মেসির প্রশংসা করার শব্দ খুঁজে পাচ্ছেন না স্কালোনি, জানালেন কাতারে আর্জেন্টিনার টার্নিং পয়েন্ট
মেসির প্রশংসা করার শব্দ খুঁজে পাচ্ছেন না স্কালোনি, জানালেন কাতারে আর্জেন্টিনার টার্নিং পয়েন্ট
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অবাক হার দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে সমর্থকদের হতাশ করেছিল আর্জেন্টনা। অনেকেই পঁচা শামুকে পা কাটাকে ভাল ভাবে নেননি।

কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই পরাজিত হয় আর্জেন্টিনা:
দুর্বল সৌদির বিরুদ্ধে হারে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ভাগ্য নিয়ে উঠে গিয়েছিল প্রশ্ন। কিন্তু সেই দলটাই আজ পৌঁছে গিয়েছে বিশ্বকাপের ফাইনালে। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছেন, আরবের দেশটির বিরুদ্ধে হারই বিশ্বকাপে তাঁদের কাছে টার্নিং পয়েন্ট। ওই হার ড্রেসিং রুমকে বদলে দিয়েছে। এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার তিনটি গোল অফসাইডের কারণে রেফারি বাতিল করে দিয়েছিলেন। একমাত্র গোলটি পেনাল্টি থেকে করেছিলেন লিওনেল মেসি।

সমর্থকদের ভালবাসায় আপ্লুত স্কালোনি:
ক্রোয়েশিয়া ৩-০ গোলে পরাজিত করে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্থান করে নেওয়ার পর আর্জেন্টিনার কোচ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, "সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আমরা পরাজিত হওয়ার পর আমরা সমর্থকদের ভালবাসা এবং সমর্থন অনুভব করতে পারি। অসাধারণ সমর্থন করেছে ওরা। ওরাই আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি এবং উর্জা দিয়েছে। আমি আবেগে ভেসে যেতে চাই না। কারণ এটা কঠিন কারণ যে কোনও আর্জেন্টাইনের জন্য স্বপ্নের জায়গা রয়েছি আমি। নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করাটা আবেগের বিষয়। আপনি জিততেও পারেন বা হারতেও পারেন। সবটাই আমাদের দেশবাসী, সমর্থক বা এই ফুটবলারদের জন্য। হারের পরেও তাঁরা আমাদের সঙ্গে ছিলেন এবং আগে এটা কখনও এই অভিজ্ঞতা আমার হয়নি।"

আমরা ভাগ্যবান মেসি আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলেন:
২২ নভেম্বর কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার পরাজয় তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম অপ্রত্যাশিত ফলাফল। কিন্তু ৩৫ বছর বয়সী লিওনেল মেসির কাঁধের উপর ভর করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে আর্জেন্টিনা। শেষ বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসি পা রেখেছেন কাতারে। এটি আর্জেন্টিনার অধিনায়কের পঞ্চম বিশ্বকাপ। কাতারে তাঁর দলের করা ১২টি গোলের মধ্যে ৮টিতেই অবদান রয়েছে মেসির। নিজে পাঁচটি গোল করেছেন এবং তিনটি করিয়েছেন। স্কালোনি জানিয়েছেন তাঁর মনে কোনও সংশয় নেই যে লিওনেল মেসি সর্বকালের সেরা ফুটবলার। তিনি বলেছেন, "আমার জন্য ওকে দলের মধ্যে থেকে খেলতে দেখাটা মনে রাখার মতো এবং উত্তেজনাপূর্ণ এক বিষয়। ওকে অনুশীলন করতে দেখা, ড্রেসিং রুমকে নেতৃত্ব দিতে দেখা, প্রতি বার যখনই ওকে দেখি তখনই লক্ষ্য করি সতীর্থের মধ্যে, মানুষের মধ্যে কিছু করে দেখানোর আগুন জ্বালিয়ে দেয় ও। শুধু আর্জেন্টাইদের জন্যই নয়, আমরাও ভাগ্যবান যে ও আমাদের জার্সি পরে খেলে।"

দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটাতে প্রয়োজন মাত্র একটি জয়:
আর্জেন্টিনা এবং বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ জয়ের মধ্যে শুধু একটি জয়ের ব্যবধান। আর্জেন্টিনা ফিফা বিশ্বকাপ ২০২২-এর ফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্সের। এই ম্যাচে আর্জেন্টাই দল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারাতে পারলেই ১৯৮৬ সালে পর আবারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবে। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচ কঠিন হলেও আর্জেন্টিনার জার্সি পরে মাঠে নামা যোদ্ধারা তৈরি নিজেদের উজাড় করে মেসির শেষ বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতে।












Click it and Unblock the Notifications