বিশ্বকাপের আড্ডা থেকেই দুই প্রধানের সমর্থকদের প্রতি বার্তা কিংশুকের
বিশ্বকাপের আড্ডায় ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে সাফল্য আনার শপথ নিলেও, মোহন সমর্থকদের প্রতি সম্মান এবং ভালবাসা উজাড় করে দিলেন কিংশুক
দীর্ঘদিন সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে চাপানোর পর, আসন্ন মরসুমে ইস্টবেঙ্গলের লাল-হলুদ জার্সি পরে মাঠে নামবেন কিংশুক দেবনাথ। প্রাক্তন মোহন অধিনায়কের গলায় ঝড়ে পড়লো মোহনবাগান এবং সবুজ-মেরুন সমর্থকদের সম্পর্কে শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা। পাশাপাশি ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতেও ভাল খেলারও শপথ নিলেন তিনি।

মাইখেল বাংলার সঙ্গে বিশ্বকাপের আড্ডায় মেতে উঠেছিলেন কিংশুক, সেখানেই আর্জেন্তিনা-ব্রজিলের প্রসঙ্গের মাঝে উঠে আসে ইস্ট-মোহনের কথাও।
প্রশ্ন: এই বারের বিশ্বকাপের দলগুলোর থেকে প্রত্যাশা কী?
উত্তর: আশা করি যে ৩২টি দল খেলছে এই বারের বিশ্বকাপে, তারা আপ্রাণ লড়াই চালাবে। কারণ প্রতিটি দলের বেশ কিছু ফুটবলার বিশ্বের বিভিন্ন সেরা ক্লাবে খেলে। আশা করি তাঁদের থেকে ভাল খেলাই দেখবে ফুটবলপ্রেমীরা। আসলে বিশ্বকাপে খারাপ ফুটবলের কোনও জায়গাই নেই!
প্রশ্ন: এই বিশ্বকাপে কোন দলগুলির সম্ভবনা ভাল আছে বলে মনে হয়?
উত্তর: আমার মনে হয় খেতাবি লড়াই মূলত চারটি দলের মধ্যে হবে। আপর্জেন্তিনা, জার্মানি, স্পেন এবং পর্তুগলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে খাতাবি লড়াই।
প্রশ্ন: বিশ্বকাপে কোন দলের সাপোর্টার আপনি?
উত্তর: আমি বরাবরই আর্জেন্তিনার সাপোর্টার। আর্জেন্তিনার ভাগ্য খারাপ ২০১৪ ওর্য়াল্ড কাপ ফাইনালে খারাপ সময়ে গোল হজম করতে হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে ফিরে আসার মতো উপায় ছিল না। আমার মনে হয় এই বিশ্বকাপে দীর্ঘ দিনের অধরা খেতাব ঘরে তুলবে আর্জেন্তিনা।
প্রশ্ন: বিশ্বকাপে ইটালির না থাকাটা কী ভাবে দেখছেন?
উত্তর: ইটালি সবসময়েই একটা ফ্যাক্টার। বিশ্বকাপে ইটালির না থাকাটা অনেক বড় ক্ষতি ফুটবল জন্য। কারণ এই রকম ঐতিহ্যশালী দেশ যদি বিশ্ব ফুটবলের সেরার লড়াইয়ে না থাকে, তা কখনই ভাল বিজ্ঞপন হতে পারে না ফুটবলের জন্য।
বিশ্ব ফুটবলে গোলকিপিং-কে শিল্পের পর্যায় নিয়ে যাওয়া বুফনকে সকলে মিস করবো। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি ইটালির না থাকাটা প্রত্যক্ষভাবে না হলেও, পরক্ষভাবে অপূর্ণ রেখে যাবে রাশিয়া বিশ্বকাপকে।
প্রশ্ন: পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে নিয়ে কতটা আশাবাদী আপনি?
উত্তর: গতবারের তুলনায় এই ব্রাজিল দলের গড় বয়স অনেক কম। একাধিক তরুণ ফুটবলারকে নিয়ে এই দল গড়েছে টিটে। তবে মনে রাখতে হবে নেইমার কিন্তু সদ্য চোট থেকে ফিরেছে। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেও একশো শতাংশ কিন্তু ফিট হয়ে উঠতে পারেনি ও। ম্যাচ ফিট আর এমনি ফিট হওয়ার মধ্যে তফাত রয়েছে। নেইমার যদি একশো শতাংশ ম্যাচ ফিট হয়ে যায়, তাহলে ভাল রেজাল্ট করতে পারে ব্রাজিল।
প্রশ্ন: আর্জেন্টিনার ফুটবলকে বলা হয় মেসি কেন্দ্রিক। অনেকে মেনেও নিয়েছেন মেসি থমকে গেলে আর্জেন্টিনাও থমকে যাবে। এই বিষয়ে আপনার কী মত?
