কেন হারল কলকাতা! কোথায় খামতি রয়ে গেল সিএসকে ম্যাচে, অন্তর্তদন্ত উঠে এল কোন কারণ
চেন্নাইয়ের ব্যাটিং বিস্ফোরণে কলকাতা কার্যত ঝড়কুটোর মতো উড়ে যায়। কখনও মনে হয়নি ম্যাচ বাঁচানো যেতে পারে। কেন এভাবে হারল কলকাতা?
চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে বলা যায় জেতা ম্যাচ মাঠে ফেলে এসেছে কলকাতা। চিপক স্টেডিয়ামে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে বোর্ডে ২০২ রান তুলেও ম্যাচ চেন্নাইকে উপহার দিতে হয়েছে। প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছে কলকাতা। মাঝে কিছুটা ঝিমিয়ে পড়লেও শেষদিকে আন্দ্রে রাসেল বিস্ফোরণে কেকেআর দুশো রানের লক্ষ্যমাত্রা টপকে যায়। রাসেল ৩৬ বলে ৮৮ রান করেন। তা সত্ত্বেও পাল্টা চেন্নাইয়ের ব্যাটিং বিস্ফোরণে কলকাতা কার্যত ঝড়কুটোর মতো উড়ে যায়। কখনও মনে হয়নি ম্যাচ বাঁচানো যেতে পারে। কেন এভাবে হারল কলকাতা? অন্তর্তদন্তে কোন কারণ উঠে এল।

ওপেনাররা ব্যর্থ
প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও ওপেনিংয়ে জুটি হিসাবে খেলতে ব্যর্থ হলেন ক্রিস লিন ও সুনীল নারিন জুটি। লিন এখনও সেভাবে ছন্দ খুঁজে পাননি। নারিন চূড়ান্ত অ্যাটাক করতে গিয়ে যেকোনও সময় উইকেট ছুঁড়ে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করছেন। চেন্নাই ম্যাচে ওপেনিং জুটি একটু বেশিক্ষণ টিঁকে থাকলে ভালো হতো নিঃসন্দেহে।

মিডল অর্ডারে ব্যর্থতা
দ্বিতীয় ম্যাচেও মিডল অর্ডার ভালো খেলতে পারেনি। নীতীশ রানা, রবীন উথাপ্পারা এখনও ছন্দ খুঁজে পাননি। দুজনেই ভালো শুরু করেছিলেন তবে তাকে বড় রানে বদলাতে পারেননি। লোয়ার মিডল অর্ডারে রাসেল বড় রান না করলে আরও ফাঁপড়ে পড়ত দল। অধিনায়ক কার্তিক দুই ম্যাচেই ত্রিশের কাছাকাছি রান করেছেন। প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ছিলেন। চেন্নাই ম্যাচে আউট হয়ে যান।

পাওয়ার প্লে-তে ব্যর্থতা
পাওয়ার প্লে-র প্রথম ছয় ওভারে সত্তরের বেশি রান তুলে ফেলেছিল চেন্নাই। বিস্ফোরক শুরু করেন শ্যেন ওয়াটসন ও অম্বাতি রায়াডু। মাত্র ৩.৪ ওভারে ৫০ রান বোর্ডে তুলে ফেলে চেন্নাই। সেই ছন্দ পরের দিকে ব্যাটসম্যানরাও ধরে রেখেছেন। ওয়াটসন ১৯ বলে ৪২ রান ও রায়াডু ৩৯ রান করে যান।

জঘন্য বোলিং
বিনয় কুমার, আন্দ্রে রাসেলরা শেষের ওভারগুলিতে জঘন্য বোলিং করেছেন। ডেথ ওভারে যে ধরনের বল করতে হয় ঠিক তার উল্টো করেছেন। কখনও বাউন্সার, কখনও ফুল টস দিয়ে চেন্নাই ব্য়াটসম্য়ানদের সুবিধা করে দিয়েছেন। যার ফলে বোলিংয়ে সেই ধার ম্য়াচের কোনও সময়ই দেখা যায়নি কেকেআর-এর। শেষ ওভারে বাকী ছিল ১৭ রান। বিনয় কুমারের বলে তা একবল বাকী থাকতেই চেন্নাই তুলে দেয়।

বিলিংসের ইনিংস
মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে পার্টনারশিপে দলকে টেনে তুলছিলেন স্যাম বিলিংস। ধোনি আউট হওয়ার পর রুদ্রমূর্তি ধরেন। মাত্র ২৬ বলে অর্ধশতরান করে দলকে জয়ের রাস্তায় ফিরিয়ে আনেন বিলিংস। শেষ চারওভারে ৫১ রান বাকী ছিল। বিলিংসের মারে একেবারে জয়ের কাছে এসে যায় চেন্নাই। তিনি আউট হওয়ার পরে জাদেজা ও ব্র্যাভো বাকী রান তুলে দেন।












Click it and Unblock the Notifications