হার্দিকের বল না করা বড় ধাক্কা বলে মত গাভাসকরের, দুই ক্রিকেটারের মধ্যে তাগিদের অভাব দেখছেন সানি
আইপিএলে সরু সুতোর উপর ঝুলছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন রোহিত শর্মার মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। এই ব্যর্থতার একাধিক কারণ উঠে আসছে। অলরাউন্ডার হার্দিক পাণ্ডিয়াকে না পাওয়া যেমন একটি কারণ তেমনই টি ২০ বিশ্বকাপের দলে থাকা সূর্যকুমার যাদব, ঈশান কিষাণ, রাহুল চাহারদের পারফরম্যান্স বেশ হতাশাজনক। এই বিষয়েই এবার মুখ খুললেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক কিংবদন্তি সুনীল গাভাসকর।

হার্দিক পাণ্ডিয়া গত বছরের মতো এ বছরও আইপিএলে বোলিং করেননি। সম্প্রতি জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই বোলিং করবেন। হার্দিক নেটে বল করলেও ম্য়াচে তাঁকে দিয়ে বোলিং করাতে তাড়াহুড়ো করবেন না বলে জানিয়েছেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হেড কোচ মাহেলা জয়বর্ধনে। বারেবারেই উঠে আসছে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কথা। ব্যাট বা বল হাতেও হার্দিকের পারফরম্যান্স আহামরি কিছু নয়। এই অবস্থায় হার্দিকের ফিটনেস নিয়েই সংশয় থাকছে। নির্বাচকরা অবশ্য টি ২০ বিশ্বকাপের দল ঘোষণার সময় বলেছিলেন, হার্দিক পুরো ফিট। কিন্তু শেষ কবে হার্দিক কোটার পুরো ওভার বল করেছেন তা মনে করে একবারে নির্বাচককরা উত্তর দিতে পারবেন, এমন গ্যারান্টিও নেই। বাধ্য হয়ে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স হার্দিককে শুধু ব্যাটার হিসেবে খেলালেও টি ২০ বিশ্বকাপে ভারতীয় দলে সেটা কতটা ঠিক হবে তা নিয়ে চলছে চর্চা। এমন কথাও বলা হচ্ছে, যেখানে ১০ অক্টোবরের মধ্যে বিশ্বকাপের দলে রদবদল করা যাবে সেখানে কেন সে পথে হাঁটবে না ভারত?

এই আবহে গাভাসকর বলেছেন, হার্দিকের বল করতে না পারা একটা বড় ধাক্কা। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স তো বটেই, ভারতীয় দলের পক্ষেও। কারণ হার্দিককে দলে নেওয়া হয়েছে অলরাউন্ডার হিসেবে। দলে থেকে যদি ছয় বা সাতে শুধু তিনি ব্যাটিংই করেন, বোলিং না করেন তাহলে সেটা অধিনায়কের কাছেও সমস্যার ব্যাপার। ৬ বা ৭ নম্বরে একজন অলরাউন্ডারকে খেলানোর কথাই ভাবা হয়। কিন্তু হার্দিক বোলিং না করায় ফ্লেক্সিবিলিটি বা বিকল্পের যে প্রয়োজন সেটা না থাকায় সমস্যা হয়ে যাচ্ছে।

একইভাবে টি ২০ বিশ্বকাপের দলে সুযোগ পাওয়া সূর্যকুমার যাদব ও ঈশান কিষাণের পারফরম্যান্সেও সন্তুষ্ট নন সানি। কিষাণ তো মুম্বই ইন্ডিয়ান্স দলের প্রথম একাদশেই ঠাঁই পাচ্ছেন না। সূর্যকুমার একটি ম্যাচে কিছুটা সফল হয়েছেন। গাভাসকরের মতে, টি ২০ বিশ্বকাপের দলে জায়গা পাওয়ায় এই দুই ক্রিকেটারকে কিছুটা রিল্যাক্স দেখাচ্ছে। অর্থাৎ তাঁদের মধ্যে ভালো কিছু করার তাগিদের অভাব নজর এড়ায়নি অভিজ্ঞ গাভাসকরের। সূর্য এবারের আইপিএলের ১২ ম্যাচে ২২২ রান পেয়েছেন। গড় ১৮.৫০, সর্বাধিক ৫৬। ঈশান কিষাণ ৮ ম্যাচে মাত্র ১০৭ রান করেছেন। গাভাসকর বলেন, এই দুই ক্রিকেটারই এমন কিছু অপ্রয়োজনীয় কিছু বড় শট খেলতে যাচ্ছেন যার মাধ্যমে যেন বোঝাতে চাইছেন যে তাঁরা ভারতীয় দলের ক্রিকেটার! সূর্ষ, ঈশানদের শট সিলেকশনে আরও বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছেন গাভাসকর। শট বাছাই সঠিক না হওয়াতেই সূর্য, ঈশানরা আইপিএলে অল্প রানে আউট হয়ে যাচ্ছেন, সফল হতে পারছেন না বলেও মন্তব্য করেছেন সানি। কৃষ্ণাপ্পা গৌতম যেভাবে শিমরন হেটমায়ারের ক্যাচ গতকাল ফেলেছেন এই পর্যায়ে তা কাম্য নয় বলেই মনে করেন সুনীল গাভাসকর। এমনকী আইপিএলের আম্পায়ারিংয়ের মান নিয়েও অসন্তুষ্ট তিনি। গাভাসকরের মতে, যেখানে আইপিএল থেকে ছিটকে যাওয়ার বিষয় নির্ভর করে কোনও সিদ্ধান্তের উপর সেখানে আরও বেশি সতর্ক থাকা উচিত আম্পায়ারদের।












Click it and Unblock the Notifications