মমতা নবান্নে ডাকলেন ইস্টবেঙ্গল ও শ্রী সিমেন্টকে, লাল হলুদের অচলাবস্থা কি কাটছে বুধেই?
ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে শ্রী সিমেন্ট সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইলেও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ম্যাজিকেই হতে পারে মুশকিল আসান। সূত্রের খবর, বুধবার শ্রী সিমেন্ট ও ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের বৈঠকে ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী। গত বছরও নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী স্পনসর জোগাড় করে দেওয়ায় নবান্নে সই হয়েছিল টার্মশিটে, আইএসএলে খেলেছিল লাল হলুদ। বুধবারের বৈঠকে ফের একবার মসীহা হয়ে উঠতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।

ই-মেলে রুষ্ট মমতা
টার্মশিট ও চূড়ান্ত চুক্তিপত্রে সই করা নিয়ে ইস্টবেঙ্গলে লগ্নিকারী শ্রী সিমেন্ট ও ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের সংঘাত আজ চরমে পৌঁছায় একটি ই মেলকে কেন্দ্র করে। শ্রী সিমেন্টের তরফে নবান্নে জানানো হয় ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা। এতেই রুষ্ট হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ইস্টবেঙ্গলের মতো ঐতিহ্যশালী ক্লাবের সঙ্গে যেটা করা হল সেটা খুব খারাপ। এই কয়েক মাস ধরে ঝুলিয়ে রাখা উচিত হয়নি। আমাকেও শ্রী সিমেন্টের তরফে বলা হয়েছিল, ১৬ অগাস্টের মধ্যেই সব মিটে যাবে। কিন্তু তা হয়নি। এখন বলা হচ্ছে ইস্টবেঙ্গলের জন্য নাকি কিছু করতে পারবে না। আমি চাই, মোহনবাগানের মতো ইস্টবেঙ্গল, এমনকী মহমেডানও আইএসএল খেলুক। কোন রহস্যের কারণে শ্রী সিমেন্ট কথা দিয়েও অবস্থান বদলাল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ইস্টবেঙ্গলের এই বিপদে সকলেরই এগিয়ে আসা উচিত। হাতে সময় কম থাকলেও চেষ্টা তো করতেই পারি।

লাল হলুদে বৈঠক
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর লাল হলুদ তাঁবুতে বৈঠক করেন ইস্টবেঙ্গলের সভাপতি ডা. প্রণব দাশগুপ্ত, সচিব কল্যাণ মজুমদার, দেবব্রত সরকার-সহ কর্মসমিতির সদস্যরা। পরে দেবব্রত সরকার বলেন, শ্রী সিমেন্টের তরফে ক্লাবকে কোনও মেল করা হয়নি। আর মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর আমরা কিছু বলছি না। লগ্নিকারী সরে গেলে ক্লাব লাইসেন্সিং বা ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার চ্যালেঞ্জ সামলে ইস্টবেঙ্গল কি আদৌ আইএসএল খেলতে পারবে? এই প্রশ্নের উত্তরে দেবব্রত সরকার বলেন, স্পোর্টিং রাইটস ফিরিয়ে দেওয়ার কথাও সংবাদমাধ্যম থেকে জেনেছি। আমাদের কাছে যদি চিঠি আসে তার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে। সমর্থকদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। পজিটিভ কিছুই হবে। প্ল্যান বি রেডি আছে।

স্পোর্টিং রাইটস নিয়ে চাপানউতোর
কিছু সংবাদমাধ্যমে বিনা শর্তে ইস্টবেঙ্গলের স্পোর্টিং রাইটস ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ছড়িয়ে পড়লেও তা ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন খোদ শ্রী সিমেন্টের কর্ণধার হরিমোহন বাঙ্গুর। দেবব্রত সরকার সংবাদমাধ্যমে বলেন, হরিমোহন বাঙ্গুর ভদ্রলোক। কিন্তু শ্রেণিক শেঠ যদি কিছু ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখাতেন তাহলেই এই জটিলতা থাকত না। সূত্রের খবর, টার্মশিট ও চূড়ান্ত চুক্তিপত্রে যে শর্তগুলি নিয়ে আপত্তি ছিল ইস্টবেঙ্গলের কর্মসমিতির, তার অনেকগুলি মেনেও নিয়েছিল শ্রী সিমেন্ট। শুধু ক্লাব তাঁবুর ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়ে গোটা বিষয় আটকে যায়। মধ্যস্থতাকারীরাও এই জায়গায় দুই পক্ষকে সহমত পোষণ করাতে পারেননি। দেবব্রত সরকারের দাবি, চূড়ান্ত চুক্তিপত্রে বলা হয়েছে, ক্লাব তাঁবুর ব্যবহার, ক্লাবের লোগো কোনও কিছুর উপরই আর ইস্টবেঙ্গলের অধিকার থাকবে না। এটা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ক্লাব তাঁবু ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়ে শর্তের গেঁরো নিয়ে বিরক্ত হন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। কেন না, চুক্তি সই হলে ক্লাব তাঁবুতে কর্মসমিতির সদস্য থেকে ক্লাবের সভ্য-সমর্থকরা কে কীভাবে ঢুকবেন, কোথায় বসবেন এ সব কিছু ঠিক করার অধিকার চলে যাওয়ার কথা বোর্ড অব ডিরেক্টরসের হাতে। যাতে ১০ জনের মধ্যে ক্লাবের প্রতিনিধি থাকার কথা মাত্র দুজনের। ইস্টবেঙ্গলের কর্তাদের কাছে যা কার্যত ক্লাব বিক্রিরই সমান।

বুধ-বৈঠকেই সমাধান?
তবে সরকারিভাবে কিছু জানানো না হলেও সূত্রের খবর, বুধবার দুই পক্ষকে নিয়েই বৈঠক করবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, তিনি বিষয়টি নিয়ে ফের নীতা আম্বানি-সহ রিলায়েন্স, এফএসডিএলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন যাতে ইস্টবেঙ্গলকে খেলানোর ব্যবস্থা করা যায়। ক্রীড়াপ্রেমী মুখ্যমন্ত্রী নিজেও খেলা হবে দিবস ঘোষণার অনুষ্ঠানে আশাপ্রকাশ করে বলেছিলেন, দ্রুতই সমস্যা মিটবে। চিন্তার কিছু নেই। ইস্টবেঙ্গল আইএসএলে খেলবে। এ প্রসঙ্গে একটু ছেড়ে খেলার যে কথা তিনি বলেছিলেন তা ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের প্রতি বার্তা বলেই মনে করা হয়েছিল। আজকের ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী যে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পাশেই রয়েছেন লগ্নিকারীর সমালোচনা করে সেটা বুঝিয়েও দিয়েছেন। দেবব্রত সরকার জানিয়েছেন, নবান্নের বৈঠকের কথা সংবাদমাধ্যমে জেনেছি। আগামীকাল সরকারিভাবেও জানতে পারি। মুখ্যমন্ত্রী যদি বৈঠকে ডাকেন অবশ্যই সেখানে ক্লাব যাবে। সূত্রের দাবি, যেহেতু শ্রী সিমেন্টও রাজ্যে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে চলেছে ফলে বুধবারের বৈঠকেই সমস্যা মিটে যেতে পারে। তবে তারপর কতটা শক্তিশালী দল গঠন সম্ভব হবে, প্ল্যান বি রেডি রেখেও সেটাই ভাবাচ্ছে সাধারণ সভ্য সমর্থকদের।












Click it and Unblock the Notifications