এগিয়ে গিয়েও ম্যাচ ড্র, প্রশ্নের মুখে বাগান ডিফেন্স
এটিকে মোহনবাগান-১ (লিস্টন কোলাসো)
চেন্নাইয়ান এফসি-১ (ভ্লাদিমির কোম্যান)
জয় অধরাই রইল এটিকে মোহনবাগানের। ডার্বির পর থেকে জয়ের দেখা নেই বাগান শিবিরে। পূর্ববর্তী দুই ম্যাচে মুম্বই সিটি এফসি এবং জামশেদপুর এফসি'র বিরুদ্ধে হারের পর চেন্নাইয়ান এফসি'র বিরুদ্ধে জয়ের খোঁচে মাঠে নেমেছিলেন অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাস। কিন্তু স্প্যানিশ কোচ'কে তিন পয়েন্ট এনে দিতে পারলেন না রয় কৃষ্ণ-প্রীতম কোটাল'রা।

শনিবার ফতোরদা স্টেডিয়ামে বাগানের পুরো তিন পয়েন্ট না পাওয়ার পিছনে সব থেকে বেশি দায়ী দলের ডিফেন্স। প্রথম লেগের অর্ধেক ম্যাচ খেলা হয়ে গেলেও কী ভাবে ডিফেন্ডার'রা বারবার একই লাইনে চলে আসেন, সেটাই বোধগম্য হল না! ১৭ মিনিটে লিস্টন কোলাসোর গোলে ম্যাচে এগিয়ে গিয়েছিল এটিকে মোহনবাগান। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে চেন্নাইয়ের ডিফেন্স চিরে লিস্টন'কে পাস বাড়ান রয় কৃষ্ণ। ডিফেন্স চেরা পাস থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল তুলে নিতে ভুল করেননি ভারতীয় ফুটবলে আগামী দিনের এই তারকা লিস্টন। টপ নেটে ফিনিশ করেন এই গোয়ানিজ ফুটবলার।
গোল শোধ করার সুযোগ ২৩ মিনিটেই পেয়ে গিয়েছিল চেন্নাইয়ান এফসি। দুই ডিফেন্ডার'কে কাটিয়ে বক্সের মধ্যে থেকে নেওয়া থাপার শট রিবাউন্ড হয়ে গোলে ঢোকার মুখে গোল লাইন সেভ করেন প্রীতম কোটাল। মাঝে এক-দু'বার রয় কৃষ্ণ একক দক্ষতায় চেন্নাইয়ানের বক্সে ঢুকলেও গোল পায়নি এটিকেএমবি। বরং অনেক বেশি আক্রমণে আসার সুবিধা পায় চেন্নাইয়ান। প্রথমার্ধ শেষের বাঁশি বাজার ঠিক আগে অভিষেক বচ্চনের চেন্নাইয়ান'কে সমতায় ফেরান ভ্লাদিমির কোম্যান। লুস বল পেয়ে দুরন্ত ক্ষিপ্রতায় গোল করে যান ৩২ বছর বয়সী হাঙ্গেরির স্ট্রাইকার।
প্রথমার্ধে কিছুটা ডিফেন্সিভ খোলসে নিজেদের আটকে রাখলেও দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের উপর জোর দেয় হাবাসের ছেলেরা। এন্ড টু এন্ড ফুটবলে যে কেউই গোল তুলে নিতে পারত। যদিও এটিকেএমবি'র ডিফেন্স-কে নির্ভরতা দিতে বেশি আক্রমণে ওঠার সুযোগ হয়নি বাগান ফুটবলারদের। ৬৬ মিনিটে বাগান ডিফেন্সের কঙ্কালসার চেহারাটা বাইরে এনে ফেলেন অনিরুদ্ধ থাপা। তাঁর পাস থেকে থেকে গোল করার মতো পজিশনে বল পেয়েও অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ঠ হন এডউইন ভান্সপল। ৮২ মিনিটে দুর্বল বাগান ডিফেন্স'কে আরও একবার প্রায় টলিয়ে দিয়েছিল চেন্নাইয়ান। অনিরুদ্ধে থাপা পায়ে বলে সংযোগটা ঠিক মতো করতে পারলে ২-১ গোলে এগিয়ে যেতে পারত দু'বারের আইএসএল চ্যা্ম্পিয়ন দল। তবে, শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য-ই ছিল দ্বিতীয়ার্ধ। এক পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় চেন্নাইয়ান'কে। বরং এটিকে মোহনবাগান এই ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট পেয়ে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করবে। যে ভাবে তাদের ডিফেন্স বারবার হিমশিম খেয়েছে চেন্নাইয়ানের আক্রমণ সামলাতে তাতে এই এক পয়েন্ট হাবাসের দলের কাছে জয়ের থেকে কোনও অংশে কম নয়।












Click it and Unblock the Notifications