দার্জিলিং আজ 'বিশ্বকাপের শহর'! বিচ্ছিন্নতাবাদের নয়
ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে দারুন উন্মাদনা দার্জিলিং-এ। বিশ্বকাপের হাত ধরে শহরের বদনাম ঘোচাতে চান বাসিন্দারা।
ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে অভূতপূর্ব মাতামাতি দেখা যাচ্ছে দার্জিলিং-এ। এ শহরকে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের শহর হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁরা বলছেন কয়েকমাস আগের লাগাতার বনধ ও সংঘর্ষে দেশ বিদেশে দার্জিলিং নিয়ে খারাপ ধারণা তৈরি হয়েছে। সেই কলঙ্ক মুছে ফুটবলের মাধ্যমে শান্তির বার্তা দিতে চাইছেন তাঁরা।

এমনিতেই দার্জিলিং শহর ফুটবল প্রিয়। ভারতের আইএসএল-আই লিগ হোক বা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ-স্প্যানিশ লিগ - ফুটবল দার্জিলিং-এর পাহাড়বাসীকে বরাবরই টানে। ফুটবলের তথা ক্রিড়া জগতের সবচেয়ে বড় উৎসব বিশ্বকাপকে ঘিরেও প্রত্যেকবারই উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু এবার যেন উন্মাদনার মাত্রাটা সব সীমা ছাপিয়ে গিয়েছে। দার্জিলিং-কে দেখলে মনে হচ্ছে এ শহরেই বোধহয় বিশ্বকাপ আয়োজন হচ্ছে।
শহরের প্রায় প্রতিটি অংশ, ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৩২ টি দেশের পতাকার রঙে সাজানো হয়েছে। রাস্তায় বেরোলে বিভিন্ন দলের পতাকা, জার্সি চোখে পড়ছে। এই ফুটবল কার্ণিভালের মূল উদ্যোগ নিয়েছে দার্জিলিংয়ের বিখ্যাত সেন্ট জোসেফ এবং নর্থ পয়েন্ট স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং কয়েকটি এনজিও।
দার্জিলিংয়ের নর্থ পয়েন্ট স্কুল অ্যালামনি অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএনপিএসএ) সভাপতি দেবেন গুরুং জানান, এই উন্মাদনার শুরু হয়েছে গত শনিবার। ওইদিন বিশাল সংখ্যায় দার্জিলিংবাসী তাঁদের প্রিয়দলের পতাকা, জার্সি নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন। দেবেন বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য হল দার্জিলিংকে বিশ্বকাপের শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। একই সঙ্গে, আমরা জনগণের কাছে একটি বার্তা দিতে চাই, আজকের দার্জিলিং একেবারে শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক। "

তাঁরা বলছেন কয়েক মাস আগে পর্যন্ত এশহরে যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছিল তাতে বিশ্বের বুকেই বডড় বদনাম হয়ে গেছে শহরটার। পর্যটনের টানে দার্জিলিং-এ অসংখ্য দেশী পর্যটকের পাশাপাশি বিদেশীরাও আসেন। কিন্তু একটানা বনধ ও হিংসাত্মক সংঘর্ষে গত কয়েকমাসে সেই পর্যটক স্রোতে ভাটা পড়েছে। শহরবাসী বলছেন, বাইরের লোকেরা মনে করছেন দার্জিলিং-এর সবাই বোধহয় বিচ্ছিন্নতাবাদী, সবাই বোধহয় সন্ত্রাসবাদী। এ অবস্থাটা থেকে তাঁরা বেরোতে চান। আর তাই বেছে নিয়েছেন ফুটবলকে। কারণ ফুটবলই সবাইকে এক করে।
দেবেন গুরুং আরও জানান, আগামী দিনগুলিতে তাঁদের আরও নানান ফুটবল বিষয়ক কর্মসূচি আছে। ফুটবল প্যারেড হবে, হবে চিয়ার লিডিং প্রতিযোগিতা, এইচআইভি পজিটিভ রোগীদের নিয়ে কাজ করা শঙ্কর ফাউন্ডেশনের গ্যারাজ সেল, ডান্স ফিয়েস্তা, মাউন্টেইন বাইক র্যালি, ফেস পেইন্টিং প্রতিযোগিতা, নেইল আর্ট প্রতিযোগিতা, মিউজিকাল পারফরমেন্স-এর মতো আকর্ষণীয় অনেক কিছুয তবে সবেরই মূল সুরটা থাকবে বিশ্বকাপ।

তবে শুধুই ফুটবল উন্মাদনার হাত ধরে শহরের কলঙ্ক মোচন নয়, এই মাসব্যপী ফুটবল উফসবের পিছনে আরও এক মহত উদ্দেশ্যও আছে। ডিএনপিএসএ-র সহ-সভাপতি অজয় এডওয়ার্ডস জানান, এই কর্মসূচিগুলি থেকে যে তহবিল উঠবে তা দেওয়া হবে 'ক্লিনিক অন হুইলস' প্রকল্পে। এই প্রকল্পের মারফত দূর্গম এলাকার মানুষদের চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া হয়। অজয় বলেন, 'এই হিল স্টেশনে ঐতিহ্যগতভাবেই ক্রিকেটের চেয়ে ফুটবল বেশি জনপ্রিয়। তাই, আগামী কটাদিন আমরা এভাবেই বিশ্বকাপ উদযাপন করতে চাই।'












Click it and Unblock the Notifications