আইপিএলে সবচেয়ে দামী হয়েও চূড়ান্ত ফ্লপ এই ক্রিকেটাররা
আইপিএলে সবচেয়ে দামী হয়েও চূড়ান্ত ফ্লপ এই ক্রিকেটাররা
ক্রিকেটারদের পিছনে নিলামে বেশি খরচ করলেও প্রতিযোগীতায় তাঁরা যে ভাল পারফরম্যান্স করবেন এর কোনও নিশ্চয়তা নেই। আইপিএল-এ এই রকম উদাহরণ অসংখ্য রয়েছে। প্রতি বছরই নিলামে এই রকম একাধিক স্টার পারফর্মারের পিছনে প্রচুর অর্থ খরচ করে ফ্রাঞ্চাইজিগুলি কিন্তু তাঁদের পারফরম্যান্স একেবারেই তাঁর পিছনে খরচ করা টাকার সঙ্গে যায় না।
২০২২ আইপিএল-এর মেগা নিলামের আগে এক নজরে দেখে নিন এমন তারকাদের যাঁদের পিছনে কারি কারি অর্থ খরচ করলেও আইপিএল-এ তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন। বেশির ভাগ সময়েই এই ভুলগুলি লাগাতার করে মূলত চারটি ফ্রাঞ্চাইজি। তারা হল কিংস ইলেভেন পঞ্জাব (পঞ্জাব কিংস), দিল্লি ডেয়ারডেভিলস (দিল্লি ক্যাপিটলস), রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর এবং রাজস্থান রয়্যালস।

শেলডন কর্টরেল (কিংস ইলেভেন পঞ্জাব)- ৮.৫০ কোটি টাকা:
২০২০ আইপিএল নিলামে কর্টরেলকে দলে নিয়েছিল পঞ্জাব। সাড়ে আট কোটি টাকার এই বোলার ম্যাচি ছয়টি ম্যাচ খেলে ছয় উইকেট নিয়েছিলেন। তাঁর ইকোনমি রেট ছিল ৮.৮। খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে দলে নিজের জায়গা এর পর হারিয়েছিলেন শেলডন। ২০২১ আইপিএল-এ আলসোল্ড ছিলেন তিনি। এই বারের আইপিএল নিলামেও রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই ক্রিকেটার।

পবন নেগী (দিল্লি ডেয়ারডেভিলস)- ৮.৫০ কোটি:
চেন্নাই সুপার কিংস-এর জার্সিতে ভাল পারফরম্যান্সের সুবাদে ২০১৬-এর নিলামে জ্যাকপট মারেন পবন নেগী। এই অলরাউন্ডারের পিছনে সাড়ে আট কোটি টাকা খরচ করে দিল্লির ফ্রাঞ্চাইজি। কিন্তু ওই মরসুমে যেই আট ম্যাচে তিনি খেলেছিলেন একটিতেও পারফর্ম করতে পারেননি। ব্যাটিং এবং বোলিং-উভয়তেই ব্যর্থ হন। ৯.৩৩ ইকোনমি রেটে এক উইকেট সংগ্রহ করেন নেগি। আসন্ন আইপিএল-এর নিলামে রয়েছেন নেগী।

দীনেশ কার্তিক (রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর)- ১০.৫০ কোটি:
২০১৫ আইপিএল-এর নিলামে এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানকে খরচ করতে এত টাকা খরচ করেছিল আরসিবি। বিরাট কোহলির দলের হয়ে উইকেটের পিছনে ভাল পারফর্ম করলেও ব্যাট হাতে পারফর্ম করতে পারেননি দীনেশ। ১৬ ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১৪১ ইনিংস।

গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (কিংস ইলেভেন পঞ্জাব)- ১০.৭৫ কোটি:
২০২০ আইপিএল-এর নিলামে ১০.৭৫ কোটি টাকায় প্রীতি জিন্টার দলে সই করেছিলেন ম্যাক্সওয়েল। আইপিএল-এ একেবারেই ছন্দে ছিলেন না বিধ্বংসী ম্যাক্সি। ১০১.৮৯ স্ট্রাইক রেটে ১৩ ম্যাচে ১০৮ রান করেছিলেন তিনি। গোটা মরসুমে একটাও ওভার বাউন্ডারি মারতে পারেননি তিনি। পরের নিলামে তাঁকে মোটা অঙ্কে তুলে নেয় আরসিবি এবং গার্ডেন সিটির দলটির হয়ে নিজের উপার্জিত অর্থের প্রচতি সুবিচার করেন ম্যাক্সওয়েল।

