অনবদ্য বিরাট, এই ভাবেই হয়তো মহানক্ষত্ররা ফিরে আসেন রূপকথার উপাখ্যান রচনা করে
অনবদ্য বিরাট, এই ভাবেই হয়তো মহানক্ষত্ররা ফিরে আসেন রূপকথার উপাখ্যান রচনা করে
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এশিয়া কাপে শতরান পাওয়ার আগে পর্যন্ত কম কথা হয়নি বিরাট কোহলিকে নিয়ে। বারবার তাঁর দিকে ধেয়ে আসছিল একের পর এক প্রশ্ন। ৫০, ৬০ কিংবা ৭০ রান করেও শুনতে হচ্ছিল রান নেই বিরাটের ব্যাটে। বিশেষজ্ঞ এবং সমর্থকদের কাছে এমন ভাবে বিদ্ধ হতে হয়েছে তাঁকে যে ভিতর থেকে নড়ে গিয়েছিলেন। প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক স্বয়ং জানিয়েছিলেন যে এক মাস ব্যাটে তিনি হাত দেননি।

কিন্তু দিনের শেষে একটা কথা তো রয়েছেনই! ফর্ম সাময়িক সময়ের জন্য কিন্তু ক্লাস পার্মানেন্ট। সেটারই প্রমাণ দিলেন বিরাট কোহলি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তিনি যখন ব্যাট হাতে নামেন তখন ভারতের রান ৭/১। নন স্ট্রাইকারে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন কী ভাবে রোহিত শর্মা, সূর্যকুমার যাদবের মতো সতীর্থদের উইকেট নিয়ে ভারতের উপর চাপ বাড়িয়ে জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল পাকিস্তান। তাঁর নিজের ভুল ডাকের জন্য অক্ষর প্যাটেলকে ফিরে যেতে হয়েছে ডাগ আউটে। কিন্তু কখনওই নিজের উপর চাপ নেননি বিরাট। তিনি জানেন, তাঁর কী ক্ষমতা। কত ম্যাচ যে একার কাঁধে রান তাড়া করা ভারতীয় দলকে জিতিয়েছেন তার কোনও পরিসংখ্যান গুনে রাখাও সম্ভব নয় পরিসংখ্যানবীদদের কাছে। কারণ তিনি মাঠে নামা মানে শুধু রান আর রান নয়, একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের উপর বাড়তি স্নায়ুর চাপও বটে।
একের পর এক উইকেট যখন তাঁর দল হারিয়েছে তখন অভিজ্ঞ বিরাট অপেক্ষা করেছেন সঠিক সময়ের। ধীরে ধীরে ১০ ওভারের পর থেকে হাত খোলা শুরু করেন যা বিস্ফোরণের আকার নেয় ১২-১৩ ওভার থেকে। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৭২টি শতরান, ১২৬টি অর্ধশতরান কিন্তু বিরাট নিজের কেরিয়ারের সেরা ইনিংস মেনে নিলেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মেলবোর্নে খেলা তাঁর এই রোমহর্ষকর ইনিংসকে। সময় নিয়েছেন কিন্তু লক্ষ্যে অটুট থেকে ভারতের ইনিংস গড়ার সঙ্গেই জয়ের পথ প্রসস্থ করেছেন। তাসের ঘরের আকার নেওয়া দলের মেরদণ্ড হয়ে উঠেছে। এ দিন দিল্লির এই ক্রিকেটারের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৬টি চার এবং ৪টি ছয় দিয়ে। শাহিন শাহ আফ্রিদি হোক কিংবা শাদাব খান, পাকিস্তানের যুযুধান বোলারদের বিরাটের সামনে লেগেছে চুনোপুঁটি। এই ম্যাচে বিরাটের স্ট্রাইক রেট ছিল ১৫৪.৭২।
বড় খেলোয়াড়রা জ্বলে ওঠার জন্য বেছে নেন বড় মঞ্চকে। এই ম্যাচের আগে ভারত একটা মাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল, সেই ম্যাচে বিফল হয়েছিলেন বিরাট। বাউন্সারে আউট হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আসল জায়গায় বিরাটের ব্যাট ঝলসে উঠে জানান দিল, সর্বাকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠরা খেলা তুলে রাখেন সঠিক জায়গার জন্য। বিরাটের প্রশংসায় রবিবার কলম ধরেছেন সচিন তেন্ডুলকর। বিরাটের অনুপ্রেরণা এবং ক্রিকেট ঈশ্বর সচিন তেন্ডুলকর লিখেছেন, "নিঃসন্দেহে এটা তোমার জীবনের সেরা ইনিংস কোহলি। তোমাকে খেলতে দেখাটা দারুণ অনুভূতি। ১৯তম ওভারে রউফের বলে যে ছয়টা তুমি মেরেছিল তা অসাধারণ ছিল।"
শুধু সচিন নন, বিরাটের প্রশংসায় কলম ধরেছেন অভিেক বচ্চন, জাভেদ আখতার, সুস্মিতা সেনের মতো অভিনয় জগতের বিশিষ্টরা।












Click it and Unblock the Notifications