Titas Sadhu Exclusive: অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ না এশিয়াডের পদক, কোনটাকে এগিয়ে রাখলেন সোনার মেয়ে?

তিতাস এখন শুধু একটা নদীর নাম নয়। একটা গর্বের নাম, একটা স্বপ্নের নাম। তিতাস মানে এখনও অনুপ্রেরণাও। বুধবার নিঃশব্দেই শহরে ফেরেন তিতাস সাধু। সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী ভারতীয় মহি‌লা ক্রিকেটার। সেখান থেকে চুঁচুড়া। বেলাশেষে ওয়ান ইন্ডিয়া মুখোমুখি সোনার মেয়ে।

সোনা জয়ের অনুভূতি প্রসঙ্গে তিতাস বলেন, 'এটা একটা আলাদা ধরনের অনুভূতি। এতদিন আমরা টিম ইন্ডিয়ার হয়ে খেলতাম। এবার আমরা দেশ হয়ে খেললাম। আমাদের পদক জয় দেশের পদকের সংখ্যা বৃদ্ধি করল, এটা অবশ্যই একটা আলােদা অনুভূতি।'

তিতাস

অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে যেখানে শেষ করেছিলেন এশিয়ান গেমসের ফাইনালে হাংঝৌয়ে সেখান থেকেই যেন শুরু করেন তিতাস। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তিতাস ১টি মেডেন-সহ ৪ ওভারে ৬ রান দিয়ে নিয়েছেন‌ তিন উইকেট। ফাইনালে ম্যাচেই বার বার জ্বলে উঠেন তিতাস। এর রহস্য প্রসঙ্গে তিতাস বলেন, 'ফাইনাল বলে আলাদা কিছু নয়, প্রতিটি ম্যাচেই একই পরিকল্পনা থাকে। হয়ত কিছুটা ভাগ্য, কিছুটা সুযোগ, সব মিলিয়ে এই পারফরম্যান্স হয়।'

অনূর্ধ্ব ১৯-এর বিশ্বকাপ নাকি এশিয়াড কোন সোনার পদকটা বেশি প্রিয় তাঁর কাছে। তিতাসের উত্তর, 'এটা বলা খুব কঠিন কারণ অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের জন্য আমরা ১ বছরের বেশি সময় প্রস্তুতি নিয়েছি, আমরা আগে বন্ধু ছিলাম তারপর সতীর্থ। অন্যদিকে এশিয়ান গেমসটা আমার কাছে নতুন শুরু প্রথম সিনিয়র দলে খেলা। তবে পারফরম্যান্সের বিচারে এশিয়াড এগিয়ে থাকবে। তবে দুটোই আমার খুব মনের কাছের।'

তিতাস

চুঁচুড়া থেকে চি‌নের এশিয়াডের পোডিয়াম। যাত্রাপথটা কখনই মসৃণ হওয়ার কথা নয়। ব্যতিক্রম নয় তিতাসের ক্ষেত্রেও। কিন্তু ইচ্ছাশক্তি-মানসিক সংকল্প আর লক্ষ্যে অটল থাকলে সাফ‌ল্যে দুয়ারে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব। স্বপ্নপূরণের দিনে তিতাসের অতীতের স্মৃতিতে। তাঁর কথায়, 'একদিনে কোনও সাফল্যই আসে না। আমার আজকের এই দিনটার পিছনে ২ বছর বা তারও বেশি কঠোর পরিশ্রম আছে। পরিশ্রম না করলেও কোনও কিছুই সহজে আসবে না।'

একইসঙ্গে তিতাস উল্লেখ করেন, 'গোটা বিষয়টা একটা প্রক্রিয়া, দিনের পর দিন মাসের পর মাস করে সেটা নিখুঁত হয়। প্রত্যেকের একই জিনিস রোজ রোজ করতে ভালো লাগে না। আমাদেরও লাগে না। কিন্তু মানসিকতা তৈরি করতে হয়। এটা কোচিং ক্যাম্পে বা ম্যাচে গিয়ে কাজ করাটা অনেক সহজ করে দেয়।'

তিতাস দি-কে সামনে রেখে যারা বড় হতে চান, তাদের জন্য সোনার মেয়ের বার্তা, 'ক্রিকেট হোক বা অন্য কো‌নও খেলা, ভালোলাগার জায়গা থেকে খেলতে হবে, খেলাটাকে ভালোবেসে খেলতে হবে।'


অনেকেই তাঁকে বলছেন আগামীর ঝুলন গোস্মামী। কিন্ত কিংবদন্তির সঙ্গে নিজের তুলনাতে বেশ সংযত সোনার মেয়ে। তিতাসের সাবধানী উত্তর, 'ঝুলন গোস্মামী একজনই হন, আমি যদি নিজেকে তাঁর মতো ভাবি তাহলে আমার থেকে বোকা কেউ হবে না। তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরিসংখ্যান সবাই জানেন। আমি ঝুলন গোস্মামী হতে পারব না, আমি তিতাস হতে চাই।'

একইসঙ্গে তিতাস বলেন, 'যেহেতু আমি বাংলার মেয়ে তাই ঝুলন দি-কে দেখে বড় হয়েছি। যত খেলায় এগিয়েছি তত ওনার কাছে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। শিখতে পেরেছি। ওনি একেবারে মাটির মানুষ। একটা সময়ের পর ঝুলন গোস্মামী আমার কাছে ঝুলন দি হয়ে গিয়েছেন।'

চাইনিজ তাঁর বরাবরেই প্রিয় খাবার, চিনে গিয়ে উডন নুডুলস মন ভরে খেয়েছেন তিতাস। সামনেই জন্মদিন। তবে জন্মদিনে বড় কোনও উৎসবের পরিকল্পনা নেই পরিবারের। কয়কদিনের মধ্যেই বাংলা দলে অনুশীলনে যোগ দেবেন তিতাস। আপাতত কিছুদিন ছুটি তিতাসের।

তিতাস

বুধবার সকালে কলকাতা বিমান বন্দরে যখন নামলেন তিতাস তখন তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য দেখা যায়নি সিএবির কোনও প্রতিনিধিকে। মেয়েকে নিতে আসেন তিতাসের মা-বাবা। যদিও বেলাশেষে তাঁর বাড়িতে আসেন সিএবির যুগ্ম সচিব দেবব্রত দাস।

সন্ধ্যায় তিতাসকে শুভেচ্ছা জানিয়ে গেলেন স্থানীয় বিধায়ক অসিত মজুমদার। তিতাসের সঙ্গে সংবর্ধনা দেওয়া হবে মেহুলি ঘোষকেও, ঘোষণা করলেন চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার। ১৩ অক্টোবর দেওয়া হতে পারে সংবর্ধনা।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+