Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

সৌরভের প্রতি চ্যাপেলের প্রতিহিংসামূলক অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন যশপাল, জানুন কীভাবে

গ্রেগ চ্যাপেল প্রতিহিংসামূলক আচরণ করছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে। সফল প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের সঙ্গে যে ব্যবহার করা হচ্ছে তা সমর্থনযোগ্য নয়। প্রকাশ্যে সৌরভের সমর্থনে ২০০৫ সালে এভাবেই সরব হয়েছিলেন প্রাক্তন জাতীয় নির্বাচক যশপাল শর্মা। মহারাজের পাশে দাঁড়ানোয় শরদ পওয়ার জমানায় তার উপর কোপও নেমে এসেছিল। যদিও ক্রিকেটার সৌরভের মতোই নির্বাচক হিসেবে এরপর কামব্যাক করেছিলেন যশপালও।

প্রতিবাদী মুখ

প্রতিবাদী মুখ

যশপাল শর্মা নির্বাচক হিসেবে সরব হয়েছিলেন তৎকালীন ভারতীয় দলের কোচ গ্রেগ চ্যাপেলের নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে। ২০০৫ সালের নভেম্বরে নির্বাচকমণ্ডলী তাঁকে সরিয়েও দেওয়া হয়। এরপর তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, চ্যাপেল যাঁদের পছন্দ করেন না তাঁদের টার্গেট করা হচ্ছে। চ্যাপেলের ইচ্ছাতেই বাদ পড়েছেন সৌরভ। চ্যাপেলের টার্গেটের তালিকাতে নাম ছিল বীরেন্দ্র শেহওয়াগ, হরভজন সিং ও জাহির খানের। তাঁর সততা নিয়ে চ্যাপেল প্রশ্ন তোলায় ভারতের তৎকালীন কোচের আচরণে স্তম্ভিতও হয়ে গিয়েছিলেন যশপাল। ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যকে জগমোহন ডালমিয়ার লোক বলেও অভিহিত করা হয়েছিল। যশপাল তখন বলেছিলেন, দেশের হয়ে গর্বের সঙ্গে আমি ক্রিকেট খেলেছি। আমার দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার উনি কে? শরদ পাওয়ার বিসিসিআইয়ের শীর্ষে আসীন হওয়ার পরই সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল যশপাল শর্মা, প্রণব রায় ও গোপাল শর্মাকে। তাঁদের জায়গায় নির্বাচক করা হয়েছিল ভূপিন্দর সিং, রঞ্জীব বিসওয়াল ও সঞ্জয় জাগদালেকে। দেশের হয়ে ৩৭টি টেস্ট ও ৪২টি ওয়ান ডে খেলা যশপাল সৌরভকে দলে ফেরানোর পক্ষে জোর সওয়াল করেছিলেন এবং চেয়েছিলেন ২০০৫ সালেই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের দলে রাখা হোক মহারাজকে।

সেই সময়

সেই সময়

খারাপ ফর্ম, কনুইয়ের চোট এবং চ্যাপেলের সঙ্গে সংঘাতের কারণ দেখিয়েই সৌরভকে ওয়ান ডে সিরিজের দল থেকে বাদ দিয়েছিলেন নির্বাচকরা। চ্যাপেল চেয়েছিলেন তখনই সৌরভকে টেস্ট দল থেকে ছেঁটে ফেলতেও। সেটা অবশ্য পারেননি যশপালদের প্রতিরোধেই। ২০০৫ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে রান না পেলেও বুলাওয়ে টেস্টে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ১০১ রান করেছিলেন সৌরভ। এরপর কোন যুক্তিতে সৌরভকে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট দলে রাখা হবে না, তা নিয়ে সরব হয়েছিলেন তিন নির্বাচক। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ ও পরে পাকিস্তান সফরে সৌরভ বড় রান না পাওয়ায় তাঁকে ছেঁটে ফেলেছিলেন চ্যাপেলরা। যদিও ২০০৬ সালে টেস্ট দল থেকে বাদ পড়ার পর ওই বছরেই জাতীয় দলে মহারাজ কামব্যাক করেছিলেন জোহানেসবার্গ টেস্টে দুরন্ত অপরাজিত অর্ধশতরানের মাধ্যমে।

