দেশের হয়ে অনন্য নজির সুনীল ছেত্রীর, দরাজ সার্টিফিকেট দিলেন স্টিমাচ

আইএম বিজয়নের রেকর্ড স্পর্শ করা, লিওনেল মেসিকে টপকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পরেই উঠে আসা ছাড়াও বাংলাদেশ ম্যাচে সুনীল ছেত্রী গড়েছেন ভারতীয় ফুটবলে এক অনন্য নজির। গতকাল দোহায় বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচে জোড়া গোল করায় তিন দশকে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করলেন ভারত অধিনায়ক। যাঁর দরাজ প্রশংসা করেছেন কোচ ইগর স্টিমাচও।

নজিরবিহীন কৃতিত্ব

নজিরবিহীন কৃতিত্ব

তিন দশকেই গোল করার বিরল নজির গড়লেন সুনীল ছেত্রী। ২০০৭ সালের ১৭ অগাস্ট দিল্লির আম্বেদকর স্টেডিয়ামে নেহরু কাপে কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে দেশের হয়ে প্রথম গোল করেন তিনি। সুনীলের জোড়া গোল-সহ ওই ম্যাচে ভারত জিতেছিল ৬-০ ব্যবধানে। তারপর গত ১৪ বছরে আরও ৭২টি গোল সুনীল করেছেন ব্লু টাইগারদের জার্সিতে। গত দশকে সুনীলের প্রথম গোলটি এসেছিল ২০১০ সালের ৮ অক্টোবর। পুনেতে ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে ইন্টারন্যাশনাল ফ্রেন্ডলিতে সুনীল ছেত্রীর হ্য়াটট্রিকের সুবাদে ভারত জিতেছিল ৩-১ গোলে। গতকালের ম্যাচের আগে সুনীলের ভারতীয় দলের হয়ে শেষ গোল ছিল ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটিতে বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচে ওমানের বিরুদ্ধে। সুনীলের গোলে সেই ম্যাচে এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে ওমানের কাছে জোড়া গোল হজম করে হারতে হয়েছিল ভারতকে। সেই ম্যাচের ৬৪১ দিন পর চলতি দশকের প্রথম গোল সুনীল করলেন বাংলা টাইগারদের বিরুদ্ধে।

স্টিমাচের প্রশংসা

স্টিমাচের প্রশংসা

সুনীল ছেত্রীর খেলায় মুগ্ধ ভারতীয় দলের কোচ ইগর স্টিমাচ বলেছেন, গত বছর অবধিও অনেকেই জিজ্ঞাসা করছিলেন সুনীল কবে অবসর নেবেন? এখন আমার প্রশ্ন, সুনীল অবসর নিলে তাঁর জায়গা পূরণ করতে কে পারবেন, আমরা কী করব? কেন না, আমাদের দলের অনুশীলন থেকে ম্যাচ সবেতেই সুনীলই সকলের সেরা। তবে ভারতীয় দলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী স্টিমাচ।

আশাবাদী কোচ

আশাবাদী কোচ

ক্রোয়েশিয়ার জাতীয় দলের প্রাক্তন কোচ তথা ভারতীয় দলের কোচ স্টিমাচ বলেন, বাংলাদেশ ম্যাচে আমরা যেভাবে খেলেছি, সেই খেলাটাই সব সময় খেলা গেলে ভালো। কিন্তু তা কখনোই সম্ভব নয়। তবে আমাদের চেয়ে নীচে থাকা দলগুলির বিরুদ্ধে এভাবেই আক্রমণাত্মক খেলা প্রত্যাশিত। অ্যাটাকই সেরা ডিফেন্স। আমরা গোলের জন্য না ঝাঁপালে গোল আসত না, বাংলাদেশকেও পাল্টা আক্রমণে নিয়ে আসা যেত না। তা হয়েছে বলেই প্রথম গোলের পর দ্বিতীয় গোলটিও আমরা করতে পেরেছি। এর আগে একটিও জয় না এলেও ফুটবলারদের সব সময় বলে এসেছি, শৃঙ্খলাপরায়ণ থেকে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে। ফুটবলাররা তা মেনে চলেছেন। দলে এই বিশ্বাস রয়েছে যে, হারলে দলগতভাবেই হার মেনে নেব। সকলের মধ্যে যে শেখার আগ্রহ রয়েছে, তাতে ভারতের ফুটবল ভবিষ্যৎ যথেষ্ট উজ্জ্বল।

বিজয়নকে স্পর্শ

বিজয়নকে স্পর্শ

জোড়া গোল করে এদিন আইএম বিজয়নের রেকর্ডও স্পর্শ করলেন সুনীল। ভারতীয় দলের হয়ে ১৪ বছর খেলার ফাঁকে তিনবার বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচ খেলেছেন আইএম বিজয়ন। ১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২ সালের বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের খেলায় বিজয়নের চারটি গোল ভারতের জয় নিশ্চিত করেছিল। এই তালিকায় বিজয়নের পরেই ছিলেন সুনীল ছেত্রী। আজকের ম্যাচের আগে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের প্লে অফে সুনীল ২টি গোল করেছিলেন নেপালের বিরুদ্ধে, ভারত ২-০ গোলে ম্যাচটি জিতেছিল। এদিন বাংলাদেশ ম্যাচেও তারই পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে সুনীল ধরে ফেললেন বিজয়নকে। এ ছাড়াও দুটি করে গোল রয়েছে বিকাশ পাঁজি (১৯৮৬), জুলস আলবার্তো (২০০২) ও জো পল আনচেরি (২০০২)-র। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে ভারতের জয়ে সর্বাধিক গোলদাতার নতুন রেকর্ড গড়তে সুনীলের দরকার আর একটি গোল।

সামনে শুধু রোনাল্ডো

সামনে শুধু রোনাল্ডো

দেশের হয়ে সর্বাধিক গোলের নিরিখে সুনীল ছেত্রীর সামনে এখন শুধুই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। পর্তুগালের হয়ে রোনাল্ডো গোল করেছেন ১০৩টি। সুনীল ছেত্রী বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করায় তাঁর দেশের হয়ে করা গোলের সংখ্যা দাঁড়াল ৭৪। বর্তমান ফুটবলারদের মধ্যে তাই সুনীল রোনাল্ডোর পরেই। সর্বকালের সর্বাধিক গোলদাতাদের তালিকায় সুনীল রয়েছেন দশে। সুনীলের পিছনেই রয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর আলি মাবখৌত, দেশের হয়ে ৭৩টি গোল করেছেন তিনি। আর্জেন্তিনার হয়ে ১৪৩টি ম্যাচে ৭২টি গোল করেছেন লিওনেল মেসি। সুনীল ও মেসির জাতীয় দলের হয়ে গোলের সংখ্যা সমান ছিল। এদিন মেসি ও মাবখৌতকে টপকে গেলেন ভারত অধিনায়ক।

ছবি- এআইএফএফ

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+