দুর্গতির মুখে বনধ ডাকা, তারপর ভুল স্বীকার, এ রাজ্যে একেবারেই ব্যাকফুটে চলে গেল বামফ্রন্ট

একেবারেই ব্যাকফুটে চলে গেল বামফ্রন্ট। একেবারেই প্রাসঙ্গিকতা হারাল। সোমবার রাজ্যে ধর্মঘট ডেকে প্রচণ্ডভাবে সমালোচিত হল বামেরা।

একেবারেই ব্যাকফুটে চলে গেল বামফ্রন্ট। একেবারেই প্রাসঙ্গিকতা হারাল। সোমবার রাজ্যে ধর্মঘট ডেকে প্রচণ্ডভাবে সমালোচিত হল বামেরা। সেই সমালোচনার যদিও বা দাওয়াই ছিল, বনধ ব্যর্থ হওয়ায় ভুল স্বীকার, তাদের একেবারেই খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিল। আসলে কোন ইস্যুতে তৃণমূল সরকারকে বেঁধা উচিত, সেই সহজ সত্যটা বুঝে উঠতে পারছে না বামেরা।

বনধ ডাকল বামেরা, মানুষ সমর্থন দিল না। রাস্তায় লোকজন তুলনামূলক কম থাকলেও জনজীবন স্বাভাবিকই ছিল। এরপর বনধের ব্যর্থতার কারণ খোঁজা অবধি বিমানবাবুর বক্তব্য ঠিকই ছিল। তারপরই আবার সেই ঐতিহাসিক ভুল।

দুর্গতির মুখে বনধ ডাকা, তারপর ভুল স্বীকার, এ রাজ্যে একেবারেই ব্যাকফুটে চলে গেল বামফ্রন্ট

ঐতিহাসিক ভুল করলেলন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান ভুল স্বীকার করেই। খেলা শেষ এখানেই। তৃণমূল বিরোধিতায় তাই রাজ্যে প্রধান মুখ এখন বিজেপিই। শিশু পাচারের মতো মারাত্মক ইস্যু পেয়েও বামফ্রন্ট কিছু করতে পারছে না। তবু বিজেপি কোমর বাঁধছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

নোট বাতিল কাণ্ডে মানুষ নাজেহাল। এটিএম, ব্যাঙ্কের সামনে এখনও দীর্ঘ লাইন। ব্যবসায় মন্দা। সাধারণ মানুষের মন ভাল নেই। এই অবস্থায় বাংলা বনধ ডাকা অপরিণামদর্শিতারই পরিচয়। মানুষের উপেক্ষায় তার সমুচিত জবাব পেয়েছে বামেরা। শুধু সমুচিত জবাবই নয়, মোদির নোট বাতিলের মতোই বাংলা বনধের হঠকারি সিদ্ধান্তের জেরে বামেদের গ্রহণযোগ্যতা একেবারেই তলানিতে পৌঁছে গিয়েছে। এমনই মনে করেন রাজনৈতিক মহল।

বামেদের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের বিপরীত পথে হেঁটে বনধের দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একই ইস্যুতে বিশাল প্রতিবাদ মিছিল করে প্রচারের সব আলো একাই কেড়ে নিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে জনসমর্থন পুরোটাই নিজের দিকে টেনে নেওয়ার পাশাপাশি তিনি নিজেকে বিরোধী মুখ হিসেবেও তুলে ধরেছেন। তারপর তো তাঁর ভারত পরিক্রমা চলছেই।

আর উল্টোদিকে বামেরা কী করল? বনধ ডেকে তো গোহারা হারলই, দিনের শেষে বনধে সাড়া না পাওয়া হতোদ্যোম বিমান বসু বলতে বাধ্য হলেন, নোট বদলকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের যে জীবনযন্ত্রণা তার প্রতিবাদে হরতাল ডেকেছিলাম। ভেবেছিলাম মানুষকে বোঝাতে পারব। দেখলাম আমাদের ভাবনাটা ভুল। মানুষ বুঝতে পারেনি। এ থেকে আমরা শিক্ষা নেব। বামেদের এই একধারা চলে আসছে। ঠিক সময়ে তারা ভুল করে, আর ভুল সময়ে তা স্বীকার করে।

জ্যোতি বসুকে প্রধানমন্ত্রী না করার সিদ্ধান্ত থেকে এই ধারায় পুষ্ট রাজ্য সিপিএম তথা বামফ্রন্ট। মেদির হঠাৎ নোট বাতিল ঘোষণা মানুষকে বিপর্যস্ত করেছে, এ নিয়ে কোনও সংশয় নেই। রোগীর চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে, বিয়ে আটকে গেছে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের মাধায় হাত পড়েছে, জন-মজুরদের কাজ নেই, কৃষক ফসল কাটতে পারছে না, নতুন চাষ শুরু করতে পারছে না, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা মিটছে না- সবই হচ্ছে হাতে নগদ টাকা দরকার মতো না থাকায়।

