T20 World Cup: নীরবে নিরন্তর সাহায্য, রশিদদের বিশ্বমঞ্চে সাফল্যের নেপথ্যে বিরাট অবদান আছে ভারতেরও
আফগানিস্তান বলতেই বিশ্ববাসীর সামনে ভেসে উঠে সন্ত্রাসের কালো ছায়া, ভূমিকম্প এবং তালিবানী ফতোয়া। হাজারো সমস্যায় জর্জরিত আফগানরা ক্রিকেটের মধ্যেই যে খুঁজে পাচ্ছে মুক্তির আনন্দ। বিগত কয়েক বছকেরশিদ খান, মুজিব-উর-রহমানদের বিশ্ব ক্রিকেটে চমকপ্রদ উত্থান হয়েছে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটের পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেট খেলারও যোগ্যতা অর্জন করেছে আফগানরা।
মঙ্গলবার বিশ্ব ক্রিকেটে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল আফগানরা। টি২০ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাকলে জায়গা করে নিয়ে পাঠানরা বুঝিয়ে দিল তাঁরা আর ক্রিকেট বিশ্বে ক্ষুদ্র শক্তি নয়। আফগানদের এই চমকপ্রদ উত্থান এবং সাফল্যে অবদান আছে ভারতেরও। বিসিসিআইয়ের সহযোগিতা আফগানিস্তানের ক্রিকেটকে এই উচ্চতায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।

দিনের পর দিন নিজেদের দেশে নয় আফগানিস্তানের ক্রিকেটাররা থেকেছে ভারতেই। গ্রেটার নয়ডাতে শহিদ বিজয় সিং পথিক স্পোর্টস কমপ্লেক্সকে আফগানিস্তানের অস্থায়ী হোম গ্রাউন্ড হিসাবে ব্যবহার করার সুযোগ করে দেয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। ২০১৯ সালে লখনউয়ের একানা ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে আফগানিস্তানের পাকাপাকি হোম গ্রাউন্ড হিসাবে অনুমোদন দেয় বিসিসিআই। ভারতেই দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে ৱশিদ খানর।
বিসিসিআই, নিঃসন্দেহে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্রিকেট বোর্ড, এমনকি তৎকালীন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানিকে দলটিকে বেঙ্গালুরুতে প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলা দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, দুই দেশ এবং দলের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার জন্য একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছিল। এরপর থেকে নীরবেই আফগানিস্তানকে সাহায্য করে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
ভারতের প্রাক্তন খেলোয়াড় লালচাঁদ রাজপুত, মনোজ প্রভাকর এবং অজয় জাদেজা সকলেই অতীতে আফগানিস্তান দলের কোচ বা পরামর্শদাতা ছিলেন। জাদেজা ওডিআই বিশ্বকাপে হিসাবে সম্প্রতি তাদের পরামর্শদাতা ছিলেন। এমনকি এই কাজের জন্য কোনও রকম পারিশ্রমিক নেননি জাদেজা।এছাড়া ভারতের বিভিন্ন কোম্পানী আফগানিস্তান দলকে স্পনসর করেছে বছরের পর বছর ধরে।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে অংশ গ্রহণ আফগানিস্তানের খেলোয়াড়দের সাফল্যের জন্য সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে। অনেক আফগান খেলোয়াড় টি-টোয়েন্টি লিগে খেলে, শুধুমাত্র নিজেদের খেলাই নয়, দেশের অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করেন আইপিএলে খেলার জন্য। বছরের পর বছর ধরে, আইপিএলে আফগান খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
কাবুল থেকে কান্দাহার, জালালাবাদ থেকে গজনি। আফগানিস্তান মেতেছে আজ সেলিব্রেশনে। হাসি-কান্না মিশেছে এক অন্য় স্বাধীনতার আনন্দে। কাঁদছেন আফগানিস্তানের ক্রিকেটাররা। আর এই ঐতিহাসিক দিনে রশিদও নিজের নাম লিখিয়ে ফেললেন সোনালি ইতিহাসে।












Click it and Unblock the Notifications