ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে শ্রী সিমেন্টের সম্পর্ক ছিন্ন, বিরক্ত মমতা লাল হলুদকে চান আইএসএলে
মোহনবাগানের মতো ইস্টবেঙ্গল আইএসএল খেলুক। এই সময়ে ইস্টবেঙ্গলের পাশে থাকা উচিত সকলের। আজ নবান্নে এই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, ইস্টবেঙ্গলের লগ্নিকারী শ্রী সিমেন্টের আচরণে তিনিও বিরক্ত। সে কথা যথাযোগ্য জায়গায় তিনি জানিয়েও দেবেন।

চুক্তিপত্র নিয়ে জটিলতা
চুক্তিপত্রে সই করা নিয়ে কয়েক মাস ধরে লগ্নিকারী শ্রী সিমেন্টের সঙ্গে নানা চাপানউতোর চলছিল ইস্টবেঙ্গলের কর্তাদের। যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতাজি ইনডোরে খেলা হবে দিবস ঘোষণার দিন জানিয়েছিলেন, তাঁর কাছে খবর জটিলতা কাটিয়ে ইস্টবেঙ্গলের খেলতে অসুবিধা হবে না। যদিও এরপরও চুক্তিপত্রে বেশ কিছু শর্ত নিয়ে আপত্তি জানায় ইস্টবেঙ্গল। মধ্যস্থতাকারীদের সক্রিয়তায় কিছু শর্তে নমনীয় হয় শ্রী সিমেন্ট। তবে ক্লাবকর্তারা কোথায় কতক্ষণ বসবেন ইত্যাদি তাঁবু সংক্রান্ত বিষয়ে জটিলতা কিছুতেই কাটছিল না। ইস্টবেঙ্গল কর্তারা প্রাক্তন ফুটবলারদের নিয়ে কোর কমিটি গড়ে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হলেও তাতেও আগ্রহ দেখায়নি শ্রী সিমেন্ট।

সমর্থকরা উদ্বেগে
সমর্থকদের একাংশ দেবব্রত সরকার, কল্যাণ মজুমদারদের নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগড়ে পদত্যাগ দাবি করতে থাকে। অর্থাৎ ইস্টবেঙ্গলের সদস্য-সমর্থকদের মধ্যেও বিভাজন স্পষ্ট হতে থাকে। ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের একটাই কথা ছিল, ক্লাব খেলুক সকলেই চাই। কিন্তু ক্লাব বিক্রি করার প্রশ্ন নেই। তবুও আশা করা হচ্ছিল ১৬ অগাস্ট খেলা হবে দিবসেই হয়তো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাধ্যমে লাল হলুদে জটিলতার অবসান ঘোষণা করবেন। তা হয়নি। সংশোধিত চুক্তিপত্র আসার পরও ইস্টবেঙ্গলের কর্মসমিতি তাতে সই করতে রাজি ছিলেন না। গত শুক্রবার ইস্টবেঙ্গলের তরফে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কথা বলা হয়। মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছিলেন, শ্রী সিমেন্টের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের রাস্তা খোঁজার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে জানা যায় শ্রী সিমেন্ট ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের আচরণে বিরক্ত। তাই এই সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার দিকেই এগোচ্ছে।

নবান্নে চিঠি, ক্লাব অন্ধকারে
আজ নবান্নে চিঠি পাঠিয়ে শ্রী সিমেন্টের তরফে জানিয়ে দেয়, ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তবে স্পোর্টিং রাইটস ফেরানো নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। সূত্রের খবর, বিকেল অবধি লাল হলুদের শীর্ষ কর্তারা লগ্নিকারীদের পদক্ষেপ সম্পর্কে ধোঁয়াশায় ছিলেন। তাঁরা যা জানতে পারছিলেন তা নবান্ন থেকে। সংবাদমাধ্যমের একাংশ দাবি করে, বিনা শর্তে ইস্টবেঙ্গলের স্পোর্টিং রাইটস ফিরিয়ে দেবে শ্রী সিমেন্ট। যদিও শ্রী সিমেন্টের কর্তা হরিমোহন বাঙ্গুর তা ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। যেহেতু স্পোর্টিং রাইটস ফেরত পেলেও ৩১ অগাস্ট ট্রান্সফার ইউন্ডো শেষের আগে কেমন দল গঠন করা যাবে সেটাই প্রশ্ন। কারণ, ভালো মানের ফুটবলারও তো পড়ে নেই। অচলাবস্থা অব্যাহত থাকায় লাল হলুদ কলকাতা প্রিমিয়ার লিগে খেলতে পারবে কিনা বা পারলেও কবে তা স্পষ্ট নয়। অনেকে মধ্যস্থতাকারী শ্রেণিক শেঠের দিকেও আঙুল তুলতে শুরু করেছেন নতুন করে জটিলতা তৈরি হওয়ার জন্য।

বিরক্ত মমতার আহ্বান
চলতি মরশুমে আইএসএল খেলাও এখনও বিশ বাঁও জলে। যদি না শেষ মুহূর্তে নীতা আম্বানি এফএসডিএলের মাধ্যমে ইস্টবেঙ্গলের আইএসএলে খেলার কোনও ব্যবস্থা করে দেন। শোনা যাচ্ছে, বিনা শর্তে লাল হলুদকে শ্রী সিমেন্ট ছেড়ে দিলে আম্বানি গ্রুপও ইস্টবেঙ্গল দলকে নিতে পারে। এমনকী মার্জারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে। শ্রী সিমেন্টের পদক্ষেপ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি কে যে আমাকে এই প্রশ্ন করছেন! আমি কি ক্লাব চালাই? তবে ইস্টবেঙ্গলের মতো ঐতিহ্যশালী ক্লাবের সঙ্গে যেটা হলো সেটা খুব খারাপ। এতদিন গড়িমসির পর জানিয়ে দিল আমরা কিছু করতে পারব না! কয়েক মাস ধরে ঝুলিয়ে রাখা উচিত হয়নি। যে আচরণ করল তা খুব খারাপ। আমিও দুঃখিত, বিরক্ত। আমাকেও ওরা জানিয়েছিল, চুক্তি সংক্রান্ত সবকিছু ১৬ তারিখের মধ্যে মিটে যাবে। ওদের যা করণীয় সব করে দেবে। তা হলো না, এর পিছনে রহস্য কী? কীসের জন্য হঠাৎ করে এখন বলছে, পারব না ছেড়ে চলে যাচ্ছি। মোহনবাগান আইএসএল খেলছে। আমি চাই ইস্টবেঙ্গল, মহমেডানও খেলুক। আমরা যে বিরক্ত সেটা জানিয়ে দেব। হাতে বেশি সময় নেই। আমার মতে, এই সময় ইস্টবেঙ্গলের পাশে থাকার জন্য সকলের এগিয়ে আসা উচিত।












Click it and Unblock the Notifications