বিশ্বকাপের আগে একান্ত সাক্ষাৎকারে চুল চেরা বিশ্লেষণ অভিজিতের
আর কয়েক দিনের অপেক্ষা তার পরই শুরু হতে চলেছে ২০১৮ ফুটবল বিশ্বকাপ। তার কয়েক দিন আগে ভারতীয় ফটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক অভিজিৎ মণ্ডল জানিয়ে দিলেন এই বিশ্বকাপে ভাল সুযোগ রয়েছে ফ্রান্স, ব্রাজিল
কখনও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে না চাপালেও, একটা সময় ভারতীয় ক্লাব ফুটবলের অন্যতম প্রাচীর ছিলেন তিনি। গোলদূর্গের তলায় তাঁর অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠার গল্প অজানা নয় কারোরই। তাঁর দু'হাতের প্রাচীরের কাছে থমকে গিয়েছিল একাধিক দলের খেতাবি স্বপ্ন। আপনার আন্দাজ ভুল নয়। কথা হচ্ছে ভারতীয় ফুটবলে সর্বকালের সেরা গোলরক্ষক অভিজিৎ মণ্ডলকে নিয়ে। নিজের কেরিয়ারে গোলকিপিং-কে অন্য পর্যায় নিয়ে গিয়েছিলেন অভিজিৎ। ডেম্পার পাঁচ বার আই লিগ জয়ের নেপেথ্যে ছোটখাট চেহারার এই গোলরক্ষকের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। বিশ্বকাপের আগে সেই অভিজিৎ-ই খোলা মেলা আড্ডায় মাতলেন মাইখেল বাংলার সঙ্গে।

প্রশ্ন: আসন্ন রাশিয়া বিশ্বকাপে কী রকম খেলা আশা করছেন দলগুলোর থেকে?
উত্তর: বিশ্বকাপে দলগুলোর খেলায় কোনও নতুনত্ব থাকবে বলে আমি মনে করিনা। এর থেকে অনেক ভাল খেলা আমরা দেখি ক্লাব ফুটবলে, যেখানে প্রতিটি দলই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেরা প্লেয়ারদের নিয়ে নিজেদের দল গড়ে। কিন্তু দেশের হয়ে খেলার সময় এক-দু'জন তারকা থাকলেও দলের অন্যান্যরা সেই পর্যায় পৌছতে পারে না, ফলে খেলাটাও প্রত্যাশা মতো আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে না অধিকাংশ সময়েই। এছাড়া বিশেষ কোনও ট্যাকটিক্যাল মুভ দেখতে পাব বলেও মনে হয় না।
প্রশ্ন: কাকে এগিয়ে রাখবেন এই বিশ্বকাপে?
উত্তর: আমি ব্রাজিলের সমর্থক। চাই ব্রাজিল-ই জিতুক। তবে, ব্রাজিল ছাড়াও এই বিশ্বকাপে ভাল সুযোগ রয়েছে ফ্রান্স এবং জার্মানির। কারণ ব্রাজিলের মতোই এই দু'টো দল যথেষ্ট ব্যালেন্সড সাইড।তবে একটু হলেও জার্মানি এগিয়ে রয়েছে। ব্রাজিল বা ফ্রান্সের খেতাব জয়ের সম্ভবনা যদি ৪৯ শতাংশ হয়, তাহলে জার্মানির রয়েছে ৫১ শতাংশ।

প্রশ্ন: আপনি ব্রাজিলকে এগিয়ে রাখলেও শেষ কয়েকটা বিশ্বকাপে বিশেষ ভাল পরিসংখ্যান নয় ব্রাজিলের। কোন অঙ্কে খেতাবি লড়াইয়ের অন্যতম দাবিদার মনে করছেন ব্রাজিলকে?
উত্তর: ব্রাজিলের মূল শক্তি হল তরুণ প্রতিভা। নেইমার নির্ভরতা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে ওরা। ওদের প্লেয়ারদের গড় বয়সও অনেক কম।আগে ব্রাজিল শুধু নিজেদের ঘরানায় খেললেও এখন ইউরোপীয় ধাঁচও নিজেদের খেলার মধ্যে মেলে ধরার চেষ্টা করছে। ফলে এই দুইয়ের সংমিশ্রণে দারুণ ছন্দে এই বিশ্বকাপে দেখা যেতে পারে ওদের।

