বিএস ইয়েদুরাপ্পা চিরকালই বিতর্কিত, জেনে নিন তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার সম্পর্কে
কর্ণাটকের ২৩তম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বৃহস্পতিবার শপথ নিলেন বিএস ইয়েদুরাপ্পা। কেমন ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবন, জেনে নেওয়া যাক একনজরে।
কর্ণাটকের ২৩তম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বৃহস্পতিবার শপথ নিলেন বিজেপি নেতা তথা ভূমিপুত্র বিএস ইয়েদুরাপ্পা। এই নিয়ে তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তিনি শপথ নিয়েছেন। এদিন সকালে রাজ্যপাল বাজুভাই বালার পৌরহিত্যে অনাড়ম্বরভাবে শপথ নেন ইয়েদুরাপ্পা। তাঁর এদিনের শপথ অনুষ্ঠানে বিজেপির কোনও বড় নেতা উপস্থিত ছিলেন না। অমিত শাহ বা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসেননি। ইয়েদুরাপ্পাই মধ্যমণি ছিলেন। তবে শুধু আজকের বিতর্কিত শপথগ্রহণই নয়, এর আগেও মসনদে থাকাকালীন বারবার বিতর্কই সঙ্গী হয়েছে ইয়েদুরাপ্পার। কেমন ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবন, জেনে নেওয়া যাক একনজরে।

মান্ডিয়ায় জন্ম
১৯৪৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি মান্ডিয়া জেলার কেআর পেট তালুকে জন্ম বুকানাকেরে সিদ্দালিঙ্গাপ্পা ইয়েদুরাপ্পার। তাঁর পিতার নাম সিদ্দালিঙ্গাপ্পা ও মা পুট্টাতায়াম্মা। ইয়েদুরাপ্পার বয়স যখন ৪ তখন তাঁর মা মারা যান।

১৯৬৫ সালে কলেজ পাশ
মান্ডিয়ার পিইএস কলেজ থেকে ইয়েদুরাপ্পা পাশ করেন ১৯৬৫ সালে। শুরু করেন করনিকের চাকরি দিয়ে। স্যোশাল ওয়েলফেয়ার দফতরে প্রথম শ্রেণির করনিক থাকলেও ইয়েদুরাপ্পা চাকরি ছেড়ে শিকারিপুরায় চলে যান।

করনিকের জীবন শুরু
সেখানে গিয়ে তিনি বীরভদ্র শাস্ত্রীর চালকলে করনিকের চাকরি নেন। ১৯৬৭ সালে মৈত্রাদেবীকে বিয়ে করেন ইয়েদুরাপ্পা। তিনি চালকলের মালিকের মেয়ে ছিলেন। পরে শিবমোগায় একটি হাডওয়্যারের দোকান খোলেন তিনি। ইয়েদুরাপ্পার দুই ছেলে। রাঘবেন্দ্র ও বিজয়েন্দ্র। এবং তিন মেয়ে। অরুণাদেবী, পদ্মাবতী ও উমাদেবী। ২০০৪ সালে ইয়েদুরাপ্পার স্ত্রী প্রয়াত হন।

আরএসএসের সংস্পর্শে
কলেজ জীবন থেকেই ইয়েদুরাপ্পা আরএসএসের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৭০ সালে তিনি সংঘের শিকারিপুরার সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। ১৯৭২ সালে শিকারিপুরা টাউন পুরসভা ও জনসংঘের তালুক ইউনিটের সভাপতি নির্বাচিত হন।

বিজেপির নেতা
১৯৭৫ সালে ইয়েদুরাপ্পা শিকারিপুরার টাউন পুরসভার সভাপতি নির্বাচিত হন। জরুরি অবস্থার সময় তিনি বেলারি ও শিমোগার জেলে বন্দি ছিলেন। জেল থেকে বেরিয়ে তিনি বিজেপির শিমোগা জেলার সভাপতি হন ১৯৮৫ সালে। ১৯৮৮ সালে তিনি বিজেপির কর্ণাটক রাজ্য সভাপতি হন।

বিধানসভায় আগমন
১৯৮৩ সালে কর্ণাটক বিধানসভায় শিকারিপুরা থেকে জিতে যোগ দেন ইয়েদুরাপ্পা। তারপর শিকারিপুরা থেকে ছয় বার জিতেছেন ইয়েদুরাপ্পা। ১৯৯৯ সালে নির্বাচনে হারলেও উচ্চ কক্ষে বিজেপির প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। ২০০৪ সালে কর্ণাটক বিধানসভায় বিরোধী নেতা হন ইয়েদুরাপ্পা।

মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পা
২০০৭ সালে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন ইয়েদুরাপ্পা। তবে তিনি মাত্র সাতদিন পদে ছিলেন। তার আগে জেডিএস-বিজেপির জোট হয়। ঠিক হয় ২০ মাস জেডিএস ও ২০ মাস বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকবেন। জেডিএসের কুমারস্বামী ২০ মাস সরকারে থাকার পরে দায়িত্ব ছাড়তে অস্বীকার করেন ইয়েদুরাপ্পা শপথগ্রহণ করলেও সাতদিনের বেশি সরকার স্থায়ী হয়নি।

বিরোধিতার মধ্যে জয়
২০০৮ সালে বিধানসভা নির্বাচনে শিকারিপুরা থেকে ভোটে দাঁড়ান ইয়েদুরাপ্পা। তাঁর বিরুদ্ধে সমাজবাদী পার্টির নেতা এস বাঙ্গারাপ্পা দাঁড়া। তাঁকে সমর্থন দেন কংগ্রেস ও জেডিএস নেতারা। তা সত্ত্বেও ইয়েদুরাপ্পা ৪৫ হাজারের বেশি ভোটে জয়লাভ করে সরকার গড়েন।

সরকার থেকে পদত্যাগ
২০০৮ সালের ৩০ মে ইয়েদুরাপ্পা ফের মুখ্যমন্ত্রী হন ও ৩ বছর ৬২ দিন সরকার চালান। তবে লোকায়ুক্ত রিপোর্টে অবৈধ খনন নিয়ে তথ্য সামনে আসায় ইয়েদুরাপ্পা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তারপর এবার ফের তিনি মসনদে আসীন হয়েছেন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে না পারলে ফের সরে যেতে হবে।

নতুন করে বিজেপিতে যোগ
দুর্নীতি মামলায় জেল খাটার পরে ২০১২ সালের ৩০ নভেম্বর ইয়েদুরাপ্পা বিজেপি ছাড়েন ও কর্ণাটকজনতা পক্ষ নামে নতুন দল গড়েন। তবে একবছর যেতে না যেতেই তিনি ২০১৩ সালের নভেম্বরে ফের বিজেপিতে ফেরার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। এবং ২০১৪ সালের ২ জানুয়ারি বিজেপিতে যোগ দেন। এবং লোকসভায় ৩ লক্ষ ৬৩ হাজার ৩০৫ ভোটে জিতে সংসদে যান।












Click it and Unblock the Notifications