উমরান মালিক ভারতীয় দলে, উচ্ছ্বসিত জম্মু ও কাশ্মীর! বাবাকে কোন কাজ থেকে বিরত থাকতে বললেন পেসার?
উমরান মালিকের স্বপ্নপূরণ। নেট বোলার হিসেবে ভারতীয় দলের সঙ্গে ছিলেন আগেই। গত বছর দুরন্ত গতির বোলিংয়ে নজর কাড়ার পর। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ তাঁকে ধরে রেখেছিল, এদিন জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার আগে ১৩ ম্যাচে ২১টি উইকেট ঝুলিতে পুরেছিলেন জম্মুর এই ২২ বছরের পেসার। আইপিএলের ইতিহাসে ভারতীয়দের মধ্যে সবচেয়ে জোরে বলটিও তাঁরই করা। উমরান দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি ২০ সিরিজের দলে সুযোগ পেতেই খুশির আবহ জম্মু ও কাশ্মীরে।

গর্বিত পিতা
উমরানের বাবা আবদুল রশিদ বলেন, উমরান ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহু মানুষ এসে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। বিকেল পাঁচটার পর ইন্টারনেট থেকেই খবরটা পেয়েছি। বাড়িতে উৎসবের আনন্দে মাতব। দেশের জার্সিতে উমরান মাঠে নামবেন, এর চেয়ে বড় কীর্তি আর হয় না বলেও উল্লেখ করেছেন গর্বিত পিতা। বিগত দুই মাস ধরে তিনি এই দিনটির অপেক্ষাতেই ছিলেন। উমরানকে নিয়ে খুশির খবর পেতেই জম্মুর গুজ্জর নগরের বাড়িতেও ভিড় জমান প্রতিবেশী, নিকটাত্মীয়, বন্ধুবান্ধবরা। গর্বিত পিতার কথায়, "উমরান যে পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে আইপিএলে তাতে আমরা গর্বিত। একইসঙ্গে ক্রিকেটপ্রেমীরা যেভাবে উমরানের জন্য গলা ফাটিয়েছেন তাতে পরিবারের সকলের তরফে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। গোটা দেশের সমর্থন পাচ্ছে উমরান।"
|
উমরানের কৃতিত্ব
উমরানের এই উঠে আসার পিছনে তাঁর বাবা ও মায়ের অনেক স্বার্থত্যাগ, অবদান রয়েছে। তবে এ জন্য এতটুকু কৃতিত্বের ভাগ নিতে নারাজ আবদুল রশিদ। তিনি বলেন, সাফল্য পাওয়ার ব্যাপারে উমরানের আগাগোড়া আত্মবিশ্বাস ছিল। নিজের দক্ষতা, প্রতিভার প্রতি আস্থা ছিল, কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমেই এই সাফল্য এসেছে। এটা তাঁর প্রয়াস ও উপরওয়ালার আশীর্বাদেই সম্ভব হয়েছে। কঠোর পরিশ্রমেরই এটি পুরস্কার, উপরওয়ালা আশীর্বাদ করেছেন। তাঁর কঠোর পরিশ্রমের কৃতিত্বের ভাগ আমি নেওয়ার যোগ্য নই।

রসুলের পর উমরান
পারভেজ রসুলের পর উমরান মালিকই প্রথম ভারতীয় দলে ডাক পেলেন। তিনি জম্মুরই বাসিন্দা। রণধীর সিং মানহাসের কাছে প্রথম ক্রিকেটীয় প্রশিক্ষণ পান। তারপর রাজ্য দলের পেসার রাম দয়াল উমরানকে নানা পরামর্শে সমৃদ্ধ করেছেন। সম্প্রতি মানহাস জানিয়েছিলেন, ১৭ বছর বয়সে উমরান তাঁর কাছে গিয়ে অনুরোধ করেছিলেন নেটে বল করার সুযোগ দিতে। বোলিং করতে নেমেই নজর কেড়ে নেন। এরপর একের পর এক ধাপ পেরিয়ে এবার মিলল ভারতীয় দলে সুযোগ। রাম দয়াল উমরানকে বোলিংয়ের জন্য প্রথম জুতোজোড়াটি দিয়েছিলেন। জানা গিয়েছে, উমরানের বাড়িটি তাওয়াই নদীর কাছে। নদী তীরবর্তী এলাকায় প্রচুর বালি। উমরান সেখানেই দৌড়ে অনুশীলন করতেন, স্থানীয় ক্রিকেটেও প্রচণ্ড গতিতে বল করতেন। এভাবে অনুশীলনই উমরানের শারীরিক গঠন দারুণ জায়গায় নিয়ে গিয়েছে।

বাবাকে নিষেধ!
উমরানের গর্বিত পিতা আবদুল রশিদ বলেন, নিজের মুখে বলা উচিত নয়, কিন্তু উমরানের স্ট্যামিনা দেখার মতো। ছোট থেকেই ভোরবেলা থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত খেলার অভ্যাস উমরানের রয়েছে। ছেলে দেশের হয়ে খেলতে আরও বেশি পরিশ্রম করুক এবং সাফল্য পাক এটাই চান আবদুল। দেশের হয়ে যাতে দীর্ঘদিন খেলা চালিয়ে যেতে পারেন উমরান, বাবার সেটাই প্রার্থনা। উমরানের বাবা আজও শাহিদি নগরে ফলের দোকান খুলেছিলেন। উমরানকে ক্রিকেট নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথে কখনও নিরুৎসাহিত করেননি। তবে ওয়াকিবহাল রেখেছিলেন সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে। উমরান তাঁর বাবাকে নিষেধ করেছেন সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলতে। তবে গর্বিত বাবা ও মা ছেলের আন্তর্জাতিক অভিষেকের দিন মাঠে থাকার পরিকল্পনা সেরে ফেলেছেন। উমরান জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ায় তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।












Click it and Unblock the Notifications