বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তে কেন বিপাকে আইপিএলের দলগুলি? বাধ্যতামূলক হওয়া ডেক্সা স্ক্যানের বিষয়ে বিস্তারিত জানুন
এশিয়া কাপ ও টি ২০ বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে চোট-আঘাতের বিষয়টি। এবার থেকে তাই আরও সতর্ক বিসিসিআই ও ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল হোক, কিংবা দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ, ফিটনেস যাতে প্রথম সারির ক্রিকেটারদের ছিটকে না দেয় সেজন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল বিসিসিআই।

বিসিসিআইয়ের রিভিউ মিটিং
আজ মুম্বইয়ে ছিল ভারতীয় পুরুষ দলের পারফরম্যান্স রিভিউ মিটিং ডেকেছিল বিসিসিআই। সভাপতি রজার বিনি, সচিব জয় শাহ, ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা, হেড কোচ রাহুল দ্রাবিড়, এনসিএ-র ডিরেক্টর অব ক্রিকেট ভিভিএস লক্ষ্মণ ও নির্বাচকমণ্ডলীর প্রধান চেতন শর্মা বৈঠকে ছিলেন। ইএসপিএন ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে উল্লেখ, ওয়ার্কলোড ও ইনজুরি ম্যানেজমেন্ট নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। চলতি বছর চোটের কারণে একাধিক প্রথম সারির ক্রিকেটারকে পায়নি ভারত। নতুন বছরে সেই সমস্যা দূর করতে বদ্ধপরিকর সকলেই।

চিন্তা ফ্র্যাঞ্চাইজিদের
দীপক চাহার চোটের কারণে সিংহভাগ সময়ই বাইরে কাটিয়েছেন। জসপ্রীত বুমরাহর পিঠে স্ট্রেস ফ্র্যাকচার রয়েছে। গোড়ালির চোট সারিয়ে এখনও ফিট হতে পারেননি রবীন্দ্র জাদেজা। চোট সারিয়ে মাঠে ফিরলেও হার্দিক পাণ্ডিয়া, মহম্মদ শামিদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের উপর চলতি বছর গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিসিসিআই কর্তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুরুত্ব দিতে চাইছেন। একইসঙ্গে আইপিএলের জৌলুস যাতে না কমে সে ব্যাপারটিও মাথায় রাখতে হচ্ছে। তাই ঠিক হয়েছে, যে ক্রিকেটাররা চোটপ্রবণ তাঁদের দিকে বিশেষ নজর রাখা হবে। বিশ্বকাপের জন্য ২০ জন ক্রিকেটারকে বেছে নিয়ে তাঁদের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ওয়ার্কলোড ও ইনজুরি ম্যানেজমেন্ট
বারবারই দেখা গিয়েছে, এনসিএ থেকে ফিট সার্টিফিকেট নিয়ে আসার পর খুব বেশি ম্যাচ না খেলেই সেই ক্রিকেটার ফের চোট পাচ্ছেন। এই সমস্যার গভীরে ঢোকার কথা বলেছিলেন রোহিত শর্মা। তিনি স্পষ্ট মন্তব্য করেছিলেন, এই ক্রিকেটারদের দিকে আরও বেশি নজর দেওয়া হোক। কেন না, ১০০ শতাংশ ফিট হয়েই তিনি যাতে ভারতীয় দলে আসেন। জানা গিয়েছে, এদিনের বৈঠকে এনসিএ-র মেডিক্যাল টিম ওয়ার্কলোড ও ইনজুরি ম্যানেজমেন্টের বিষয়ে বেশ কিছু সুপারিশ জমা দিয়েছেন। বোর্ডের সেন্ট্রাল পুলে থাকা ক্রিকেটারদের জন্য এই ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড রোডম্যাপ প্রযোজ্য হবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই চিন্তা বাড়বে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির। বিশ্বকাপে খেলবেন এমন তারকাদের ক্ষেত্রে তাই সব আইপিএল ম্যাচ খেলা সম্ভব নাও হতে পারে। আর সেটাই সমস্যায় ফেলতে পারে সংশ্লিষ্ট দলগুলিকে। এই ক্রিকেটারদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের জন্য সরাসরি ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলবে এনসিএ।

ডেক্সার সাহায্য
ইয়ো ইয়ো টেস্ট ফেরানোর পাশাপাশি ফিটনেসের মানোন্নয়নে ডেক্সা স্ক্যানের সুপারিশ করা হয়েছে। কোনও প্লেয়ার খেলার জন্য পুরো ফিট কিনা তা সুনিশ্চিত করবে ডেক্সা। বডি কম্পোজিশন ও বোন হেল্থ মাপার ক্ষেত্রে এটি খুব কার্যকরী একটি পরীক্ষা। ১০ মিনিট ধরে চলে এই টেস্ট, বোন মাস, ফ্যাট টিস্যু, শরীরের পেশী সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য মেলে এর মাধ্যমে। আইপিএলে ভালো খেললেই কোনও ক্রিকেটার এবার সরাসরি ভারতীয় দলে আসতে পারবেন না। ফিটনেস সংক্রান্ত নানা বিষয় কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে রেখে পর্যাপ্ত ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে হবে। টি নটরাজন, বরুণ চক্রবর্তীর মতো প্লেয়াররা খেলার থেকে বেশি চোট পেয়ে বাইরে থেকেছেন। তাই উদীয়মান ক্রিকেটারদের কন্ডিশনিংয়ের জন্য গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ঘরোয়া টুর্নামেন্ট খেলার উপরেই।












Click it and Unblock the Notifications