ভারতীয় ফুটবলে হায় পেশাদারিত্ব , গর্বের আইএসএলের এই ছবি ভালো বিজ্ঞাপন নয়
কলকাতায় ম্যাচের কিক অফ হল রাত ১০.৪৫ এ। এই ভারতেই সব হওয়া সম্ভব।
প্রাক্তন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা ইন্ডিয়ান সুপার লিগে এটিকে দলের কোচ। তিনি কার্যত বিস্মিত। কীভাবে কোনও আন্তর্জাতির মানের পেশাদার টুর্নামেন্টে এমন হতে পারে। বুধবার এটিকে বনাম গোয়া ম্যাচ নিয়ে যেভাবে পর্যায়ে পর্যায়ে নাটকের জল গড়াল তাতে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য আইএসএলের পেশাদারিত্ব বড় প্রশ্ন চিহ্ণের মুখে।

রাত ১০.৪৫ যুবভারতীতে ম্যাচের কিক অফ হয়। ম্যাচ যখন শেষ হয় দু দল হোটেলের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেবে তখন ঘড়ির কাঁটা রাত একটা ছুঁয়েছে। শেরিংহ্যাম যে সময়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলতেন সেসময়ে তাঁর দল তিন বার ইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সুতরাং আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলটা সর্বোচ্চ স্তরে খেলেছেন তাঁরা। কিন্তু এই ধরণের নজির কখনও দেখননি বিভিন্ন দেশের ফুটবল দেখে আসা শেরিংহ্যাম। শেরিংহ্যাম জানিয়েছেন প্রতি মুহূর্ত বয়ে যাচ্ছিল এবং অজানার আশঙ্কায় বসে থাকতে থাকতে ম্যাচের ফোকাসও দুলে যাচ্ছিল এটিকে-র।
বিমান বিভ্রাটের জেরে গোয়া নির্ধারিত সময়ে না এসে পৌঁছতে পারায় এই অদ্ভুত শিডিউলে খেলা আয়োজন করে আইএসএল আয়োজকরা। ম্যাচ প্রাথমিক সূচি অনুযায়ি রাত ৮ টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা প্রাথমিক ভাবে এক ঘন্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে আটটা থেকে ম্যাচ খেলার জন্য যুবভারতীতে পৌঁছে গিয়েছিল এটিকে। কিন্তু তখনই দেখা মেলেনি এফ সি গোয়ার। তাদেরও আসলে কিছু করার ছিল বিমান বিভ্রাট হলে তারাই বা কী করবে।
গোয়ার দলটি বিমান বন্দর থেকে সরাসরি এসে পৌঁছয় মাঠে। তারপর রাত ১০.৪৫ এ খেলা শুরু করা হয়। শেরিংহ্যাম শুধু সময় উল্লেখ করেই যথেষ্ট বড় খোঁটাটা দিয়েছেন আয়োজকদের। অন্যদিকে গোয়ার কোচ সার্জিও লোবেরা রাখ ঢাক না করে বলেছেন , 'ফোর্স মাজিউরে' অর্থাৎ জোর জবরদস্তি খেলানো হয়েছে। প্রাথমিক ক্রীড়াসূচি অনুযায়ি ৩১ ডিসেম্বর ম্যাচটি খেলার কথা ছিল। কিন্তু সেই দিনে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয় বলে পুলিশ ম্যাচ আয়োজন করতে পারবে না বলে জানিয়েছিল।
তারপর ৩ তারিখ ম্যাচ খেলার দিন নির্ধারিত হয়। কিন্তু দু'দলকেই যে পরিস্থিতিতে খেলতে হল আন্তর্জাতিক মাপদন্ডে এরকম পরিস্থিতিতে ম্যাচ খেলার নজির আছে কিনা ঠিক জানা নেই। দুই কোচই জানিয়েছেন পেশাদার ফুটবলে এরকম ঘটনা তাঁরা তাঁদের কেরিয়ারে কখনই দেখেননি। ভারতীয় ফুটবল বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লজ্জার মধ্যে দিয়ে গেছে। কিন্তু বুধবার যা ঘটল তা আরও একবার ভারতীয় ফুটবলের অন্ধকার দিকটা বিশ্বফুটবলের সামনে তুলে ধরল।












Click it and Unblock the Notifications