অবিনাশ রুইদাস ইস্যুতে এবার সম্মুখ সমরে এআইএফএফ ও আইএফএ
অবিনাশ রুইদাসের ঘটনার নিষ্পত্তি হল না, গোটা ঘটনায় রেগে আইএফএ
রাত গড়াতে আরও জট বাড়ল অবিনাশ রুইদাস ইস্যুতে। এবার সামনাসামনি আসরে নামল এআইএফএফ। এআইএফএফের পক্ষ থেকে আইএফকে চিঠি পাঠিয়েছেন ফেডারেশন সচিব কুশল দাস। তাঁর সাফ কথা প্লেয়ার স্ট্যাটাস মামলা নিষ্পত্তি করার এক্তিয়ারই নেই রাজ্য সংস্থার। প্লেয়ারের চু্ক্তি নিয়ে কোনও সমস্যা হলে সেটা দেখবে এআইএফএফ। এই প্রসঙ্গে এআইএফএফের নিয়মাবলীর আর্টিকেল ৩ ও ৩৮-র কথা বলেছেন ফেডারেশন সচিব কুশল দাস।
অবিনাশ রুইদাস ইস্যুতে রীতিমতো বিরক্ত আইএফএ। বারবার ডাকা সত্বেও এদিনও আইএফএ প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটির বৈঠকে এলেন না ইস্টবেঙ্গলের এই ফুটবলার। ফলে অবিনাশ রুইদাস জট বৃহস্পতিবারও কাটল না। আইএফএ-র প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটি থেকে সেই ঘটনা এ বার পৌঁছে গেল শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির কাছে।

অবিনাশ রুইদাস এবার আইএসএল-এ নাম লেখানোর পরই বেঁকে বসে ইস্টবেঙ্গল। এই ক্লাবের হাত ধরেই ভারতীয় ফুটবলে পরিচিত হওয়া অবিনাশের। দারুণ শুরু করেছিলেন। সাফল্যও এসেছিল। কিন্তু আইএসএল-এর হাতছানি ছেড়ে আই লিগে থাকতে চাননি অনেকেই। সেই তালিকায় রয়েছেন অবিনাশও। যাঁকে নিয়ে এই মুহূর্তে সরগরম ভারতীয় ফুটবল। বৃহস্পতিবার প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটির মিটিংয়ে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রতিনিধিরা থাকলেও আবারও আসেননি অবিনাশ। উল্টে দুটি চিঠি পাঠিয়েছেন অবিনাশ। একটি নিজে পাঠিয়েছেন অন্যটি পাঠিয়েছেন অবিনাশের আইনজীবী। নিজের চিঠিতে অবিনাশ জানিয়েছেন তিনি ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে কোনও চুক্তি করেননি, তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করছে লালহলুদ। অন্য চিঠিতে তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন, আইএফএ-র কোনও এক্তিয়ারই নেই এই গন্ডগোলের নিষ্পত্তি করার।
বৃহস্পতিবার প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটির মিটিং শেষে আইএফএ সচিব জানান, তাঁরা অবিনাশের ঘটনা জানতে পারেন সংবাদ মাধ্যম থেকে। এর পরই তাঁরা সর্ব ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে পুরো ঘটনাটি জানান। এআইএফএফ সেটি আবার অবিনাশকে জানায়। ইস্টবেঙ্গল আগের দিন অবিনাশের টোকেন দেখিয়েছে। এদিন ইস্টবেঙ্গল কর্তৃপক্ষ তাদের সই করা কাগজও এদিন আইএফএকে দেখিয়েছে। তাতে সই রয়েছে অবিনাশ রুইদাসের। তবে সই পরীক্ষা করানো হবে হ্যান্ডরাইটিং এক্সপার্টকে দিয়ে। ক্লাবের পক্ষ থেকে সব রকম সহযোগিতা করা হলেও অবিনাশ এখনও তাঁর দাবির সত্যতা প্রমাণ করেননি।
বিরক্ত উৎপল গঙ্গোপাধ্যায় এই ঘটনা শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। অবিনাশকে বার বার নোটিস দিয়ে ডাকা স্বত্ত্বেও তিনি আইএফএ-তে না এসে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছ। এর বিচার করবে এই কমিটি। অন্য দিকে কার দাবি সঠিক তারও বিচার করবে এই কমিটি। উৎপল গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, 'আমি অনুরোধ করব যেন হ্যান্ড রাইটিং এক্সপার্টকে দিয়ে অবিনাশের সই যেন দেখানো হয় যে ওটা সত্যিই ওর সই কি না।' অবিনাশ দাবি করেছিলেন চুক্তিতে ওর সই নেই। ওটা জাল সই। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এই নিয়ে আলোচনায় বসবে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। যে মিথ্য কথা বলছে তারই শাস্তি হবে। আইএফএ সচিবের দাবি কারোর পা থেকে তারা ফুটবল কেড়ে নিতে চাননা কিন্তু অন্যায় যে করবে তাকে শাস্তি পেতেই হবে।












Click it and Unblock the Notifications