চলে গেলেন 'পঞ্চপাণ্ডব'-এর শেষ রথী আমেদ খান, শোকস্তব্ধ ফুটবল মহল

ড্রিবলিংয়ের জাদুকর নামে খ্যাত ছিলেন বেঙ্গালুরুর এই ফুটবলার। বুটের আগের জমানার শেষ সৈনিকের প্রয়ানে শোকস্তব্ধ ফুটবল মহল

আপ্পারাও, ভেঙ্কটেশ, ধনরাজ, সালে- পঞ্চপাণ্ডবের চারজন আগেই চলে গেছেন। এবার মহাপ্রস্থানের পথে চলে গেলেন আমেদ খান। ভারতীয় ফুটবলে সুপারস্টার কনসেপ্ট জন্মানোর আগেই সুপারস্টার ছিলেন যিনি। ইস্টবেঙ্গলকে অগণিত সম্মান এনে দেওয়া এই ভারতীয় স্ট্রাইকারের প্রয়াণে শোক স্তব্ধ গোটা ভারতীয় ফুটবল।

চলে গেলেন 'পঞ্চরান্ডবে'র শেষ রথী আমেদ খান,শোকের ছায়া

দেশের পক্ষ থেকে ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রদেয় সম্মান অর্জুন পাননি, পাননি কোনও পদ্মশ্রীও। তবুও তাঁর প্রতিভার মাপকাঠি তাতে কোনও অংশে না কমে বরং আরও অনেক গুণ বেড়ে গিয়েছিল। খেলা ছাড়ার পর পাকাপাকিভাবে চলে গিয়েছিলেন বেঙ্গালুরুতেই। কিন্তু মন পড়ে থাকত কলকাতাতেই। শেষবার শহরে এসেছিলেন প্রিয় ক্লাবের দেওয়া ভারতগৌরব সম্মান নিতে। কলকাতার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের মাধ্যম ছিল উলগানাথন।

ফুটবল মাঠে বুট যুগের আগের শেষ প্রতিভাধরের নাম যদি বলতে হয় তাহলে তা বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা আমেদ খানই। নিজের প্রতিভা নিয়ে অসম্ভব রকমের আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি। অলিম্পিক্সে খেলার জন্য দেশের টিম তৈরি হবে, আর আমি সেই টিমে থাকব না, তা হয় নাকি?‌ আমি তো ভাবতেই পারতাম না'‌-এরকমই পরিষ্কার কথা বলতে ভালবাসতেন তিনি।

১৯৪৮ সালে লন্ডন অলিম্পিক্সে খেলতে গিয়েছিল ভারতীয় ফুটবল দল। সেই দলে ছিলেন তিনি। টানা দুই দশক তিনি দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করেছেন ভারতীয় ফুটবলে। ভারতীয় ফুটবল ইতিহাসে এক সোনালী অধ্যায় তৈরি হয়েছিল তাঁর হাত ধরেই। শনিবার হঠাৎই অতীত হয়ে গেলেন কিংবদন্তি আমেদ খান।
বেঙ্গালুরুর ৭৫ নম্বর মাকান রোডের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন লাল-হলুদের বিখ্যাত '‌পঞ্চপান্ডব'‌-এর শেষ জীবিত সদস্য। আগামী ডিসেম্বরেই পূর্ণ করতেন ৯১ বছর। অসুস্থ ছিলেন, কিন্তু কখনওই তা গুরুতর ছিল না। তবে শেষ কয়েকদিনে হঠাৎই শরীরটা ভীষণ ভেঙে গিয়েছিল। মাঠে অনেক লড়াই করে আসা আমেদ খান আর এই লড়াইতে আর ফিরতে পারেননি। শনিবার দুপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

১৯২৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর জন্ম আমেদ খানের। প্রথম দল ব্যাঙ্গালোর ক্রেসেন্টস ক্লাব। তার পরে ব্যাঙ্গালোর মুসলিমে। এখান থেকেই তিনি ১৯৪৮-এর লন্ডন অলিম্পিক্সে ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিলেন। চার বছর পর ১৯৫২ হেলসিঙ্কি অলিম্পিকেও গেছেন আমেদ। যুগোস্লাভিয়ার কাছে ১০-১ ব্যবধানে হেরেছিল ভারত। কিন্তু একমাত্র গোল এসেছিল আমেদের পা থেকেই। ড্রিবলে মাতিয়ে দিতেন লেফট ইনে খেলা আমেদ। বলকে কথা বলাতে পারতেন।

১৯৪৮-এর রোভার্স ফাইনালে মোহনবাগানকে হারিয়েছিল বাঙ্গালোর মুসলিম। সেই সময়েই ইস্টবেঙ্গলের জ্যোতিষ গুহ-র জহুরির চোখ চিনে নিয়েছিল তাঁকে। মোহনবাগানকে বধ করতে এই সৈনিক দারুণ কাজ দেবে তা বুঝেছিলেন তিনি। তারপর থেকে তিনি কী করছেন গোটা ময়দান আজ তা মনে করে অশ্রুসজল।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+