ভারতের টেস্ট দলের প্রথম তিন নিয়ে মুশকিল আসান গাভাসকরের
সাউদাম্পটনে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের পঞ্চম দিনের শেষেই সুনীল গাভাসকর বলে দিয়েছিলেন, এই টেস্ট ভারতের জেতার আশা নেই। হয় ড্র হবে নয়তো নিউজিল্যান্ড জিতবে। ক্রিজে চেতেশ্বর পূজারা ও বিরাট কোহলি থাকা সত্ত্বেও এমনই পূর্বাভাস দিয়েছিলেন অভিজ্ঞ প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। সানির সেই কথা অক্ষরের অক্ষরে মিলে যায়। ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৮ উইকেটে ভারত হারে কিউয়িদের কাছে। তারপরই প্রথম একাদশে রদবদলের ইঙ্গিত দিয়েছেন বিরাট কোহলি।

বিরাট অসন্তোষ
ফাইনালের পর ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি কোনও সতীর্থের নাম করেননি। তবে তাঁর তির যে চেতেশ্বর পূজারার দিকে সে কথা বুঝতে কারও অসুবিধা হয়নি। বিরাট যেটা চাইছেন সেটা হলো পরিস্থিতি প্রতিকূল না হলে নির্ভীক ক্রিকেট খেলতে হবে। বোলারকে মাথায় চড়তে দেওয়া যাবে না। পজিটিভ ক্রিকেট খেলে বোলারের ছন্দ নষ্ট করতে হবে শুরু থেকেই।

পূজারার ফর্ম
তিনে নামা পূজারার সাম্প্রতিক ফর্ম একেবারেই পূজারা-সুলভ নয়। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ১৮টি টেস্টে তিনি ৩০টি ইনিংসে রান করেছেন ৮৪১। সর্বাধিক অপরাজিত ৮১। গড় ২৮.০৩। স্ট্রাইক রেট ৩৫.৬৯। তিনবার শূন্য রানে আউট হয়েছেন। ৯টি অর্ধশতরান করলেও একটিও শতরান নেই। ফলে ইংল্যান্ড সিরিজের আগে চাপ বাড়ছে পূজারার উপর। তাঁর জায়গায় লোকেশ রাহুল, ময়াঙ্ক আগরওয়াল বা হনুমা বিহারীকে খেলানোর ভাবনা ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে।

পূজারার পাশেই সানি
সুনীল গাভাসকর অবশ্য এই ভাবনার সঙ্গে একেবারেই সহমত নন। তাঁর সাফ কথা, সাউদাম্পটনে পরিবেশ একেবারেই ব্যাটিং সহায়ক ছিল না। বরং বোলারদের অনেক বেশি সহায়তা করেছে। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং, বিশেষ করে ডেভন কনওয়ে বা কেন উইলিয়ামসনের ব্যাটিং দেখেও সেটাই বোঝা গিয়েছে। রস টেলরও যে মন্থরভাবে শুরু করেছিলেন সেটাও মনে রাখা উচিত। তাঁরাও পূজারার মতোই ব্যাটিং করেছেন। ফলে একা পূজারার দিকে আঙুল তোলা হলে কিছু বলার নেই। এটাও মনে রাখতে হবে পূজারার মতো সলিড একজন ব্যাটসম্যান থাকাতেই অন্য প্রান্তে স্ট্রোক প্লেয়ারদের স্ট্রোক খেলতে সুবিধা হয়। কারণ, তাঁরা নিশ্চিত থাকেন অন্য প্রান্ত আঁকড়ে থাকতে পূজারা রয়েছেন।

ওপেনিং নিয়ে
আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ১২টি টেস্টে দুটি দ্বিশতরান-সহ তিনটি শতরান ও দুটি অর্ধশতরানের সুবাদে ৮৫৭ রান করেছেন ময়াঙ্ক আগরওয়াল। গড় প্রায় ৪৩, স্ট্রাইক রেট ৫৫-র উপর। তবে ফাইনালে ময়াঙ্ক নয়, শুভমান গিলকে খেলিয়েছে ভারত। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে টেস্ট শতরানের পর আর অবশ্য হাফ সেঞ্চুরিও পাননি ময়াঙ্ক। ফলে রোহিত শর্মার ওপেনিং পার্টনার নিয়ে একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমকে গাভাসকর বলেন, যেটা জানতে পেরেছি বিসিসিআই সচিব জয় শাহ ভারতকে কাউন্টি দলের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলানোর চেষ্টা করছেন। ফলে প্রস্তুতি ম্যাচে রোহিত শর্মাকে বিশ্রামে দেওয়া হোক, কারণ দলে তাঁর জায়গা পাকা। বরং প্রস্তুতি ম্যাচে গিল আর ময়াঙ্ককে একসঙ্গে খেলিয়ে দেখা হোক ইংল্যান্ডের পরিবেশে কে বেশি কার্যকরী। গিলের ফুটওয়ার্কের সমালোচনা করে সানি বলেন, শুভমান ভারতেও ব্যাকফুটে খেলতে চান না। কিন্তু এতে শর্ট লেংথের বলে অসুবিধা হবে। এই খামতি দ্রুত পুষিয়ে নিয়ে ব্যাটিংয়ে ভারসাম্য আনতে হবে তাঁকে।












Click it and Unblock the Notifications