জয়দেব উনাদকট (রাজস্থান রয়্যালস)- ১১.৫০ কোটি:
২০১৮ আইপিএল-এর নিলামে সাড়ে এগারো কোটি টাকায় জয়দেবকে দলে নেয় রাজস্থান রয়্যালস। রাজস্থানের হয়ে ৯.৬৬ ইকোনমি রেটে ১৫ ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়েছিলেন উনাদকট।

টাইমাল মিলস (রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর)- ১২.৫০ কোটি:
২০১৭ আইপিএল-এর নিলামে সাড়ে ১২ কোটি টাকা খরচ করে আইসিবি দলে নিয়েছিল ইংল্যান্ডের এই বাম হাতি পেসারকে। ৮.৫৭ ইকোনমি রেটে ৫ ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মিলস। কারি কারি টাকায় কিনলেও তাঁর পারফরম্যান্স ভাল না হওয়ায় ২০১৮ আইপিএল-এর নিলামে দল পাননি মিলস। সদ্যই ক্রিকেটের শট ফরম্যাটে ফিরেছেন মিলস। এই বার নিলামেও রয়েছেন তিনি।

কাইল জেমিসন (রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর)- ১৫ কোটি:
দারুণ রেপুটেশনের সঙ্গে আইপিএল-এর নিলামে এসেছিলেন কাইল জেমিসন। ২০২১ আইপিএল-এ তাঁকে পেতে ১৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল আরসিবি। নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার ৯ ম্যাচে ৯ উইকেট পেয়েছিলেন মাত্র। তাঁর ইকোনমি রেট ৯.৬০। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য ২০২২ আইপিএল-এ অংশ নেননি তিনি।

প্যাট কামিন্স (কলকাতা নাইট রাইডার্স)- ১৫.৫০ কোটি:
অবাক করার মতো এন্ট্রি হলেও এই তালিকায় রয়েছেন প্যাট কামিন্স। ২০২০ আইপিএল-এ সব থেকে বেশি মূল্যে বিক্রিত বিদেশি ক্রিকেটার ছিলেন প্যাট কামিন্স। ২০২০ সালে তাঁরে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। কিন্তু প্রত্যাশা তিনি পূরণ করতে পারেননি। ৮.৮৩ ইকোনমি রেটে ২০২১ সালে কলকাতা নাইট রাইন্ডার্সের হয়ে বোলিং করেছেন তিনি। দুই মরসুম মিলিয়ে ২১ ম্যাচে ২১ উইকেট সংগ্রহ প্যাটের। এই বার আইপিএল-এর জন্য নিলামে রয়েছেন তিনি।

যুবরাজ সিং (দিল্লি ডেয়ারডেভিলস)- ১৬ কোটি:
২০১৪ আইপিএল-এ ১৪ কোটি টাকায়া যুবুকে কিনেছিল আরসিবি। ১৬ কোটি টাকায় তিনি ফের দল পান ২০১৫ সালে। তাঁর জন্য ১৬ কোটি খরচ করে দিল্লি। ১৪ ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছিল মাত্র ২৪৮ রান।

ক্রিস মরিস (রাজস্থান রয়্যালস)- ১৬.২৫কোটি:
১৬.২৫ কোটি টাকায় ২০২১ আইপিএল-এর নিলামে মরিসকে কিনেছিল রাজস্থান রয়্যালস। কিন্তু টাকার মূল্যায়ণ করতে পারেননি দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার। ১১ ম্যাচে করেন মাত্র ৬৭ রান এবং বল হাতে ১৫ উইকেট নিয়েছিলেন। খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে দল থেকে লাগাতার বাদ পড়ার পর ২০২২-এর শুরুতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করেন এই প্রোটিয়া ক্রিকেটার।












Click it and Unblock the Notifications