বার বার চার বার, নো বল কীর্তিতে ট্রফিহীন ভারতীয় ক্রিকেট

বার বার চার বার, নো বল কীর্তিতে ট্রফিহীন ভারতীয় ক্রিকেট

সেই ২০১৬ সাল , তারপর থেকে বিভিন্ন ছোট্ট ছোট্ট ভুল ভারতীয় ক্রিকেটের ট্রফি জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ৬ বছর পেরিয়েও সেই 'এক বলের' মহা ভুল থেকে যেন বেরোতেই পারছে না ভারত। ফল আইসিসি ট্রফি হাতে এসেও অধরা। পুরুষ থেকে মহিলা ঘটনা সেই একই। এবারেও তাই হল। নানা ছোট ভুলের মাঝে ভারতীয় ক্রিকেটকে যেন বেশি বিঁধেছে নো বল।

বার বার চার বার, নো বল কীর্তিতে ট্রফিহীন ভারতীয় ক্রিকেট

আগে দেখে নেওয়া যাক সেই ছোট্ট ও মহাভুল গুলির ইতিহাস। ২০০৩ বিশ্বকাপ ফাইনাল। ভরা ব্যাটিং পিচে সৌরভ গাঙ্গুলি নিলেন বোলিং। বেধড়ক মেরে পন্টিং কাপ নিয়ে গেলেন। ধোনি যুগে এসব কিছু হয়নি। যা হয়েছে সোজাসুজি। তবে তাঁর অধিনায়কত্বের একদম শেষের দিক থেকে নো বল কীর্তি শুরু। মুম্বইয়ে টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উপর ১৯২ রানের ভার চাপাল ভারত। বল করতে নেমেই বুমরা ফেরালেন গেইলকে।

তারপরেই ৫০ রানে আউট লেন্ডন সিমন্স অশ্বিনের বলে। তিনি মাঠ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। নাটক শুরু। নো বল। তারপর থেকে তো যা তা হল। শেষের দিকে আবার সুযোগ এল। এবার নো বল করলেন হার্দিক। আবার জীবন পেলেন সিমন্স। তারপরে ম্যাচের আর কিছু ছিল না। বিদায় নেয় ভারত।

২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফাইনাল। পাকিস্তানের ফাখার জামান বুমরার বলে কট বিহাইন্ড। আবার নাটক নো বল কীর্তি। ফাখার জামান সেঞ্চুরি করে ম্যাচ নিয়ে গেলেন। ২০১৭ মহিলা বিশ্বকাপ। তীরে এসে তরী ডুবে যায় ভারতের। মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে তো ভারত দাঁড়াতেই পারেনি। ২০১৯ বিশ্বকাপ। একটা আচমকা থ্রো ভারতের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ দেয়। কিংবা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে যদি পন্থ ওই বাজে শট না খেলে আউট না হতেন নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে যুগ্মবিজয়ী হয় ভারত।

সৌরভের ২০০৩ ,২০১৭ মহিলা বিশ্বকাপ, ২০১৯,টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল যদি বাদ দেওয়া যায় বাকি তিন ক্ষেত্রে নো বল কাণ্ড ভারতকে ম্যাচ হারিয়েছে এবং একদম মোক্ষম মুহূর্তে। এগুলো পুরো ব্যক্তিগত দায়। ২০২২ আবারও এক ঘটনা। ২ বলে তিন রান বাকি দক্ষিণ আফ্রিকার। সেট ব্যাটসম্যানকে টেনে এনে ক্যাচ আউট করালেন দীপ্তি শর্মা। এক বলে তিন রান। মোটামুটি ভারতের দিকে পাল্লা ভারী।
ভারত সেমিফাইনালে যাবে যাবে করছে। আচমকা নো বল নাটক।

দীপ্তির ভুলে বিশ্বকাপের দীপ নিভল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের। ঝুলন গোস্বামীর ড্রেসিং রুমে দাঁড়িয়ে এই মারে কি সেই মারে অবস্থা। কিচ্ছু করার ছিল না। যা করার করে দিয়েছেন দীপ্তি। বুমরাদের নো বলের ভূত যেন তাঁর উপর কয়েক সেকেন্ডের জন্য চেপে বসেছিল। তাই সব শেষ।

ঠিক এ নিয়েই টুইট করেছেন বীরেন্দ্র সেওয়াগ। তিনি অশ্বিন, হার্দিক , বুমরা ও দীপ্তির নো বলের শুধু তাদের ওভার স্টেপ করার ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, 'এটা শুধু নো বলই নয় যার কারণে ভারতের আজকের খেলায় মূল্য চোকাতে হল, কখনও কখনও এক ইঞ্চি মূল্য দিতে হয় এমন মুহূর্তে যা অর্জন করতে কয়েক দশক সময় লাগে এবং সম্ভবত এটি অনেক খেলোয়াড়ের জন্য সারাজীবনের ব্যাথা রয়ে যাবে। ভারতের অভিযানের হতাশাজনক সমাপ্তি।'

সারাজীবনের ব্যাথা রয়ে যাবে কাদের? নিশ্চিত ভাবেই ঝুলন গোস্বামী ও মিতালী রাজের। এটাই তো তাঁদের শেষ বিশ্বকাপ ছিল। ধোনির ভারত যেমন সচিনকে সেই অপ্রাপ্তি দিয়েছিল দীপ্তিরা তা পারলেন না। শেষ মুহূর্তের মহা ভুলে ফিরতে হচ্ছে ভারতকে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+