চেন্নাইয়ের বৈঠক

চেন্নাইয়ের বৈঠক

তবে শ্রীলঙ্কা সিরিজে সৌরভকে দলে রাখতে হওয়ায় খানিকটা তেঁতো গিলতে হয়েছিল চ্যাপেল, কিরণ মোরেদের। এমনকী নির্বাচকমণ্ডলীর প্রধান কিরণ মোরে-র এক বিবৃতির বিরোধিতাতেও সরব হন যশপাল শর্মা ও গোপাল শর্মা। তাঁরা তখন জাতীয় নির্বাচক হিসেবে প্রাক্তন। মোরে নির্বাচকমণ্ডলীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব শেষের আগে একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন, তিন নির্বাচক শ্রীলঙ্কা সিরিজের দল নির্বাচনের বৈঠকে এসে জানিয়েছিলেন এই দল তাঁরা চান। বৈঠকে ছিলেন কোচ গ্রেগ চ্যাপেল ও অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়। এরপর আর কোনও আলোচনাই হয়নি। জাহির খান, দীনেশ কার্তিক ও ধীরাজ যাদবের জায়গায় দলে রাখা হয়েছিল সৌরভ, ধোনি ও রুদ্রপ্রতাপ সিংকে। সৌরভকে রাখা হয়েছিল ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে। মোরের সেই বক্তব্যকে সমর্থন করেন ভাগবৎ চন্দ্রশেখরও। যে তিন নির্বাচকের দিকে মোরের আঙুল ছিল তাঁরা হলেন যশপাল, গোপাল ও প্রণব।

মোরের মিথ্যাচারের প্রতিবাদ

মোরের মিথ্যাচারের প্রতিবাদ

চেন্নাইয়ের সেই দল নির্বাচনের বৈঠক নিয়ে এরপরই যশপাল বলেন, এই ধরনের বৈঠকে সকলেরই মতামত দেওয়ার অধিকার থাকে। আমিও দিয়েছি। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সর্বসম্মতভাবে, কারও একক সিদ্ধান্তে নয়। আমি আমার অবস্থানও স্পষ্ট করেছি। সৌরভ ওয়ান ডে-তে ফর্মে নেই, তিনি বিশ্রাম নিয়েছেন। তবে টেস্টে তিনি যেভাবে খেলেছেন, বিশেষ করে আগের জিম্বাবোয়ে সফরেই শতরান রয়েছে, তাতে তাঁকে টেস্ট দলে রাখাই উচিত। দেশের মানুষ, মিডিয়া সকলেই সেটাই মনে করেন। একজন সফল ভারত অধিনায়কের সঙ্গে যে ব্যবহার করা হচ্ছে তা কাম্য নয়। এখনও অনেক ক্রিকেট অবশিষ্ট রয়েছে সৌরভের মধ্যে। এমনকী আমরা নির্বাচকমণ্ডলী থেকে সরার পরেও তো সৌরভ পাকিস্তান সফরের দলে রয়েছেন। ফলে আমাদের ভাবনা ভুল ছিল না। যশপালের কথার রেশ ধরেই গোপাল শর্মাও বলেছিলেন, সর্বসম্মতভাবেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তাছাড়া তখন কেন এ সব কথা মোরে বলেননি? তখনই তো প্রেস কনফারেন্সে বলতে পারতেন। তখন বলেছিলেন, সৌরভকে ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে নেওয়া হয়েছে। কেউ বলছেন না জাহিরকে আমরা বাদ দিয়েছি। ধোনি বা আরপি-ও যোগ্য হিসেবেই সুযোগ পেয়েছেন। আসলে হতাশা থেকেই যাওয়ার আগে এ সব বলছেন মোরে। ২০০৮ সালে ফের জাতীয় দলের নির্বাচক হিসেবে কামব্যাক করেছিলেন যশপাল।

ছবি- ডিডি নিউজ

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+