বিরাট কোহলির ব্যাটিংয়ে ফারাক গড়ে দিয়েছেন ত্রয়ী! একজন কোলাঘাটের, বাকিরা কোথাকার?

বিরাট কোহলির ব্যাটিংয়ে ফারাক গড়ে দিয়েছেন ত্রয়ী! একজন কোলাঘাটের, বাকিরা কোথাকার?

বিরাট কোহলি নতুন বছর তথা বিশ্বকাপের বছর শুরু করেছেন দারুণভাবে। ভারত-শ্রীলঙ্কা সিরিজে দুটি শতরান হাঁকিয়ে হয়েছেন সিরিজের সেরা। ২০২২ সালে একদিনের আন্তর্জাতিকে মোট যত রান করেছেন, এবার তিনটি ম্যাচেই তাঁর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছেন কিং কোহলি। তাঁকে দেখা যাচ্ছে চেনা মেজাজে। ব্যাটিংয়ের এই উন্নতিতে এবার তিনজনের অবদানের কথা উল্লেখ করলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক।

থ্রোডাউন বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা

তাঁর ব্যাটিংয়ে বড় ফারাক তিনজন গড়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিরাট। তিন থ্রোডাউন বিশষজ্ঞ- ডি রাঘবেন্দ্র, নুয়ান সেনেরীরত্নে ও দয়ানন্দ গরানির ভূমিকার প্রশংসা করেছেন একদিনের আন্তর্জাতিকে ৪৬টি শতরানের মালিক। থ্রোডাউন বিশেষজ্ঞদের হাতে থাকে সাইডআর্ম। ক্রিকেটের সরঞ্জামটি দেখতে অনেকটা লম্বা চামচের মতো। মাথার দিকে বল আটকে জোরে তা ব্যাটারদের দিকে ছোড়েন থ্রোডাউন স্পেশ্যালিস্টরা। নেট প্র্যাকটিসের সময় ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার বেগে বলটি ব্যাটারদের দিকে লাগাতার ছুড়তে থাকেন তাঁরা।

বিরাট অবদানের কথা স্বীকার

তিরুবনন্তপুরমে ভারত ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় নিশ্চিত করার পর বিরাট কোহলি বলেন, আমাদের খেলার সময় তিনজন থ্রোডাউন স্পেশ্যালিস্টই আমাদের বিশ্বমানের অনুশীলনের বন্দোবস্ত করে দেন। ঘণ্টায় ১৪০-১৫০ কিলোমিটার বেগে বল করা বোলারদের মতোই নেটে তাঁরা আমাদের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তাঁরা আমাদের আউট করার চেষ্টা করে থাকেন এবং তাঁরা নিয়মিত আমাদের পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। বিরাট আরও বলেন, স্বীকার করতে দ্বিধা নেই এই ধরনের অনুশীলন করার আগে আমি যেমন ব্যাট করতাম এবং এখন যেমন করি তার মধ্যে গুণগত মানের ফারাক গড়ে দিয়েছেন এই থ্রোডাউন বিশেষজ্ঞরাই। ফলে এই তিনজনের অবদান অবিশ্বাস্য। তাঁরা আমাদের নিয়মিত অনুশীলন করান এবং তাঁদের মুখ ও নাম মনে রাখতেই হবে। কেন না, আমাদের সাফল্যের জন্য এঁরা খুবই পরিশ্রম করে থাকেন। কোহলির কথার রেশ ধরে শুভমান গিল বলেন, এই তিনজন মিলে ১২০০ থেকে ১৫০০ উইকেটের মালিক হতে পারতেন। তাঁরা আমাদের সব ধরনের পরিস্থিতির অনুশীলনই করান।

কর্নাটকের রঘু, শ্রীলঙ্কার সেনেবীরত্নে

কর্নাটকের রঘু, শ্রীলঙ্কার সেনেবীরত্নে

থ্রোডাউন বিশেষজ্ঞ হিসেবে ভারতীয় দলে প্রথম যোগ দেন কর্নাটকের রাঘবেন্দ্র। রঘু নামেই তিনি বেশি পরিচিত। ন্যাশনাল ক্রিকেট আকাদেমিতেও তিনি কাজ করেছেন। সচিন তেন্ডুলকর, মহেন্দ্র সিং ধোনিদের তিনি নিয়মিত থ্রোডাউন প্র্যাকটিস করাতেন। এরপর বাঁহাতি পেসারদের মোকাবিলা করতে ২০১৮ সালে বিসিসিআই ভারতীয় দলের জন্য নিয়ে আসে শ্রীলঙ্কার সেনেবীরত্নেকে।

কোলাঘাটের দয়ানন্দ

কোলাঘাটের দয়ানন্দ

এই তিনজনের সঙ্গেই রয়েছেন কোলাঘাটের দয়ানন্দ গরানি। একটা সময় কোলাঘাট থেকে কলকাতা আসার বাসের ভাড়া জোগাড়় করাই তাঁর কাছে বড় সমস্যার কারণ ছিল। কলকাতা ক্রিকেট খেলেও খুব বেশি এগোতে পারেননি। কলকাতা পুলিশের হয়ে ক্রিকেট খেলেছেন, গ্রিন পুলিশ হিসেবেও কাজ করেছেন। ছোটবেলায় জিমন্যাস্ট ছিলেন। সুঠাম চেহারার দয়ানন্দ বাউন্সার, ইয়র্কার, ফুল লেংথ ডেলিভারির অনুশীলন করাতে পারদর্শী। ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন কাঙ্ক্ষিত জায়গায় নিয়ে যেতে পারেননি। কলকাতা পুলিশের দেবরাজ নাহাটার পরামর্শে ফিটনেস ট্রেনিং ও ম্যাসিওর কোর্স করেন। বাংলা দলের ট্রেনার সঞ্জীব দাস ওরফে হারুর থেকেও এই কাজ শিখেছেন। ২০১৬ সালে অন্ধ্র রঞ্জি দলে যোগ দিয়ে থ্রোডাউনে বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠেন। ছিলেন আইপিএলের পাঞ্জাব ফ্র্যাঞ্চাইজিতেও। ২০২০ সালে রঘু কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পর দয়ানন্দ ভারতীয় দলে ডাক পান এবং সাপোর্ট স্টাফ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+