উত্তর: ফুটবল এমনই একটা খেলা, যেখানে ব্যক্তিগত নৈপূন্যের জায়গা থাকলেও, স্রেফ ব্যক্তিগত নৈপূন্য দিয়ে একটা প্লেয়ার কখনই একটা দলকে টেনে নিয়ে যেতে পারে না। আর্জেন্টিনায় শুধু একা মেসি খেলে না। ওদের গোটা দলটাই ভাল। বাকিরা যদি ভাল পারফর্ম না করতে পারত বা মেসির জন্য বলের সাপ্লাই ঠিকঠাক না করতে পারত, তাহলে কখনই মেসির পক্ষে একা প্রতিটি ম্যাচ জেতানো সম্ভব হতো না।
তবে হ্যাঁ, এটাও অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই যে মেসি সম্পূর্ণ অন্য ফ্যাক্টার। যখন সকলে থমকে যায় তখন ম্যাচের রং বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে মেসি।
প্রশ্ন: বিশ্ব ফুটবলে ভারত কেন প্রত্যাশা মতো উন্নতি করতে পারছে না?
উত্তর: ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি করতে হলে আগে এখানকার ফুটবল পরিকাঠামোয় পরিবর্তন আনতে হবে। বিদেশে যে ভাবে ফুটবলের প্রচার করা হয় বা ফুটবলের জন্য উন্নত মানের যে পরিকাঠামোর ব্যবস্থা করা হয়, সেটা হয়া না আমাদের দেশে। একজন ফুটবলার বয়স বড়ার সঙ্গে সঙ্গে কখনও বড় ফুটবলার হতে পারে না। এর জন্য ভীতটা দৃঢ় হওয়া প্রয়োজন। আর এই দায়িত্বটাই ভাল করে পালন করতে হবে অ্যাকাডেমিগুলিকে। অ্যাকাডেমিগুলিতে যোগ্য ব্যক্তির হাতে কোচিংয়ের দায়িত্ব দিতে হবে। যারা ফুটবলটা বোঝে বা কখনও নিজেরা খেলেছে, তাঁদেরই কোচ হওয়া প্রয়োজন। যে কেউ লাইসেন্স বার করে কোচ হয়ে গেলে কোনও দিনই উন্নতি হবে না ভারতীয় ফুটবলের।
প্রশ্ন: মোহনবাগানের ঘরের ছেলে হয়ে যাওয়া কিংশুক হঠাৎ করে ইস্টবেঙ্গলের জ্বালে ধরা দিল কেন?
উত্তর: মোহনবাগানের সঙ্গে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে আমার। সুবজ-মেরুন জার্সিতে আই লিগ জিতেছি, জিততে পেরেছি ফেডারেশন কাপও। তবে, আমার মনে হয়েছে পরিবর্তনটা প্রয়োজন। আমি পেশাদার ফুটবলার। অতীতে মোহনবাগানের হয়ে খেললেও এখন আমি ইস্টবেঙ্গলের প্লেয়ার। এখন আমার একটাই লক্ষ্য এবং তা ইস্টবেঙ্গলের হয়ে আই লিগ জেতা। দীর্ঘ দিন দেশের সেরার শিরোপা পায়নি ইস্টবেঙ্গল। আমি চাই ট্রফি জিতে দীর্ঘ দিন ট্রফির আশায় থাকা সমর্থকদের মুখে হাসি ফোঁটাতে।
প্রশ্ন: আগেও সুভাষ ভৌমিকের কোচিংয়ে খেলেছেন। রসায়নটা কেমন জমবে বলে মনে হয়?
উত্তর: ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম সফল কোচ সুভাষ ভৌমিক। কোচিংয়ের পাশাপাশি ম্যান ম্যানেজমেন্টেও সিদ্ধহস্ত তিনি। ড্রেসিং রুমের পরিবেশটা বোঝেন, কোচ হলেও তিনি প্লেয়ারদের বন্ধুর মতো বা বড় দাদার মতো হয়ে যান। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য কোচ-ফুটবলারদের মধ্যে এই সম্পর্কটা গড়ে ওঠা প্রয়োজন।
প্রশ্ন: আর কত দিন খেলা চালিয়ে যেতে চান?
উত্তর: পুরোটাই নির্ভর করছে আমি কেমন পারফরম্যান্স করছি তার উপর। বয়সটা কোনও ফ্যাক্টার বলে আমি মানি না। যখন মনে করব দলের জন্য বোঝা হয়ে যাচ্ছি, তখন নিজে থেকেই সরে আসব।
প্রশ্ন: ইস্টবেঙ্গল সাপোর্টারদের কী বার্তা দেবেন?
উত্তর: শুধু বলতে চাই যে মাঠে আসুন, আমাদের পাশে থাকুন, সাপোর্ট করুন। আমরাও শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালাব সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। সমর্থকদের কাছে ভাল ফুটবল খেলার বিষয়ে আমরা দায়বদ্ধ। আশা করি আমরা এই মরসুমে নিরাশ করবো না আপনাদের।
প্রশ্ন: ইস্টবেঙ্গলে খেলতে এলেও মোহনবাগানের ঘরের ছেলে হিসেবেই পরিচিত আপনি। সবুজ-মেরুন সমর্থকদের উদ্দেশ্য কিছু বলতে চান?
উত্তর: খারাপ সময়ে আমার পাশে থাকার জন্য আমি মোহনবাগান সমর্থকদের কাছে কৃতজ্ঞ। প্রতিনিয়ত আমায় সাপোর্ট করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আমি বিশ্বাস করি সুবজ-মেরুন সমর্থকেরা ভুল বুঝবেন না আমায়। আমি আশা করি আপনারা যেভাবে আমার পাশে ছিলেন সব সময়, তেমনই পাশে থাকবেন এইবারেও।












Click it and Unblock the Notifications