টি ২০ অধিনায়কত্ব ছাড়া থেকে নামিবিয়া ম্যাচে ব্যাট না করার কারণ জানালেন বিরাট কোহলি
টি ২০ ক্রিকেটে বিরাট কোহলিকে আর অধিনায়ক হিসেবে দেখতে পাওয়া যাবে না। দেশের অধিনায়ক হিসেবে ৫০তম টি ২০তম ম্যাচে বিরাট আজ দুবাইয়ে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে টস জিতলেন। ম্যাচও জিতলেন ৯ উইকেটে। গ্রুপ ২-এ সর্বাধিক এবং বাকি ১২টি দলের মধ্যে নেট রান রেটে দ্বিতীয় থেকেও পয়েন্টে পিছিয়ে থাকায় বিদায় নিতে হল ভারতকে।

নামিবিয়া ম্যাচের শেষে বিরাটকে আবেগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অবশ্যই স্বস্তি পেলাম। দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া আমার কাছে গৌরবের। কিন্তু সময়োপযোগী কিছু সঠিক সিদ্ধান্তও নিতে হয়। আমি মনে করি, আমার ওয়ার্কলোড ম্যানেজ করার জন্য টি ২০ অধিনায়কত্ব ছেড়ে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি। টানা ৬-৭ বছর ধরে লাগাতার ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব করা একজন ক্রিকেটারের পক্ষে যে বিরাট ধকলের, অনেক কিছু নিঙড়ে নেয় সেটাও উঠে এসেছে কোহলির কথায়। বিরাট বলেন, আমরা দল হিসেবে অনেক ভালো পারফর্ম করেছি, অনেক মজা করেছি, আমাদের দলে দারুণ সব ক্রিকেটার থাকার কারণেই এটা সম্ভব হয়। আমরা জানতাম আজ জিতলেও আমরা এই বিশ্বকাপে পরের ধাপে যেতে পারব না। কিন্তু আমরা একসঙ্গে অনেক ম্যাচ খেলে উপভোগ করেছি, টি ২০ ম্যাচ জিতেছিও। টি ২০ বিশ্বকাপে ভারতের সহ অধিনায়ক রোহিত শর্মাই যে পরবর্তী অধিনায়ক হতে চলেছেন সেটাও এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিরাট।

প্রথম দুটি পরাজয়ের কারণ হিসেবে সাহসী না থাকার কারণ এদিন ফের উল্লেখ করে বিরাট কোহলি বলেন, আমরা এমন দল নই যে টসকে অজুহাত হিসেবে দেখাব। টি ২০ ক্রিকেট মার্জিনের খেলা। প্রথম দুটি ম্যাচে ইনটেন্ট দেখিয়ে যদি ২ ওভারও আমরা ভালো খেলতে পারতাম ম্যাচের ফল অন্যরকম হতে পারত। যদিও বিরাটের সাহসী থাকতে না পারার তত্ত্বকে মানতে চাননি সুনীল গাভাসকর। তিনি বলেন, এটা মানতে হবে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের টপ ক্লাস বোলিংয়ের মোকাবিলা আমাদের ব্যাটাররা করতে পারেননি। ভারতের মূল সমস্যা রয়েছে পাওয়ারপ্লে-তে। শুধু এই বিশ্বকাপে নয়, আগেও হয়েছে। ব্যাটিংয়ের সময় অ্যাপ্রোচ বদলাতে হবে। ভারতের যে ব্যাটিং গভীরতা তাতে অল আউট হওয়ার প্রশ্ন নেই। রবীন্দ্র জাদেজা সাতে, রবিচন্দ্রন অশ্বিন আটে। ফলে পাওয়ারপ্লে-তে ওপেনারদের পাশাপাশি বিরাট, হার্দিক, পন্থদের আক্রমণাত্মক খেলে প্রথম ৬ ওভারে বেশি রান করতে হবে। আর ফিল্ডিংয়ের মান বাড়াতে হবে।

রবি শাস্ত্রী-সহ ভারতের কোচিং স্টাফদেরও শেষ অ্যাসাইনমেন্ট ছিল আজ। বিরাটকে ম্যাচের শেষে বুকে জড়়িয়ে ধরেন রবি শাস্ত্রী। বিরাট বলেন, আমরা সকলেই বর্ধিত পরিবারের সদস্য হয়ে উঠেছিলাম বিগত কয়েক বছর ধরে। ভারতীয় ক্রিকেটের প্রতি তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য। আমরা সকলে মিলে দলের ভালো পরিবেশ তৈরিতেও সক্ষম হয়েছিলাম। অধিনায়ক হিসেবে যে আবেগের বহিঃপ্রকাশ দেখাতেন সেটা বদলাবে না বলেও উল্লেখ করেছেন বিরাট। তাঁর কথায়, ইনটেনসিটি যদি না থাকে তাহলে আমি মনে করব আর বেশিদিন আমার পক্ষে খেলা সম্ভব নয়। অধিনায়ক যখন ছিলাম না তখনও বোঝার চেষ্টা করতাম ম্যাচ কোনদিকে যাচ্ছে। আমি কিছু না করে শুধু দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না। উল্লেখ্য, ভারতের সফলতম টি ২০ অধিনায়কের তালিকায় মহেন্দ্র সিং ধোনির পর দ্বিতীয় স্থানে রইলেন বিরাট কোহলি। ধোনির নেতৃত্বে ৭২টি ম্যাচে ভারত ৪২টিতে জিতেছে, হেরেছে ২৮টিতে, টাই ২টি। সাফল্যের হার ৫৮.৩৩ শতাংশ। বিরাটের নেতৃত্বে ভারত ৫০টি টি ২০ আন্তর্জাতিকে ৩০টি ম্যাচ জিতেছে, ১৬টিতে হেরেছে, সাফল্যের হার ৬৪ শতাংশ। টি ২০ অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি রান করার নিরিখে বিরাট রইলেন অ্যারন ফিঞ্চের পরেই। ৪৭টি ইনিংসে ১৫৭০ রান করেছেন, গড় ৪৭.৫৭, ১৩টি অর্ধশতরান রয়েছে।
আজ তিনে না নেমে সূর্যকুমার যাদবকে পাঠানোর কারণ প্রসঙ্গে বিরাট বলেন, এবারের বিশ্বকাপে সূর্য সেভাবে গেম টাইম পাননি। প্রথম ম্যাচের পর চোট পান। আফগানিস্তান ম্যাচে ব্যাট করতে পারেননি। সকলেই চান বিশ্বকাপের মতো আসরে কিছু করে দেখাতে। সূর্যও যাতে টি ২০ বিশ্বকাপ ভালো স্মৃতি নিয়ে ফিরতে পারে সে কারণেই তাঁকে ওই পজিশনে পাঠাই।












Click it and Unblock the Notifications