প্রশ্ন: ব্রাজিলের প্রসঙ্গ উঠলেই চলে আসে আরও একটা দলের কথা, সেটা আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার সম্ভবনা কতটা দেখছেন?
উত্তর: আর্জেন্টিনার মূল সমস্যা হল ওরা প্রচণ্ড মেসি নির্ভরশীল ফুটবল খেলে। মেসি না থাকলেই সমস্যায় পরে ওরা। অন্যান্য দলগুলোর এই সমস্যা নয়। আর্জেন্টিনার সকলে চেষ্টা করে মেসিকে খেলাতে। ফলে মেসি যদি আটকে যায়, তাহলে শেষ আর্জেন্টিনার জারিজুরি। ফলে এই বিশ্বকাপে মারাদোনার দেশের সুযোগ খুব কম। এছাড়া ওদের সেন্ট্রাল ডিফেন্সে যাদের বেছেছে, তাঁরা কতটা নির্ভরতা দিতে পারবে তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

প্রশ্ন: ইতালি বা নেদারল্যান্ডসের না থাকাটা কী বিশ্বকাপের জৌলুস কমাবে?
উত্তর: ইতালির না থাকাটা নিঃসন্দেহে কিছুটা হলেও ফিকে করে দেবে বিশ্বকাপের জৌলুস। ইতালীয় ফুটবলের ঐতিহ্য রয়েছে, যা আরও পরিপূর্ণ করে তুলতে পারত আসন্ন বিশ্বকাপকে। এছাড়া বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম নক্ষত্র বুফনকেও মিস করবে ফুটবল বিশ্ব। বিশ্বকাপের মঞ্চে বুফনের থাকাটা বরাবরই একটা ফ্যাক্টার। ওঁকে খুব মিস করবো। তবে, নেদারল্যান্ডসের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল নেই। ওরা খেললে আন্ডারডগ হয়ে খেলত।
প্রশ্ন: বেশ কয়েকটি নতুন দেশের বিশ্বকাপ অভিষেক হবে রাশিয়ায়। এরা পিছন থেকে উঠে আসতে পারলেও ভারত কেন পারছেনা?
উত্তর: আমাদের দেশে ফুটবলের উন্নতি হয়নি, তা কিন্তু নয়। তবে, অন্যান্য দেশগুলো আমাদের থেকে অনেক বেশি উন্নতি করেছে। তাই আমাদেরটা চোখে পড়েনা। এখনও পর্যন্ত পেশাদারিত্ব আসেনি ভারতীয় ফুটবলে। এছাড়া ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করতে হলে গ্রাসরুট ডেভলপমেন্ট আরও ভাল হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি ফুটবলে স্পোর্টস সাইসেন্সকে আরও ভাল করে কাজে লাগাতে হবে।

প্রশ্ন: নতুন কোনও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন কি এই বিশ্বকাপে পাওয়া যাবে?
উত্তর: সেই সম্ভবনা খুবই কম। কারণ ব্রাজিল-স্পেন-জার্মানি-ফ্রান্সের মতো দলকে টেক্কা দেওয়ার মতো দল নেই এই বিশ্বকাপে। যারা আগে জিতেছে তাদের মধ্যেই ঘোরাফেরা করবে খেতাব।
প্রশ্ন: সদ্যই আপনি একটা অ্যাকাডেমি খুলেছেন। কী পরিকল্পনা আছে নিজের অ্যাকাডেমি নিয়ে?
উত্তর: দীর্ঘ দিন ধরেই একটা অ্যাকাডেমি করার ইচ্ছা ছিল। যখন খেলতাম তখন থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম ফুটবলের উন্নতির জন্য কিছু করবো। পাশাপাশি প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও অর্থের অভাবে যারা হারিয়ে যায়, তাদের সঠিক রাস্তায় রেখে গড়ে তুলতে চেয়েছি। তাই এই অ্যাকাডেমি গড়া। বর্তমানে একটা নন রেসিডেন্টিশিয়াল অ্যাকাডেমি করা হয়েছে। এখন ৮০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এখানে। এটাকে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে চাই। রেসিডেন্সিয়াল অ্যাকাডেমি গড়তে চাই। যেখানে গরীব ছেলেরা থাকতে পারবে।

প্রশ্ন: এত তাড়াতাড়ি ফুটবলকে বিদায় জানালেন কেন?
উত্তর: কখন থামতে হবে সেটা জানা প্রয়োজন। ফর্মে থাকতে থাকতেই ছেড়ে দিতে চেয়ছিলাম খেলা। সেটাই করেছি। নাহলে এত দিনে যতটুকু সমর্থকদের মনে জায়গা করতে পেরেছি, সেটা হারাতে হতো। আমি সেটা চাইনি।












Click it and Unblock the Notifications