মোহন-ত্রিফলায় বিদ্ধ কেরালা ব্লাস্টার্স, আইএসএলের প্রথম ম্যাচেই বড় জয় সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের
গতবার যেখানে শেষ করেছিল এটিকে মোহনবাগান, এবার সেখান থেকেই শুরু করল হাবাসের দল। আইএসএল ২০২১-এর প্রথম ম্যাচেই কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে বড় জয় তুলে নিল মোহনবাগান।
গতবার যেখানে শেষ করেছিল এটিকে মোহনবাগান, এবার সেখান থেকেই শুরু করল হাবাসের দল। আইএসএল ২০২১-এর প্রথম ম্যাচেই কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে বড় জয় তুলে নিল মোহনবাগান। রয় কৃষ্ণা-হুগো বুমোস-কোলাসোর ত্রিফলায় বিদ্ধ হল কেরালা ব্লাস্টার্স। ৪-২ গোলে কেরালাকে হারিয়ে তিন পয়েন্ট তুলে নিল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।

ম্যাচের প্রথমার্ধেই এটিকে মোহনবাগান ৩-১ গোলে এগিয়ে যায় কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফের কেরালার জালে বল জড়িয়ে দেন মোহনবাগানের নতুন ফলা লিস্টন কোলাসো। ১-৪ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ায় কার্যত পরাজয় লেখা হয়ে গিয়েছিল কেরালার। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত লড়াই জারি রেখেছিল কেরালা ব্লাস্টার্স।
সেই লক্ষ্যে কেরালা ৬৯ মিনিটের মাথায় মোহনবাগাবের জালে বল জড়িয়ে দেয়। জর্জ পেরেইরা দিয়াজের গোলে ব্যবধান কমায় কেরালা। কিন্তু তিন গোলের ব্যবধান মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি। শেষপর্যন্ত ৪-২ গোলে শেষ হয় মোহনবাগান বনাম কেরালা ব্লাস্টার্সের মধ্যে আইএসএলের প্রথম ম্যাচ। মোহনবাগান ৩ পয়েন্ট নিয়েই শুরু করল আইএসএল-যাত্রা। আর কেরালা প্রথম ম্যাচ হেরে শুরু করল লিগের লড়াই।
তিনবারের চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান এবারও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে নেমেছে আইএসএলে। গতবার একটুর জন্য হাত ফসকে যায় খেতাব। এবার তাই অনেক সাবধানী মোহনবাগান। কোচ হাবাস প্রায় প্রায় পুরনো টিমকেই হাতে পেয়েছেন এবার। মোহনবাগানে মাত্র দুজন বিদেশি বদল হয়েছে। ২০২১-২২-এর আইএসএলে মোহনবাগানে যোগ দিয়েই এদিন হুগো বুমোস জোড়া গোল করে মোহনবাগানকে জয় এনে দিলেন।
ম্যাচের শুরুতেই বুমোস এগিয়ে দেন মোহনবাগানকে। রয় কৃষ্ণা করেন একটি গোল। প্রথমার্ধের শেষে মোহনবাগান ৩-১ গোল এগিয়ে ছিল কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে। আরও অনেক গোলের সুযোগ পেয়েছিল মোহনবাগান। তা হেলায় হারান কৃষ্ণারা। পিছিয়ে ছিল না কেরালা। কেরালাও অনেক গোলের সুযোগ তৈরি করে। পাশাপাশি বল দখলের লড়াইয়ে মোহনবাগানকে টেক্কা দেয় কেরালা।
খেলা শুরুর দুমিনিটেই বক্সের বাইকে ফ্রিকিক পায় মোহনবাগান। হুগো বুমোসের ফ্রিকিক সরাসরি রয় কৃষ্ণর মাথা এড়িয়ে গোলে ঢুকে যায়। কিপার লাইন মিস করেন রয় কৃষ্ণা বলের সামনে এসে পড়ায়। প্রথম ম্যাচে নেমেই সবুজ-মেরুন জার্সিতে গোল পেয়ে যান হুগো বুমোস। এরপর এটিকে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে কেরালা ব্লাস্টার্স পাল্টা আক্রমণ শানাতে শুরু করে। ২৪ মিনিটের মাথায় গোল শোধ করে দেয় কেরালা। সাহাল আবদুল সামাদ গোলে সমতা ফেরে খেলায়।

পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি কেরালা। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলা জমে ওঠে। খেলায় সমতা ফেরার তিন মিনিটের মধ্যেই মোহনবাগান ঝটিকা আক্রমণে গোল তুলে নেয়। এবার স্কোর করেন রয় কৃষ্ণ। এবার গোলকিপারকে কাটিয়ে গোলমুখ খুলে ফেলতেই পেনাল্টি বক্সে ফেলে দেওয়া হয় রয় কৃষ্ণকে। পেনাল্টি দেন রেফারি। ২৭ মিনিটে রয় কৃষ্ণ পেনাল্টি থেকে গোল করে এগিয়ে দেন মোহনবাগানকে।
এরপর ম্যাচের ৩৯ মিনিটের মাথায় ফের গোল করে হুগো বুমোস মোহনবাগান এগিয়ে যান ৩-১ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধের ৫০ মিনিটে ফের গোল পেয়ে যায় সবুজ-মেরুনের অপর স্ট্রাইকার লিস্টন কোলাসো। ৪-১ এগিয়ে যখন জয়ের অপেক্ষায় রয়েছেন সবুজ-মেরুন সমর্থকরা, তখন ঝটকা দেয় কেরালা। কেরালার পেরেজ দিয়াসের গোলে ব্যবধান কমিয়ে আনে কেরালা। তারপর পুরোপুরি ডিফেন্সিভ হয়ে যায় মোহনবাগান। আর ব্যবধান কমাতে পারেনি কেরালা। ৪-২ গোলে কেরালাকে হারিয়ে জয় তুলে নেন টিম হাবাস।
এদিন বল দখলের লড়াইয়ে অনেক এগিয়ে ছিল কেরালা। কিন্তু সুযোগ তৈরি ও সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতায় কেরালাকে টেক্কা দিয়ে যায় মোহনবাগান। বল দখলে ৬৫ শতাংশ কেরালা আর মোহনবাগানের ৩৫ শতাংশ। গোলে শটেও এগিয়ে কেরালা ১৩-১১'য়। কিন্তু গোল সংখ্যায় মোহনবাগান ৪ এবং কেরালা ব্লাস্টার্স ২।












Click it and Unblock the Notifications