ঋদ্ধিমান সাহা বাংলা ছাড়ার সিদ্ধান্তে অনড়, কার্তিকের কামব্যাক নিয়ে নির্বাচকদের দ্বিচারিতার দিকে ইঙ্গিত!
ঋদ্ধিমান সাহার সঙ্গে কথা হয়েছে সিএবি সভাপতি অভিষেক ডালমিয়ার। কিন্তু বরফ গলল না। বলা ভালো, ঋদ্ধিমানকে ধরে রাখতে ব্যর্থ সিএবি। রাজ্য ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার যুগ্ম সচিব দেবব্রত দাস ঋদ্ধিমানের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু তারপরও ওই কর্তার বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি সিএবি, বহাল তবিয়তে ওই কর্তাকে বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের পাশেও দেখা গিয়েছে। সবমিলিয়ে একরাশ অভিমান নিয়েই বাংলা ছাড়ার সিদ্ধান্তে অটল ঋদ্ধিমান।
বাংলাকে বাই বাই
দুবাইয়ে সপরিবারে ছুটি কাটিয়ে সম্প্রতি শহরে ফিরেছেন ঋদ্ধিমান। ঠাসা ক্রীড়াসূচির ফাঁকে রীতিমতো অক্সিজেন নিয়ে, দারুণ উপভোগ করেছেন কয়েকটি দিন। কালীঘাট ক্লাবে তিনি যে ক্রিকেট প্রশিক্ষণ শিবিরের সঙ্গে যুক্ত কলকাতায় এসেই সেখানে অনুশীলন করানো শুরুও করে দিয়েছেন। তারই ফাঁকে সংবাদমাধ্যমকে ঋদ্ধি বলেন, বাংলার হয়ে খেলব না। সে কারণেই এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) চেয়েছি সিএবির কাছে। সভাপতি অভিষেক ডালমিয়ার সঙ্গেও কথা হয়েছে। তিনি শহরের বাইরে রয়েছেন। ফিরলে তাঁর সঙ্গে দেখা হবে। সম্ভবত সেদিনই বাংলার ক্রিকেটের সঙ্গে এত বছরের সম্পর্ক চুকে যাবে ঋদ্ধির। কয়েকটি রাজ্যের সঙ্গে কথা হলেও আগামী মরশুমে কোথায় খেলবেন তা খোলসা করেননি ঋদ্ধি। তিনি এখন গুজরাত টাইটান্সের সদস্য। ফলে গুজরাতের পাশাপাশি ঋদ্ধি ত্রিপুরার হয়েও খেলতে পারেন বলে জোরালো জল্পনা রয়েছে।

বাংলার রঞ্জি ব্যর্থতা
বাংলা রঞ্জি ট্রফি সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছে। অনেকেরই আক্ষেপ, অভিজ্ঞ ঋদ্ধিমান থাকলে মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে জয় ছিনিয়ে নিতে অসুবিধা হতো না। অভিষেক পোড়েলকে বাংলার ক্রিকেট মহল যতই ঋদ্ধির উত্তরসূরী ভাবুক না কেন, এখনও দুজনের মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক। বাংলা ছিটকে যাওয়ায় মন খারাপ ঋদ্ধিরও। কিন্তু সিএবি যদি দেবব্রত দাসের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কোনও ব্যবস্থা নিত, তাহলে ঋদ্ধিমানকেও বাংলা ছাড়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরিয়ে আনা যেত বলে মনে করছেন অনেকেই। এক কর্তার পাশে দাঁড়াতে গিয়ে ঋদ্ধিমান সাহাকে হাতছাড়া করা কোন বুদ্ধিতে সেটাই স্পষ্ট নয়। বাংলার রঞ্জি জয়ের খরা কেন মিটছে না সে প্রশ্নের উত্তরে ঋদ্ধি বলেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে যতটা প্রত্যেকের দেওয়া উচিত, সেখানে হয়তো কিছুটা খামতি থেকে যাচ্ছে। সে কারণেই শেষরক্ষা হচ্ছে না।
অভিমানী ঋদ্ধিমান
ঋদ্ধিমান বলেন, বাংলার হয়ে যাঁরা রঞ্জি খেলছিলেন ভালো পারফরম্যান্সের পর তাঁদের মেসেজ পাঠিয়েছি। এমনকী বিদেশে থাকাকালীনও আমি আর মহম্মদ শামি বাংলার প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে সিএবি সভাপতি, ফিজিওদের সঙ্গে কথা বলেছি। বাংলার প্রতি টান যদি না থাকত তাহলে সেটা কি করতাম? তবে বাংলার হয়ে এত বছর খেলার বছর যেটা হলো, সেটা আমার প্রাপ্য ছিল না বলেই মনে করি।
কার্তিকের কামব্যাক, নির্বাচকদের দ্বিচারিতা?
ঋদ্ধিমান সাহা এবারের আইপিএলে গুজরাত টাইটান্সের হয়ে ওপেন করে ১১টি ম্যাচে ১ বার অপরাজিত থেকে ৩১৭ রান করেছেন। সর্বাধিক স্কোর ৬৮। গড় ৩১.৭০, স্ট্রাইক রেট ১২২.৩৯। তিনটি অর্ধশতরান পেয়েছেন। সেখানে দীনেশ কার্তিক ১৬টি ম্যাচে করেন ৩৩০ রান, সর্বাধিক অপরাজিত ৬৬, গড় ৫৫, স্ট্রাইক রেট ১৮৩.৩৩। কার্তিকের অর্ধশতরান ১টি। ৩৭ বছরের কার্তিক ভারতীয় টি ২০ দলে কামব্যাক করেছেন। অথচ ঋদ্ধিকে টিম ম্যানেজমেন্ট বলে দিয়েছেন, তাঁকে আর ভারতীয় দলে ভাবা হচ্ছে না। ঋদ্ধিকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, নির্বাচকরা বলেছিলেন তাঁরা নতুন মুখ দেখতে চান। হয়তো কার্তিককে আমার চেয়ে দেখতে ভালো। সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত।
(প্রচ্ছদের ছবি- ঋদ্ধিমান সাহার ইনস্টাগ্রাম)












Click it and Unblock the Notifications