খাওয়াজার শতরানে সিডনিতে চালকের আসনে অস্ট্রেলিয়া, স্মরণীয় কামব্যাকের নেপথ্যে কীভাবে করোনা?

করোনায় কামব্যাক! আর সেটাই স্মরণীয় হয়ে রইল অসাধারণ শতরানে। আড়াই বছর পর অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট খেলতে নেমে চ্যালেঞ্জিং পিচে সেঞ্চুরি হাঁকালেন উসমান খাওয়াজা। টিভি ক্যামেরায় দেখা পড়ল ছোট্ট কন্যাসন্তানকে কোলে নিয়ে স্ত্রী-র উচ্ছ্বাসের মুহূর্ত। আউট হয়ে ফেরার সময়েও সিডনির এসসিজিতে দর্শকরা উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানালেন শতরানকারী খাওয়াজাকে। তাঁর শতরানই যে চতুর্থ টেস্টেও চালকের আসনে রাখল অজিদের।

অ্যাডভান্টেজ অস্ট্রেলিয়া

অ্যাডভান্টেজ অস্ট্রেলিয়া

অ্যাশেজের প্রথম তিনটি টেস্টে জিতে সিরিজ ইতিমধ্যেই পকেটে পুরে ফেলেছে প্যাট কামিন্সের অস্ট্রেলিয়া। সিডনিতেও অজিদের হারের আশঙ্কা নেই। বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম দিনের শেষে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ছিল ৪৬.৫ ওভারে ৩ উইকেটে ১২৬। আজ প্রথম সেশনে বৃষ্টির কারণে বার তিনেক খেলা সাময়িক বন্ধ রাখতে হয়। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে অজিদের স্কোর দাঁড়ায় ৭৮ ওভারে ৩ উইকেটে ২০৯। চা বিরতিতে স্কোর ছিল ১১১ ওভারে ৬ উইকেটে ৩২১। এরপর ১৩৪ ওভারে ৮ উইকেটে ৪১৬ রান তুলে প্রথম ইনিংস ডিক্লেয়ার করে অস্ট্রেলিয়া। দিনের শেষে ৫ ওভার খেলে ইংল্যান্ড কোনও উইকেট না হারিয়ে ১৩ রান তুলেছে। যদিও স্লিপে ডেভিড ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ দিয়েও মিচেল স্টার্কের নো বলের কারণে জীবন পেয়েছেন জ্যাক ক্রলি।

করোনায় কামব্যাক খাওয়াজার

এদিন সবচেয়ে আলোচিত উসমান খাওয়াজার শতরান। পাকিস্তানে জন্ম হলেও পরিবারের সঙ্গে চলে এসেছিলেন অস্ট্রেলিয়ায়। এরপর ২০১১ সালে প্রথম মুসলিম ক্রিকেটার হিসেবে খাওয়াজার অভিষেক হয়েছিল এই সিডনিতেই, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অ্যাশেজ টেস্টে। কিন্তু দলে নিয়মিত জায়গা পাননি। ২০১১ সালেই খাওয়াজার মতো টেস্ট অভিষেক হয় নাথান লিয়ঁর। তিনি সিডনিতে খেলছেন ১০৪তম টেস্ট। চলতি টেস্ট তাঁর কেরিয়ারের ৪৫তম। আড়াই বছর পর টেস্ট দলের প্রথম একাদশে এসেই পেলেন শতরান। ২৮ রানের মাথায় জ্যাক লিচের বলে তাঁর ক্যাচ ফেলেছিলেন জো রুট। তারপর থেকে আর কোনও সুযোগ দেননি। প্রথম একাদশে জায়গা পেলেন করোনার কারণেই। ট্রাভিস হেড করোনা আক্রান্ত হয়ে ছিটকে যান। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েই খাওয়াজা খেললেন স্মরণীয় ইনিংস।

স্মরণীয় শতরান

২০১৯ সালে লিডসে অ্যাশেজ টেস্ট শেষ খেলেছিলেন। তারপর এই সুযোগ পেলেন। ৪টি চারের সাহায্যে ১৩৫ বলের মাথায় হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। চা বিরতির আগেই পেয়ে যান কেরিয়ারের নবম শতরান। ২০১ বলে, তখনও অবধি বাউন্ডারির সংখ্যা ১১টি। চতুর্থ উইকেট জুটিতে স্টিভ স্মিথের সঙ্গে যোগ করলেন ১১৫ রান। ১৩১.৫ ওভারে খাওয়াজা বোল্ড হন স্টুয়ার্ট ব্রডের বলে। ২৬০ বলে তাঁর ১৩৭ রানের ইনিংসে রয়েছে ১৩টি চার। স্টিভ স্মিথ ৬৭ রান করেন। ১৪১ বল খেলে মেরেছেন ৫টি বাউন্ডারি। ক্যামেরন গ্রিন (৫) ও অ্যালেক্স ক্যারি (১৩) রান পাননি। অধিনায়ক প্যাট কামিন্স করেন ২৪। মিচেল স্টার্ক ৩৪ ও নাথান লিয়ঁ ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন।

ব্রডের নজির

ব্রডের নজির

খাওয়াজার উইকেটটি নিয়ে টেস্টে স্টুয়ার্ট ব্রড ১৯ বার পাঁচ উইকেট পেলেন। অ্যাশেজে তাঁর উইকেট সংখ্যা ১২৫। অ্যাশেজে সবচেয়ে বেশি ১৯৫টি উইকেট নিয়েছেন শেন ওয়ার্ন। গ্লেন ম্যাকগ্রা (১৫৭), হিউ ট্রাম্বল (১৪১), ইয়ান বোথাম ও ডেনিস লিলি (১২৮)-এর পরেই রইলেন ব্রড। জেমস অ্যান্ডারসন অ্যাশেজে পেয়েছেন ১১২টি উইকেট। অস্ট্রেলিয়া সফরে আসা কোনও দলের সবচেয়ে বেশি বয়সের পেসার হিসেবে পাঁচ উইকেট নেওয়ার নিরিখে ব্রড রইলেন স্যর রিচার্ড হ্যাডলির (১৯৮৭ সালে) পরেই। ব্রড এদিন ৫ উইকেট নিলেন ১০১ রানের বিনিময়ে। অ্যান্ডারসন, উড ও জো রুট একটি করে উইকেট পেয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ডের স্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেট পাওয়ার নিরিখে গ্রেম সোয়ানকে স্পর্শ করলেন রুট। তবে তিনি সাতটি উইকেট পেলেন ৩৪০ রান খরচ করে, সোয়ান খরচ করেছিলেন ৫৬০ রান। বোলিং গড়ে তাই এগিয়ে থেকে রুটই এখন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে সফলতম স্পিনার।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+