২৪ বছর পর পাক সফরে আসা অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হতে পারে বিভিন্ন প্রতিকূলতার, বিপদ বাড়াতে পারে অখ্যাত ক্রিকেটাররা
১৯৯৮ সালের পর প্রথম বার পাকিস্তানে পা রাখছে অস্ট্রেলিয়া
চলতি শতাব্দীতে প্রথম বার পাক দলের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ খেলতে পাকিস্তানে পা রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। এই সিরিজে যেমন দীর্ঘদিন পর অপরিচিত পরিস্থিতি, অপরিচিত প্রতিভাবান তরুণ ক্রিকেটারদের মুখোমুখি হতে হবে পাকিস্তানকে, তেমনই সব সময়ে কড়া নজরদারিতে থাকতে হবে গোটা দলকে কারণ পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে এই দেশে খেলতে আসতে অনীহা দেখিয়েছে বহু দল। ২০০৯ সালে সফররত শ্রীলঙ্কা দলের টিম বাসে লাহৌরে জঙ্গিহানাও ঘটেছিল।

১৯৯৮ সালের পর এই পাকিস্তান সফরে অস্ট্রেলিয়া:
দীর্ঘ ২৪ বছর পর পাকিস্তান সফরে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। শেষ বার অজিরা পাকিস্তান সফরে এসেছিল ১৯৯৮ সালে। পাকিস্তানে প্রায় দেড় মাসের সফরে বাবর আজমের দলের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ, তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজ এবং একটি টি-২০ ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। ২০০৯ সালে সফররত শ্রীলঙ্কার টিম বাসে জঙ্গি হানা হওয়ার পর পাকিস্তানে সিরিজ খেলতে যাওয়ার বিষয়ে অনীহা দেখিয়েছে বিশ্বের প্রথম সারির ক্রিকেট খেলিয়ে দেশগুলি। জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলি পাকিস্তান সফরে এলেও প্রথম হাইপ্রোফাইল দল হিসেবে পাক সফরে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। গত বছর সুরক্ষার কারণে নিউজিল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড পাকিস্তানে নির্ধারিত ওভারে ক্রিকেটে থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিল।

অচেনা প্রতিপক্ষ এবং পরিস্থিতি:
পাকিস্তানে এসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৯৯৮ সালে শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলেছিল অস্ট্রেলিয়া। যার ফলে পাকিস্তান এবং অস্ট্রেলিয়ার হয়ে যাঁরা সেই ম্যাচে খেলেছিলেন তাঁদের কেউই আর এই দুই দলে এখন নেই। একটান নতুন দল নতুন পরিবেশে এবং অচেনা পিচে খেলতে চলেছে। পাকিস্তান সফরে না আসার ফলে এখানকার পিচ কেমন আচরণ করবে তা নিয়েও চিন্তা থাকবে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং লাইনের। তার উপর তারুণ্য নির্ভর দল গড়েছে পাকিস্তান। অভিজ্ঞ মুখ থাকলেও দলের অধিকাংশ তরুণ ক্রিকেটার। ওডিআই বা টি-২০ ম্যাচে তরুণ পাকিস্তান দলের মুখোমুখি হলেও টেস্ট সম্পূর্ণ এক ভিন্ন ফরম্যাট। এই ফরম্যাটে অতীতে প্রতিপক্ষের ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা না থাকলে ম্যাচ প্ল্যানিং-এর ক্ষেত্রে সমস্যা হতেই পারে। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স স্বীকার করে নিয়েছেন এই পরিস্থিতি এবং প্রতিপক্ষের অধিকাংশ ক্রিকেটার তাঁর দলের ক্রিকেটারদের কাছে সম্পূর্ণ নতুন হতে চলেছে। তিনি বলেছেন, "আপনি অধিকাংশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের জানেন এবং চেনেন পরিবেশও কিন্তু এই সিরিজ অনেক কিছু অজানা প্রশ্ন আমাদের দিকে ছুঁরে দিতে চলেছে। আকর্ষণীয় এবং চ্যালেঞ্জিং হতে চলেছে এই সিরিজ।"

পিচের পরিস্থিতি:
পাকিস্তানের উইকেট সাধারণত স্পিন সহায়ক হয় কিন্তু রাওয়ালপিণ্ডিতে একটু ভিন্ন উইকেটই লক্ষ্য করা গিয়েছে অতীতেতের সিরিজগুলিতে। ২০১৯ সালে পাকিস্তানকে ঘরের মাঠে ফের টেস্ট আয়োজনের ছাড়পত্র দেওয়ার পর এখনও পর্যন্ত রাওয়ালপিণ্ডিতে তিনটি টেস্ট আয়োজিত হয়েছে। এই তিন টেস্টে পেসাররা ৫২টি উইকেট পেয়েছেন এবং স্পিনাররা পেয়েছেন ২১টি উইকেট।

শেষ পাঁচ বছরে বিদেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যর্থতা:
২০১৬ সালে নিউজিল্যান্ড সফরের পর থেকে বিগত ছয় বছরের বিদেশের মাটিতে একটি টেস্ট সিরিজও জেতেনি অস্ট্রেলিয়া। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ণ শক্তির দল পাঠিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ দিয়ে নতুন অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বে নতুন ভাবে শুরু করবে অজি বাহিনী।












Click it and Unblock the Notifications