত্মক ভাবে ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরু করলে প্রতি আক্রমণে উঠে আসার সুযোগ পায় ইস্টবেঙ্গল। ৫২ মিনিটে বাইচুং ভুটিয়ার গোলে ব্যবধান ২-০ করে ইস্টবেঙ্গল। এই গোলের দুই মিনিটের মধ্যে বেক তেরো সাসানার হয়ে একটি গোল ফিরিয়ে দেন পানাই কংপ্রাপুন। ম্যাচে ৭৮ মিনিটে থাই দলের কফিনে শেষ পেরেক পুতে ইস্টবেঙ্গলের ঐতিহাসিক আশিয়ান কাপে জয় নিশ্চিত করেন আলভিটো ডি'কুনহা।

আশিয়ান কাপ ২০০৩-এর ফাইনালে খেলা ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশ:
লাল-হলুদ কোচ সুভাষ ভৌমিক বেক তেরো সাসানার বিরুদ্ধে ৩-৫-২ ফর্মেশনে দল নামিয়েছিলেন। ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশে সেই দিন ছিল এ রকম:
সন্দীপ নন্দী (গোলরক্ষক), সুরকুমার সিং, এম সুরেশ, দীপক মণ্ডল (মালসাওমতুলুঙ্গা), সুলে মুসা (অধিনায়ক), ষষ্ঠী দুলে, বিজেন সিং, ডগলাস ডি'সিলভা, অ্যালভিটো ডি'কুনহা, বাইচুং ভুটিয়া, মাইক ওকোরো

সর্বোচ্চ গোলদাতা বাইচুং, সেরা গোলরক্ষক সন্দীপ:
৮টি গোল করে আশিয়ান কাপ ২০০৩-এর সর্বোচ্চ গোলদাতার শিরোপা জিতেছিলেন দেশের ফুটবল আইকন বাইচুং ভুটিয়া। ফাইনালে ম্যাচের সেরাও হয়েছিলেন পাহাড়ি বিছে। এশিয়া ফুটবলের অন্যতম সেরা ক্লাব ফুটবলের এই ইভেন্টে সেরা গোলরক্ষকের সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন সন্দীপ নন্দী।
-
আরও একটি সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন, আর কত নাম নিষ্পত্তি হওয়া বাকি? -
বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী -
ভোটের আগেই কমিশনের কড়া নির্দেশ! অনুমতি ছাড়া জমায়েত নয়, নিয়ম ভাঙলেই গ্রেফতার, রাজ্যজুড়ে জারি কঠোর নির্দেশ -
দাগি নেতাদের নিরাপত্তা কাটছাঁট কতটা মানল পুলিশ? স্টেটাস রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন -
যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই বড় রদবদল! মার্কিন সেনা প্রধানকে সরাল ট্রাম্প প্রশাসন, কারণ কী, জল্পনা তুঙ্গে -
আরও একটি মার্কিন F-35 যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের, কী বলছে আমেরিকা? -
এপ্রিলে শক্তিশালী ত্রিগ্রহী যোগ, শনি-সূর্য-মঙ্গলের বিরল মিলনে কাদের থাকতে হবে সতর্ক? -
এপ্রিলেই বাড়ছে গরমের দাপট! আগামী সপ্তাহেই ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার আশঙ্কা, কী জানাচ্ছে হাওয়া অফিস -
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব! শিল্পে ধাক্কা, একলাফে বাড়ল ডিজেলের দাম, কত হল? জানুন -
পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ভোটের আগে তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট নেতাকে ইডির তলব -
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ! MRI Scan-এর খরচ আকাশছোঁয়া হতে পারে, বিপাকে পড়তে পারেন রোগীরা -
অমিত শাহের রাজ্যে থাকার ঘোষণায় তীব্র কটাক্ষ মমতার, বললেন, যত বেশি থাকবে, তত ভোট কমবে












Click it and Unblock the Notifications