১১০ বছরে আউট বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সের টেস্ট ক্রিকেটার, অফুরান প্রাণশক্তির নেপথ্যে কী ছিল?
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সের টেস্ট ক্রিকেটার আইলিন অ্যাশের জীবনের ইনিংস থামল ১১০-এ। কিংবদন্তি ক্রিকেটারের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড। ইংল্যান্ডে মহিলাদের ক্রিকেটে ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্লেয়ার কোনর ক্রিকেটের প্রতি অ্যাশের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, যে কিংবদন্তিদের কাছে আমাদের ক্রিকেট ঋণী, তাঁদের অন্যতম অ্যাশ। শোকবিহ্বল হয়েই তাঁকে আমাদের বিদায় জানাতে হচ্ছে।

(ছবি- দূরদর্শন স্পোর্টস টুইটার)
১৯৩৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয় আইলিন অ্যাশের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে ও পরে মিলিয়ে মোট সাতটি টেস্ট খেলেছেন। ২৩ গড়ে নিয়েছেন ১০ উইকেট। ডানহাতি সিমার অবসর নেন ১৯৪৯ সালে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে আইলিন হোয়েল্যান পদবিতে তিনটি টেস্ট খেলেছিলেন। ইংল্যান্ডের হয়ে ব্যাট হাতে একবার দুই অঙ্কের রান পেলেও জীবনের ইনিংসে ঝকঝকে শতরানই করে গেলেন তিনি!
The thoughts of everyone at the ECB are with the family and loved ones of Eileen Ash, who has died aged 110.
— England Cricket (@englandcricket) December 4, 2021
২০১৭ সালে ভারতকে হারিয়ে মহিলাদের বিশ্বকাপ জিতেছিল ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচে লর্ডস বেল বাজাতে দেখা গিয়েছিল আইলিন অ্যাশকে। ক্লেয়ার কোনর জানিয়েছেন, ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিদার নাইটের সঙ্গে বিশ্বকাপের ৬ মাস আগে তাঁর কাছে গিয়েছিলাম। তখন তাঁর বয়স ১০৫, সেই অভিজ্ঞতা দারুণ ছিল। হিদারকে যোগা শিখিয়েছিলেন অ্যাশ। একসঙ্গে স্নুকার খেলে, চা খেয়ে এবং অ্যাশের সময়কার সংবাদপত্রে চোখ বুলিয়ে বেশ কিছুটা সময় কাটিয়েছিলাম। তিনি জানিয়েছিলেন সিডনির এক ফরাসি রেস্তোঁরায় কীভাবে ১৯৪৯ সালে নিজের ব্যাটে ডন ব্র্যাডম্যানের সই করিয়েছিলেন। তিনি এক অসাধারণ নারী ছিলেন এবং এক বর্ণময় জীবন অতিবাহিত করলেন।
Eileen Ash, who has died at the age of 110, celebrated her 106th birthday in 2017 by taking to the skies in a Tiger Moth. pic.twitter.com/UGU2Ij9IoB
— Sky Sports Cricket (@SkyCricket) December 4, 2021
১৯১১ সালে লন্ডনে জন্ম। পাঁচ বছর বয়স থেকেই ক্রিকেট খেলা শুরু করেছিলেন আইলিন। সিভিল সার্ভিসে কর্মরত ছিলেন, তার ফাঁকেই ক্রিকেট খেলতেন। নর্দাম্পটনে মহিলাদের টেস্ট ক্রিকেটের পঞ্চম ম্যাচেই তাঁর অভিষেক হয়। ৫৬ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট দখল করেছিলেন। টেস্ট ক্রিকেটে বড় রান না করতে পারলেও ভিক্টোরিয়া কাউন্টি একাদশের বিরুদ্ধে বল হাতে ১০ রানের বিনিময়ে পাঁচটি বোল্ড করার পাশাপাশি অপরাজিত শতরান করেছিলেন। ১০০তম জন্মদিনে অ্যাশকে সাম্মানিক আজীবন সদস্যপদ দেয় এমসিসি। ৯৮ বছর বয়স অবধি গল্ফ খেলতেন। অনেকেরই কৌতূহল ছিল তাঁর শতায়ু হওয়ার নেপথ্য রহস্য নিয়ে। আইলিন জানিয়েছিলেন, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং প্রায় প্রতিদিনই তিনি দুই গ্লাস রেড ওয়াইন পান করেন। ১০৫ বছরেও টিনএজারদের মতো যোগাভ্যাস করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।












Click it and Unblock the Notifications