বিসিসিআইয়ে সৌরভ-জয় জুটি কি এবার কঠিন পিচে? বিচারপতি চন্দ্রচূড়কে রেখে সুপ্রিম কোর্ট গঠন করছে নতুন বেঞ্চ
লোধা কমিটির সুপারিশ কি এবার পিচ কঠিন করে দিল বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও সচিব জয় শাহর জন্য? বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বোর্ড বা রাজ্য সংস্থার পদাধিকারী টানা ছয় বছর কোনও পদে থাকলে তাঁকে বাধ্যতামূলকভাবে তিন বছরের কুলিং অফে যেতে হয়। কিন্তু বিসিসিআই চাইছে যাতে এই নিয়ম বোর্ড সভাপতি ও সচিবের জন্য প্রযোজ্য না হয়।

আলোচনায় সেই চন্দ্রচূড়
সেই কারণেই বিসিসিআই সুপ্রিম কোর্টে আবেদনও করেছিল। শুনানি প্রক্রিয়া মন্থর গতিতেই চলছে। গতকাল অবশ্য সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই আবেদনের শুনানি এবার নতুন বেঞ্চে হবে। যে বেঞ্চে উল্লেখযোগ্য নাম বিচারপতি ধনঞ্জয় ওয়াই চন্দ্রচূড়। প্রধান বিচারপতি এনভি রামানার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ গতকাল শুনানি চলাকালীন জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের যে তিন সদস্যের বেঞ্চ বিসিসিআইকে লোধা কমিটির সুপারিশগুলিকে মান্যতা দিয়ে যে সংবিধান চূড়ান্ত করার নির্দেশ ২০১৮ সালের ৯ অগাস্ট গিয়েছিল, সেই বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি চন্দ্রচূড়। উল্লেখ্য, ওই বেঞ্চে থাকা তৎকালীন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র ও বিচারপতি এএম খানউইলকর অবসর গ্রহণ করেছেন।

নতুন বেঞ্চে শুনানি হবে
প্রধান বিচারপতি রামানা, বিচারপতি হিমা কোহলি ও সিটি রবিকুমারের বেঞ্চ গতকাল শুনানি চলাকালীন রেজিস্ট্রিকে নির্দেশ দিয়েছে, বিসিসিআইয়ের এই আবেদনের বিষয়টি পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হতে চলা ইউইউ ললিতের কাছে পাঠাতে। বিচারপতি চন্দ্রচূড়কে রেখে নতুন বেঞ্চ নতুন প্রধান বিচারপতি গঠন করবেন। উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে সিনিয়র আইনজীবী তথা প্রাক্তন অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল মনিন্দর সিংকে নিযুক্ত করেছে।

কুলিং থেকে সৌরভ-জয়ের অব্যাহতি?
বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও সচিব জয় শাহ যাতে কুলিং অফ পিরিয়ডের বিষয়টির বাইরে থাকেন সেই ব্যাপারে নির্দেশ পেতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল বিসিসিআই, ২০২০ সালের মে মাসে। ২০১৮ সালের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, খসড়া সংবিধানকে শীর্ষ আদালত অনুমোদন করার পর বিসিসিআইয়ে যে নতুন সংবিধান চূড়ান্ত হয়েছে তাতে কোনও রদবদল সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি ছাড়া করা যাবে না। বিসিসিআই সভাপতি ও সচিবকে কুলিং অফ শর্তের বাইরে রাখতে সংবিধানে সংশোধন করতে চাইছে। সেই প্রেক্ষিতেই শীর্ষ আদালতে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল দুই বছর আগে।

নজর শীর্ষ আদালতে
এ ছাড়াও যে পরিবর্তনগুলি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ৬.৫ ধারা। বিসিসিআই চাইছে যদি কোনও পদাধিকারীর কোনও অপরাধের মামলায় তিন বছরের জেল হয় তবেই তাঁকে পদ থেকে সরানো যেতে পারে। এ ছাড়া ৪৫ নম্বর ধারাতেও বিসিসিআই পরিবর্তন চাইছে বলে জানা গিয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সৌরভ ও জয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শীর্ষ আদালত কী নির্দেশ দেয় সেই বিষয়টিই। বোর্ডে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর বিরোধী বলে পরিচিত কিছু কর্তা মনে করছেন, সৌরভ ও জয়ের রাস্তাটা কঠিন হয়ে গেল। কেন না, প্রথম যে রায়ে বোর্ড নতুন সংবিধান তৈরিতে বাধ্য হয়েছিল লোধা কমিটির সুপারিশগুলি মেনে, সেই রায় দেওয়ার সময় তিন সদস্যের বিচারপতির বেঞ্চে থাকা চন্দ্রচূড়ই এবার শুনবেন বোর্ডের আবেদনের বিষয়টি। ফলে শীর্ষ আদালতে বোর্ডের ইচ্ছার মান্যতা পাওয়া খুব একটা সহজ হবে না।












Click it and Unblock the Notifications