ঋদ্ধিমান সাহা ফের মুখ খুললেন! বোর্ডের কাছে কি জানাবেন হুমকি দেওয়ায় অভিযুক্ত সাংবাদিকের নাম?
ঋদ্ধিমান সাহার চাঞ্চল্যকর পোস্টে শোরগোল পড়ে গিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটে। ঋদ্ধির সাক্ষাতকার নিতে না পেরে তাঁকে হুমকি দিয়েছিলেন এক সাংবাদিক। হোয়াটসঅ্যাপে সেই হুমকির স্ক্রিনশট টুইটারে পোস্ট করে দেন ঋদ্ধি। ভারতীয় টেস্ট দল থেকে বাদ পড়ার পর। এরপরই অনেক তারকা ক্রিকেটার ঋদ্ধিকে পরামর্শ দেন ওই সাংবাদিকের নাম প্রকাশ্যে আনার জন্য।
|
ঋদ্ধির টুইটে তোলপাড়
বীরেন্দ্র শেহওয়াগ, হরভজন সিং থেকে শুরু করে আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলে ইন্ডিয়ান ক্রিকেটারস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য প্রজ্ঞান ওঝা- অনেকেই ঋদ্ধিমানের পাশে থাকার বার্তা দেন। এমনকী তাঁরা এটাও বলেন, ঋদ্ধিমানকে যে সাংবাদিক হুমকি দিয়েছেন তাঁর নাম প্রকাশ্যে আনা হলে তাঁকে বয়কটের পথেও হাঁটবেন অনেক ক্রিকেটার। এ বিষয়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিসিসিআই সঠিকভাবে যে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না তা বুঝিয়ে টুইট করেন ভারতের প্রাক্তন কোচ রবি শাস্ত্রী। এই বিষয়ে সৌরভের অগ্রণী ভূমিকা পালন করা উচিত বলে মনে করছেন অনেকেই।
|
নাম প্রকাশের দাবি
এই পরিস্থিতিতে গতকালই জানা যায় গোটা ঘটনার তদন্ত করবে বিসিসিআই। ঋদ্ধিমান সাহার কাছে ঘটনা পরম্পরা ও অভিযুক্ত সাংবাদিকের নামও জানতে চাওয়া হবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম তথা সাংবাদিকদের উপর নতুন বিধিনিষেধ চালুর ভাবনাও রয়েছে বিসিসিআইয়ের। বোর্ডসূত্রে খবর, ভারতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের ইন্টারভিউ নিতেও বোর্ডের মিডিয়া ম্যানেজারকে জানাতে হবে। সবুজ সঙ্কেত মিললে তবেই সাক্ষাতকার নেওয়া যাবে, নচেৎ নয়। এমনকী কোনও ক্রিকেটার সাংবাদিক বৈঠক করলেও তা বোর্ড নিযুক্ত মিডিয়া ম্যানেজারের সামনেই করতে হবে। ক্রিকেটার বা সাংবাদিক, যে বা যাঁরাই নিয়ম ভাঙবেন তাঁদের জরিমানা বা সাসপেনশনের মুখে পড়তে হতে পারে। যদিও এখনও বিসিসিআই এ ব্যাপারে কিছুই জানায়নি। তবে ঋদ্ধিমানের অভিযোগ যে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডকে ভালোই নাড়িয়ে দিয়েছে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।

অনড় সুপারম্যান
ঋদ্ধিমান সাহা একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, এখনও বোর্ডের তরফে এ ব্যাপারে আমার কাছে কিছু জানতে চাওয়া হয়নি। তবে ওই সাংবাদিকের নাম জানতে চাইলেও আমি তা প্রকাশ্যে আনব না। কারও কেরিয়ারের ক্ষতি করা আমার লক্ষ্য ছিল না। সে কারণে তাঁর নাম আমি পোস্টে রাখিনি। এটাই আমার বাবা-মায়ের শিক্ষা। আমি শুধু টুইটে এটাই দেখাতে চেয়েছিলাম যে, সংবাদমাধ্যমে এমন মানুষও রয়েছেন যাঁরা এমনটা করে থাকেন। একজন ক্রিকেটারের ইচ্ছাকে মর্যাদা তাঁরা দিতে চান না।

বোর্ডের আশ্বাস
ঋদ্ধিমানের কথায়, আমার টুইটে এটাই বুঝিয়ে দিয়েছি যেটা করা হয়েছে সেটা সঠিক নয়। যিনি করেছেন তিনি সেটা ভালোই বুঝতে পারছেন। আমার টুইটের পর আশা করি এমন পরিস্থিতিতে কোনও ক্রিকেটারকে পড়তে হবে না। এই বার্তাই দিতে চেয়েছি, যেটা হয়েছে সেটা ভুল ছিল এবং তা আর পরে হওয়া উচিত নয়। সাহাকে প্রজ্ঞান ওঝা ফোন করেছিলেন। সাহা বিষয়টি নিয়ে এগোতে চাইলে, এমনকী আইনি পথে গেলে বোর্ড তাঁর পাশে থাকবে বলে আশ্বস্তও করেন। তবে আর জলঘোলা চান না ঋদ্ধিমান।

কেন সরলেন?
রঞ্জি না খেলা নিয়ে যে কথা উঠছে সে প্রসঙ্গে ঋদ্ধিমান বলেন, ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়া বা না-পাওয়ার সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই। ব্যক্তিগত কারণেই সরে দাঁড়িয়েছি। আমার স্ত্রী ডেঙ্গু থেকে সেরে উঠছে, সেটাই রঞ্জি না খেলার মূল কারণ। কিন্তু পরিস্থিতি বদলাতেই পারে, সব বিকল্পই খোলা রয়েছে। খেলার প্রতি ভালোবাসা যতদিন অটুট থাকবে ততদিন খেলা চালিয়ে যেতে চান ঋদ্ধিমান। সেটা ভারতীয় দল বা রাজ্য দল বা আইপিএল দলে সুযোগ পান বা না পান। ক্লাব ও অফিস ক্রিকেটও চুটিয়ে খেলতে বদ্ধপরিকর ঋদ্ধিমান।












Click it and Unblock the Notifications