মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে সুসম্পর্ক খোলসা করলেন বিরাট, ব্যর্থ অধিনায়কের তকমা প্রসঙ্গেও অকপট কোহলি
মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে সুসম্পর্ক থেকে আইসিসি ট্রফি জিততে না পারায় ব্যর্থ অধিনায়কের তকমা লাভ। আরসিবি পডকাস্টে নানা বিষয়ে আলোকপাত বিরাট কোহলির।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৫ হাজার রান পূর্ণ করেছেন বিরাট কোহলি। দীর্ঘ খরা মিটিয়ে টি ২০ আন্তর্জাতিক ও একদিনের আন্তর্জাতিকে শতরান পেয়েছেন। এবার অপেক্ষা টেস্ট শতরানের। তারই মধ্যে ক্রিকেট অধ্যায়ের ভালো, খারাপ- নানা দিকে আলোকপাত করলেন কিং কোহলি। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পডকাট সিজন-২-এ।

ব্যর্থ অধিনায়ক
অধিনায়ক হিসেবে আইপিএল জিততে পারেননি। আইসিসি ইভেন্টেও চ্যাম্পিয়ন করাতে পারেননি দেশকে। কোহলি বলেন, টুর্নামেন্ট খেলতে নামি জেতার লক্ষ্যে। আমি ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল খেলি, ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলি, আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছিলাম, ২০২১ সালের টি ২০ বিশ্বকাপে আমরা নক আউটে যেতে পারিনি। আইসিসি টুর্নামেন্টগুলির নিরিখে আমাকে ব্যর্থ অধিনায়ক হিসেবেই দেখা হয়। তবে আমি নিজেকে এমন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করি না। দলগতভাবে যা অর্জন করতে পেরেছি এবং সংস্কৃতিতে যে ধরনের বদল আনতে পেরেছি সেটাই আমার কাছে সব সময় গৌরবের। একটা টুর্নামেন্ট কিছু সময়ের জন্য হয়। কিন্তু সংস্কৃতি গড়ে তোলার কাজ চলে অনেক সময় ধরে। তার জন্য ধারাবাহিকতা দরকার। টুর্নামেন্ট জেতার চেয়েও যেখানে চারিত্রিক দৃঢ়তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কিং কোহলির দৃষ্টিভঙ্গি
বিরাট কোহলির কথায়, আমি প্লেয়ার হিসেবে বিশ্বকাপ জিতেছি। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছি। পাঁচবার টেস্টে ১ নম্বর দল হিসেবে ভারত যে গদা পেয়েছিল তারও অঙ্গ ছিলাম। এমনও তো অনেকেই আছেন যাঁরা বিশ্বকাপ জিততে পারেননি। আমি ২০১১ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হতে পেরে ভাগ্যবান বলে নিজেকে মনে করি। বড় রান করার ধারাবাহিকতা দেখিয়ে যেভাবে দলে জায়গা নিশ্চিত করতে পেরেছিলাম সেটিও ছিল অনবদ্য। সচিন তেন্ডুলকর নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছেন। অথচ আমি প্রথমবার বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়েই কাপ জেতার সাক্ষী থাকতে পেরেছিলাম।

মাহির মেসেজ
স্ত্রী অনুষ্কা শর্মা ও ছোটবেলার কোচের অবদানের কথাও উঠে এসেছে বিরাট কোহলির কথায়। অনুষ্কাকে নিজের শক্তির বিরাট উৎস হিসেবেও অভিহিত করেছেন। তাঁদের বাইরে যে মানুষটার অবদানের কথা বিরাট বারবার উল্লেখ করে থাকেন তিনি হলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। বিরাট বলেন, ধোনি আমার সঙ্গে নিজে থেকেই যোগাযোগ করেন, এটা কার্যত বিরল এক ঘটনা। কেন না, যদি আমি দিনে লাগাতার তাঁকে ফোন করে যাই, তিনি ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রেই ফোন ধরবেন না। ফোনের কাছেই থাকেন না ধোনি। তিনি দুবার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ধোনি প্রথম যে মেসেজটি করেছিলেন তাতে লেখা ছিল, নিজেকে শক্তিশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে এমনভাবে করা দরকার যাতে সব কিছু কেমন চলছে এমন ধরনের প্রশ্ন করতেই মানুষ ভুলে যান। ধোনি নিজে এমন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন, সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি এমনটা বলেছিলেন।

ধোনির সঙ্গে সুসম্পর্ক
বিরাটের কথায়, আমি সব সময় নিজেকে আত্মবিশ্বাসী, মানসিকভাবে শক্তিশালী বলে ভেবে এসেছি। যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলা করে পথ খুঁজে বের করা ও পথ দেখানোর মতো কেউ হিসেবে নিজেকে ভেবেছি। কিন্তু মানুষকে কখনও কখনও কয়েক কদম পিছিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনাও করতে হয়। বিরাট আরও জানান, কীভাবে তাঁকে ২০১২ সাল থেকে গ্রুম করেছেন ধোনি। সহ অধিনায়ক হিসেবে ধোনির সঙ্গে মাঠেও অনেক কথা হতো। অনেক ইনপুট দিতেন। পিচ ও কন্ডিশন কেমন, কীভাবে পার্টনারশিপ ভাঙা যায়, এ সব নানা কথা হতো। ধোনি তাঁর উপর আস্থাও দেখাতেন। ধোনির প্রতি সম্ভ্রম আজও অটুট বলেই জানিয়েছেন কোহলি।
King Kohli talks about captaincy, 2014 and 2018 England tours, the bad form he went through last year, fun off field anecdotes and more, on @eatsurenow presents #RCBPodcast https://t.co/nvZIBuwNKP#PlayBold @imVkohli
— Royal Challengers Bangalore (@RCBTweets) February 25, 2023












Click it and Unblock the Notifications