আইএসএলে ইস্টবেঙ্গলকে পাঠিয়ে 'চিংড়ি' খাবেন মুখ্যমন্ত্রী! মমতার হস্তক্ষেপেই কাটল চুক্তি-জট
জল্পনা, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠার অবসান। আইএসএলে এবারও খেলবে এসসি ইস্টবেঙ্গল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপেই কাটল ক্লাবের সঙ্গে লগ্নিকারী শ্রী সিমেন্টের চুক্তি সংক্রান্ত যাবতীয় জটিলতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন নবান্নে দুই পক্ষকে নিয়েই বৈঠকে বসেছিলেন, জটিলতা কাটার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজ আমি বাড়ি গিয়ে চিংড়ির মালাইকারি খাব। মোহনবাগান জিতলে তো ইলিশ মাছ পাঠায়! তখন সকলে মুখ্যমন্ত্রীকে ভুল শুধরে দেন। বলেন, ইস্টবেঙ্গল জিতলে ইলিশ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এরপর বলেন, বাংলায় এখন অনেক ইলিশ। ইলিশের স্বর্ণঝঙ্কার। চকচক করছে সিলভার। খেলা হচ্ছে সেটাই আসল ব্যাপার।

মমতা-ম্যাজিকেই সমাধান
ইস্টবেঙ্গল ও শ্রী সিমেন্ট কর্তাদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন নবান্ন সভাঘরে বৈঠকে বসেন। শ্রী সিমেন্টের তরফে বৈঠকে ছিলেন কোম্পানি সেক্রেটারি এস এস খাণ্ডেলওয়াল, চিফ ফিনান্স অফিসার এস জাজু ও সিনিয়র ম্যানেজার সন্দীপ কুমার। যদিও কলকাতায় থাকলেও আসেননি কর্ণধার হরিমোহন বাঙ্গুর। ইস্টবেঙ্গলের তরফে ছিলেন সদানন্দ মুখোপাধ্যায়, দেবব্রত সরকার ও অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়। ২ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের মধ্যেই শ্রী সিমেন্ট জানিয়ে দেয় এ বছর এসসি ইস্টবেঙ্গল আইএসএলে খেলবে। শ্রী সিমেন্টের প্রতিনিধি বলেন, আমরাও চাই খেলা হোক। টার্মশিটে স্বাক্ষর হলেও গত এক বছর ধরে চেষ্টা চালিয়েও চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করা গেল না। তবে আপনি যেহেতু অনুরোধ করেছিলেন, তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই বছর আইএসএল খেলার ব্যাপারে।

কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
এদিন বৈঠকের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মোহনবাগান আইএসএলে খেলছে। ইস্টবেঙ্গলও গত বছর আইএসএলে খেলেছে শ্রী সিমেন্টের উদ্যোগে। এ বছর একটা অনিশ্চয়তা ছিল যে খেলতে পারবে কিনা। আমিও হস্টাইল হয়ে গিয়েছিলাম। পরে শ্রী সিমেন্টকে রিকোয়েস্ট করি। বলেছিলাম, লাস্ট মোমেন্টে খেলা বন্ধ হলে কোটি কোটি দর্শক কোথায় যাবেন? আমরা তো চাই ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান আইএসএল খেলুক, পরে মহমেডানও খেলুক। কারণ এই দলগুলির ব্র্যান্ড ভ্যালু রয়েছে সারা পৃথিবীজুড়ে। শ্রী সিমেন্ট খেলার আশ্বাস দিতেই মুখ্যমন্ত্রী শ্রী সিমেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, খেলা হবে। ইস্টবেঙ্গল খেলবে। আপনাদের ধন্যবাদ শেষ মুহূর্তে আপনারা আমাদের রিকোয়েস্ট মেনে নেওয়ায়। অন্য কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় এখন নেই। পরে সেগুলি নিয়ে আলোচনা হতেই পারে। খেলাই প্রথম প্রাধান্যের বিষয়। টাইম এখন ভেরি শর্ট। খেলতে হবে। ইস্টবেঙ্গলের প্রবলেম তাহলে সলভড হয়ে গেল। শ্রী সিমেন্ট বাংলায় সিমেন্ট শিল্পে বিনিয়োগ করছে। সব ভালো যার শেষ ভালো। আমরা জিতছি। খেলা জিতবে। খেলাই জিতবে। যে ভালো খেলবে সে-ই জিতবে।

মমতার নির্দেশেই খেলা হবে
ফলে একটা বিষয় পরিষ্কার, যে শর্তে চুক্তি-জট আটকে সেই শর্তগুলি নিয়ে কোনও সমাধানের রাস্তা এখনও বেরোয়নি। মুখ্যমন্ত্রী খেলার জন্য নির্দেশ দিতেই শ্রী সিমেন্ট নমনীয় হয়েছে, স্বস্তির নিঃশ্বাস পেয়েছে ইস্টবেঙ্গল। শ্রী সিমেন্টের প্রতিনিধির কথায় তাই 'এই বছর' শব্দ দুটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। দেবব্রত সরকারও পরে বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এবং তরুণ ঝুনঝুনওয়ালা-সহ রিলায়েন্স কর্তাদের কথাতেই ইস্টবেঙ্গল আইএসএল খেলতে পারছে। শ্রী সিমেন্টের সঙ্গে যে শর্তগুলি নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিল, সেগুলি যে সমাধান হয়নি সেটাও পরিষ্কার মুখ্যমন্ত্রী বা দেবব্রত সরকারের কথায়। শ্রী সিমেন্টের কর্তারা কিছু বলতে চাননি। দেবব্রত সরকার নবান্ন সভাঘরে বলেন, ইস্টবেঙ্গল-সহ ময়দানের সকলের পাশে সব সময় থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। ময়দান, স্পোর্টসের সঙ্গে থাকেন। দিদির জন্যই আমাদের ক্লাবে ফ্লাডলাইট-সহ অনেক কিছু হয়েছে। তাঁর জন্যই গতবারও আমরা আইএসএল খেলেছিলাম। এবারও যে পরিস্থিতি ছিল সেখান থেকে দিদি উতরে দিলেন। শ্রী সিমেন্টকেও অজস্র ধন্যবাদ। খেলা হবে শব্দটা খুব ভালো করে প্রয়োগ করা হল।

দল নিয়ে ভাবনা
৩১ অগাস্ট বন্ধ হচ্ছে ট্রান্সফার উইন্ডো। এই অবস্থায় চুক্তি-জট কাটলেও বা লাল হলুদ আইএসএল খেললেও কতটা শক্তিশালী দল গড়া যাবে তা নিয়ে সংশয় রয়েই গিয়েছে। যদিও দেবব্রত সরকারের দাবি, আইএফএ সভাপতি অজিত বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই ভালো বিদেশি-সহ দলের কথা ভেবে রেখেছেন। শ্রী সিমেন্ট চাইলে অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সে ব্যাপারে কথা বললে ভালো দলই গড়া যাবে। তবে আমরা দল গঠনের ব্যাপারে শ্রী সিমেন্টের কাজে হস্তক্ষেপ করব না। তবে যে কোনও সহযোগিতার জন্য কর্মসমিতির সকলে প্রস্তুত। সমর্থকদের আশ্বস্ত করে দেবব্রত সরকার বলছেন, হাতে সময় কম থাকলেও ভালো দলই গড়া যাবে।












Click it and Unblock the Notifications