ওভালে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ধসে বিরাট জয় ভারতের, ১৪ বছর পর ইংল্যান্ডে সিরিজ জয়ের হাতছানি
লন্ডন অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে পারল না ইংল্যান্ড। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে সিরিজ হারার পর এবার ভারতের বিরুদ্ধে পাঁচ টেস্টের সিরিজে ফের পিছিয়ে পড়লেন জো রুটরা। ৪১ তম ওভারে ১০০ রানে প্রথম উইকেট পড়ার পর ইংল্যান্ড শেষ ২১০ রানে। ম্যাঞ্চেস্টারে সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে প্রবল চাপে থাকবে থ্রি লায়ন্স। লর্ডসের মতো ওভালেও ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন আপে ধস নামিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল বিরাট কোহলির ভারত। অস্ট্রেলিয়ার পর ইংল্যান্ডে এবার সিরিজ জয়ের হাতছানি ভারতের সামনে। শুক্রবার থেকে ম্যাঞ্চেস্টারে শুরু শেষ টেস্ট। ২০০৭ সালের পর ইংল্যান্ডে টেস্ট সিরিজ জেতেনি ভারত। উমেশ যাদবের ঝুলিতে তিন উইকেট। তবে ম্যাচ ঘোরাল বুমরাহ-জাদেজার যুগলবন্দিই।

ঐতিহাসিক জয় ভারতের
লর্ডস টেস্টের শেষ দিন ভারতের চার উইকেট তোলার পর ৫১.৫ ওভারে মাত্র ১২০ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। আজ ভারতের টেস্ট জিততে দরকার ছিল ১০ উইকেট। প্রথম সেশনে ২ উইকেট পড়ার পর দ্বিতীয় সেশনে ইংল্যান্ড ৬ উইকেট হারাতেই নিশ্চিত হয়ে যায় ভারতের জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা। অবশেষে চা বিরতির পরেই এল ঐতিহাসিক জয়। বিনা উইকেটে ৭৭ রান নিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরুর পর মাত্র ২১০ রানেই গুটিয়ে গেল ইংল্যান্ড, ৯২.২ ওভারে। প্রথম সেশনে ইংল্যান্ডের ২ উইকেট পড়ে। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর ধস নামায় অবশ্য রুটরা সমস্যায় পড়ে যান। শেষ সেশনে ভারতের দরকার ছিল ২ উইকেট। চা বিরতির পর ক্রেগ ওভার্টনকে বোল্ড করে দেন উমেশ যাদব। জেমস অ্যান্ডারসনকেও ২ রানে কট বিহাইন্ড করেন উমেশ। রিভিউ নিয়ে বাঁচতে পারেননি জিমি। ১৮.২ ওভারে ২ টি মেডেন নিয়ে ৬০ রানে ৩ উইকেট নিলেন উমেশ। জসপ্রীত বুমরাহ ২২ ওভারে ৯টি মেডেন-সহ ২৭ রানের বিনিময়ে নেন ২ উইকেট। রবীন্দ্র জাদেজা ৩০ ওভারে ১১টি মেডেন নিয়ে ৫০ রানে ২ উইকেট পান। শার্দুল ঠাকুরও ৮ ওভার হাত ঘুরিয়ে একটি মেডেন নিয়ে ২২ রানের বিনিময়ে পেলেন ২ উইকেট। ১৯৭১ সালে ওভাল টেস্ট জিতে সিরিজ জেতার পর এই প্রথম এই স্টেডিয়ামে কোনও টেস্ট জিতল ভারত। বিরাটরা জিতলেন ১৫৭ রানে।

বুমরাহ-জাদেজা-শার্দুলে বাজিমাত
জসপ্রীত বুমরাহ-র বিধ্বংসী স্পেল, রবীন্দ্র জাদেজার ঘূর্ণির পাশাপাশি ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা প্রশংসা করছেন শার্দুল ঠাকুরের। আজ চা বিরতির কিছুক্ষণ আগেই জো রুটের উইকেট ভেঙে ভারতের জয় কার্যত নিশ্চিত করে দেন শার্দুল। এই নিয়ে তিনি দুবার আউট করলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ককে। শার্দুল ওভাল টেস্টের দুই ইনিংসেই অর্ধশতরান করেছেন। বিশেষ করে তাঁর প্রথম ইনিংসের হাফ সেঞ্চুরিটি এসেছিল দলের অত্যন্ত প্রয়োজনের সময়। দলের ১২৭ রানে ঋষভ পন্থ আউট হয়েছিলেন। সাত উইকেটে ১২৭ থেকে ভারত ১৯০-এ পৌঁছায় শার্দুলের ৫৭ রানের সুবাদে। সুনীল গাভাসকর বলছিলেন, শার্দুলের ইনিংসগুলি এ কারণেই গুরুত্বপূর্ণ নাহলে ইংল্যান্ডকে অনেক কম রান তাড়া করতে হতো। বাকি ধারাভাষ্যকাররাও শার্দুলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সবমিলিয়ে ওভাল টেস্টের রং বদলানোয় অলরাউন্ডার শার্দুলের অবদান তাই অস্বীকারের উপায় নেই।

বারবার ব্যাটিং ধস ইংল্যান্ডের
ওপেনিং জুটিতে ১০০ রান ওঠার পর এই পরাজয় শেষ টেস্টের আগে চিন্তায় ও চাপে রাখবে ক্রিস সিলভারউড, জো রুটদের। ২০১৬ সালে ঢাকায় দ্বিতীয় ইনিংসে ওপেনিং জুটিতে ১০০ রান ওঠার পরেও ৬৪ রানের মধ্যে ১০টি উইকেট হারিয়েছিল। বাংলাদেশ সেই টেস্ট জিতেছিল ১০৮ রানে। চলতি বছরেও জো রুট-নির্ভর ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ধস বারবার দেখা গিয়েছে। আমেদাবাদ টেস্টে ২ উইকেটে ৭৪ থেকে ১২২ রানে অল আউট হয়েছিল রুটবাহিনী, ৩৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে। ওই টেস্টেই ৩ উইকেটে ৫০ থেকে ৮১ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড, শেষ সাত উইকেট পড়েছিল ৩১ রানে। ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টে ভারতের বিরুদ্ধেই তিন উইকেটে ১৩৮ থেকে ১৮৩ রানে শেষ হয়ে যায় রুটের দল। সাত উইকেট পড়ে ৪৫ রানে। গল টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৪ উইকেটে ৩৭২ রান থেকে ইংল্যান্ড গুটিয়ে গিয়েছিল ৪২১ রানে, ৪৯ রানের মধ্যে পড়েছিল ৬ উইকেট। চলতি সিরিজেই লর্ডস টেস্টে পাঁচ উইকেটে ৯০ থেকে ১২০ রানে অল আউট হয় রুটের দল। ৩০ রানে পড়েছিল শেষ ৫ উইকেট। চেন্নাইয়ে ভারতের বিরুদ্ধে ৪ উইকেটে ৯০ থেকে ইংল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ১৫৬ রান, পাঁচ উইকেট পড়েছিল ৩৫ রানে। আমেদাবাদে পাঁচ উইকেটে ১৬৬ রান থেকে শেষ পাঁচ উইকেট ৩৯ রানে হারিয়ে রুটের ইংল্যান্ড শেষ হয়েছিল ২০৫ রানে।












Click it and Unblock the Notifications