Year Ender 2024: ভারতের টি২০ বিশ্বকাপ জেতার পথে টার্নিং পয়েন্ট! ফিরে দেখা রোহিতের সেই বিধ্বংসী ইনিংস
Year Ender 2024: চলতি বছর টি২০ বিশ্বকাপে ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম। ২০১৩ সালের পর এই প্রথম আইসিসির কোনও ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়া।
রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, রবীন্দ্র জাদেজা টি২০ আন্তর্জাতিক থেকে অবসরও নিয়েছেন বিশ্বজয়ী হওয়ার পর। এই সাফল্যে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে রোহিত শর্মার ইনিংসকে অনেকেই ধরছেন টার্নিং পয়েন্ট হিসাবে।

ভারত ছিল গ্রুপ এ-তে। আারল্যান্ডকে ৪৬ বল বাকি থাকতে ৮ উইকেটে, পাকিস্তানকে ৬ রানে ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ১০ বল বাকি থাকতে ৭ উইকেটে হারায়। এরপর প্রবল ঝড়বৃষ্টির কারণে ভারত-কানাডা ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়ে গিয়েছিল।
সুপার এইটে গ্রুপ ওয়ানের প্রথম ম্যাচে ভারত হারিয়ে দেয় আফগানিস্তানকে ৪৭ রানে। এরপর বাংলাদেশকে ভারত হারায় ৫০ রানে। তারপরই ছিল সেই গুরুত্বপূর্ণ অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ। সেমিফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে যে ম্যাচের গুরুত্ব ছিল অনেকটাই।
সেন্ট লুসিয়ার গ্রস আইলেটে সেই ম্য়াচে অজিদের ভারত হারিয়ে দেয় ২৪ রানে। অস্ট্রেলিয়া টস জিতে রান তাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ভারত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২০৫ রান তোলে। ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা খেলেছিলেন ঝোড়ো ইনিংস।
রোহিতের এই ইনিংস তাঁর টি২০ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ইনিংস পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিল ভারতের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রাস্তাও। রোহিত ১১.২ ওভারে আউট হলে ভারতের রান দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ১২৭। রোহিত করেন ৪১ বলে ৯২। সাতটি চার ও আটটি ছয় দিয়ে সাজানো সেই ইনিংস।
আয়ারল্যান্ড ম্য়াচে রোহিত ৩৭ বলে অপরাজিত ৫২ রান করে চোট নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন, তাঁর নামের পাশে লেখা রিটায়ার্ড হার্ট। এরপর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৩, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচে ৩, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৮, বাংলাদেশ ম্যাচে ২৩ রান করেন।
ফলে প্রত্যাশিত ছন্দেও ছিলেন না রোহিত। কিন্তু জ্বলে উঠলেন বড় মঞ্চেই। অজিদের বিরুদ্ধে রোহিতের সেই আগ্রাসী ব্যাটিং ম্যাচের সুর বেঁধে দেয়। ট্রাভিস হেডের ৭৬ রান সত্ত্বেও শেষ অবধি অজিরা ৭ উইকেটে ১৮১ রানের বেশি এগোতে পারেনি।
রোহিত ম্যাচের সেরা হয়ে বলেছিলেন, ভালো হাওয়া দিচ্ছিল প্রথম বল থেকেই। অস্ট্রেলিয়া বোলিংয়ের রণকৌশল বদলে হাওয়ার বিপরীতে বল করার প্ল্যান কষতেই, আমিও অফ স্টাম্পে শট খেলার বিষয়ে মনস্থির করে ফেলি। একদিকেই শট খেলার ভাবনা ছেড়ে মাঠের নানা প্রান্তে শট খেলার পরিকল্পনা করি।
রোহিতের কথায়, উইকেট ভালো ছিল। এ ধরনের আগ্রাসী ব্যাটিং অনেক বছর ধরেই করেছি। এই ম্যাচেও সবকিছু ভালোভাবে হওয়ায় তৃপ্ত। আমার কাছে শতরান বা অর্ধশতরান গুরুত্ব নয়। একইভাবে ধারাবাহিকতা দেখিয়ে ব্যাটিং করাই আমার পরিকল্পনা থাকে। বড় রান করার পাশাপাশি পরের শট আমি কী খেলব সেটা ভাবতে বোলারদের বাধ্য করাটাও গুরুত্বপূর্ণ। সেটা এই ম্যাচে করতে পেরেছি।
এই জয়ের সুবাদেই ভারতের সেমিফাইনালে ওঠা নিশ্চিত হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়া চলে যায় খাদের কিনারায়। পরবর্তীকালে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করে আফগানিস্তানও। তাতে অজিরা ছিটকে যায় সুপার এইট থেকেই।
ভারত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ৬৮ রানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। সেই ম্য়াচেও রোহিত ৩৯ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তিনি ৫ বলে ৯ রান করেন। ব্রিজটাউনে ফাইনালে প্রোটিয়াদের ৭ রানে হারিয়ে টি২০ বিশ্বকাপ খেতাব জেতে ভারত।












Click it and Unblock the Notifications