ব্যাঙ্ক প্রয়োজনীয় নোট দিতে পারছে না, এটিএম-এ ২৪ ঘন্টা টাকা মিলছে না। টাকা তোলার জন্য এখনও অসহায় মানুষ ব্যাঙ্কের দরজায় লাইন দিচ্ছে ভোর থেকে। তাতেও দিনে দু-পাঁচ হাজারের বেশি মিলছে না। মানুষ প্রধানমন্ত্রীর ওপর ক্ষুব্ধ ও ক্রুদ্ধ। এর বিরুদ্ধে বিরোধী সব দল নানা ভাবে প্রতিবাদ বিক্ষোভ জানাচ্ছে। বামেরাও নানা ভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছিল। মানুষ তা সমর্থনও করছিল। তারই মাঝে হঠাৎ সপ্তাহের প্রথম দিন বনধ ডেকে ভুল করে বসল। বুঝলই না এটা ভুল সময় বনধ ডাকার।

প্রশ্ন উঠেছিল, এটা কি ঠিক হল? পালিত কেশ, ভাবনায় তামাদি হয়ে যাওয়া বৃদ্ধ বাম নেতৃত্ব মনে করেছিল ঠিক সিদ্ধান্ত। জনজীবন স্বাভাবিক রেখে, আরও ব্যাপক ভাবে পথে নেমে নজরকাড়া প্রতিবাদ বিক্ষোভ জানানো। তার উল্টো পথে হাঁটল বামেরা। নাম কা ওয়াস্তে মৌলালি থেকে একটা মিছিল করল। তারপর আগে বা পরে বাম নেতৃত্বকে পথে দেখা গেল না।

আসলে বামেরা ভুলে গেছে যে তারা ক্ষমতায় নেই দীর্ঘ ৬ বছর। ক্ষমতায় থাকাকালীন যখন তখন বনধ ডেকে সর্বাত্মক করেছিল বলে আজও তা ডাকলে সর্বাত্মক হবে, এই ভাবনাটাই তো ভুল। বরং মানুষ বুঝিয়ে দিল সময় নির্বাচন ও সিদ্ধান্ত- দুটোই ভুল। যদিও বিমানবাবু বনধ সর্বাত্মক না হওয়ার কিছু সাফাই গেয়েছেন। বলেছেন, প্রচারের যথেষ্ট সময় পাইনি। অল্প সময়ে জটিল সংকটের কথায় মানুষকে বোঝানো যায়নি। তাই হরতাল সর্বাত্মক হয়নি, আংশিক প্রভাব পড়েছে।

তিনি এও বলেছেন, আজ হোক বা কাল হোক মানুষ বুঝবে আমাদের সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল। সামনে মানুষের এই যন্ত্রণা, দুর্ভোগ, সংকট আরও গভীর হবে বলেই আশঙ্কা। মাস পয়লাতেও তো সঙ্কট মোচনের কোনও সম্ভাবনা নেই। তখন কষ্টের মধ্যে দিয়ে মানুষকে আমাদের বনধ ডাকার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আজকের মূল্যায়ন বদলাতে হবে, বিমানবাবুর এ ধারণাও ভুল।

বিমানবাবু এমন সাফাইও দিয়েছেন, বনধে আরও সাড়া মিলত, যদি রাজ্য সরকার তার পুলিশ প্রশাসনকে দমন পীড়নের পথে না নামাতো। পুলিশকে নামিয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে জোর করে দোকানপাট খোলানো হয়েছে, হুমকি দিয়ে যানবাহন পথে নামানো হয়েছে। এমনকী বামাদের মিছিল আটকানো, গ্রেফতার করাও হয়েছে। এসব না করলে বনধ আরও ব্যাপকতা পেত।

মানুষ নোট বাতিলের বিপক্ষে নয়। তারা প্রয়োজনীয় নগদ হাতে না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ তিতিবিরক্ত। এই ক্ষোভকে ধূমায়িত করার বহু পথ ছিল। মোদিকে বার্তা দেওয়ার অনেক উপায় ছিল। সে পথে পা না রেখে বনধ ডেকে হাস্যাস্পদ হল। রাজনৈতিক মহল বলছে, বামেদের গ্রহণযোগ্যতা কমছে। আচমকা বনধ ডেকে তা সফল করতে না পারায় এবং ভুল স্বীকার করায় সেই অবশিষ্ট গ্রহণযোগ্যতাও হারাল বামেরা।

মানুষ বনধের বিপক্ষে পথে নেমে বামেদের সরাসরি এই বার্তা দিল যে খামখেয়ালি বা বিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত না নিলে ইস্যুর সঙ্গে সহমত পোষণ করলেও সিদ্ধান্তকে সমর্থন করবেন না তাঁরা নয়। বিমানবাবু শিক্ষা নেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু কবে আর শিক্ষা নেবেন! এবার শিক্ষা নিতে নিজেরা জায়গা ছেড়ে তরুণ-তাজা রক্ত আনুক। তবে যদি সুদিন ফেরে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+