Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

ডন ব্র্যাডম্যানের জন্মদিনে নজরে অমর রেকর্ডগুলি! কেরিয়ারে ছক্কার সংখ্যা জানলে অবাক হবেন

১৯০৮ সালে ২৭ অগাস্ট অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের কুটামুন্দ্রায় জন্ম স্যর ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের। ২০০১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ৯২ বছর ১৮২ দিনের মাথায় তিনি নিউমোনিয়ায় ভুগে প্রয়াত হন অ্যাডিলেডের কেনসিংটন পার্ক এলাকায়। বিংশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রিকেটার আজও স্বমহিমায় উজ্জ্বল সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে। ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর মানের কাছাকাছি একমাত্র যেতে পেরেছিলেন ডব্লুজি গ্রেস। এ ছাড়া সচিন তেন্ডুলকরের মধ্যে তিনি নিজের ছায়া দেখতে পান বলে জানিয়েছিলেন ব্র্যাডম্যান। ১৯৩০ ও ১৯৪০-এর দশকেই তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন বিশ্বের সেরা হিসেবে। তখনকার মতো এখনকার ক্রিকেটারদের কাছেও টেস্ট ক্রিকেটের জন্য তিনিই আদর্শ। এমন কিছু রেকর্ড তিনি গড়ে গিয়েছেন যা আজও অক্ষত।

ব্র্যাডম্যানের কেরিয়ার

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২৩৪টি ম্যাচে ৩৩৮টি ম্যাচে তিনি ২৮ হাজার ৬৭ রান করেছেন। সর্বাধিক স্কোর অপরাজিত ৪৫২। গড় ৯৫.১৪। শতরান ১১৭টি। ৮০টি টেস্ট খেলেছেন, রান করেছেন ৬৯৯৬। সর্বাধিক স্কোর ৩৩৪ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। গড় ৯৯.১৪, যা কারও পক্ষে ভাঙা আর সম্ভব নয়। ২৯টি টেস্ট শতরান রয়েছে ব্র্যাডম্যানের। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে রয়েছে ১৯টি টেস্ট শতরান। ৬৩টি টেস্টে ৫ হাজার ২৮ রান করেছেন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে, গড় ৮৯.৭৮। দ্বিতীয় শ্রেণির ক্রিকেটে ৩৩১টি ইনিংসে ২২ হাজার ৬৬৪ রান করেছেন। সর্বাধিক অপরাজিত ৩২০। গড় ৮৪.৮০। সবমিলিয়ে ৬৬৯টি ইনিংসে তিনি ব্যাট করেছেন। ১০৭ বার অপরাজিত থেকেছেন। রান করেছেন ৫০,৭৩১, সর্বাধিক স্কোর অপরাজিত ৪৫২। কেরিয়ারের গড় ৯০.২৭। শতরানের সংখ্যা ২১১! ১২ বছর বয়সে প্রথম শতরান করেছিলেন ব্র্যাডম্যান। ১৯২০-২১ মরশুমে মিট্টাগং স্কুলের বিরুদ্ধে বাউরালের হয়ে ১১৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন খুদে ডন।

অবাক করা তথ্য

টেস্ট কেরিয়ারের তৃতীয় ইনিংসেই তাঁর ব্যাটিং গড় ৫০ ছুঁয়েছিল, এরপর গোটা টেস্ট কেরিয়ারে তাঁর ব্যাটিং গড় আর ৫০-এর নীচে নামেনি। তবে অবাক হতে হবে টেস্টে তাঁর ছক্কা মারার সংখ্যা জানলে। টেস্টে মাত্র ৬টি ছক্কা মেরেছিলেন। পাঁচটি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে, একটি ভারতের বিরুদ্ধে। টেস্টে তাঁর বাউন্ডারির সংখ্যা ৬১৮টি। দুবার তিনি পাঁচ মেরেছেন টেস্টে! বল হাতে দুটি উইকেট নিয়েছেন টেস্ট কেরিয়ারে। ১৯৩০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইভান ব্যারোকে ২৭ রানে লেগ বিফোর করেছিলেন ব্র্যাডম্যান, অ্যাডিলেড টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে। ১৯৩৩ সালে অ্যাডিলেডেই তৃতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ৮৫ রানে বোল্ড করেছিলেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক ওয়াল্টার হ্যামন্ডকে।

এখনও অক্ষত যে রেকর্ডগুলি

১৫ বা তার বেশি ইনিংস খেলার নিরিখে টেস্টে সর্বাধিক ব্যাটিং গড়ের রেকর্ডটি রয়েছে ডন ব্র্যাডম্যানের ঝুলিতে। অধিনায়ক হিসেবেই খেলেছেন কেরিয়ারের শেষ টেস্ট। ১৯৪৮ সালে ওভালে নিজের শেষ টেস্ট ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন। অথচ তিনি যদি অপরাজিত থাকতেন কিংবা চার বা তার বেশি রান করতেন তাহলেই ব্যাটিং গড় থাকত ১০০-র উপরে। পাঁচ টেস্টের সিরিজে সেরা ব্যাটিং গড়ও ডনের, ১৯৩১-৩২ মরশুমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজে তাঁর গড় ছিল ২০১.৫০। টেস্ট কেরিয়ারে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে দুটি ত্রিশতরান করেন, যে রেকর্ড পরে স্পর্শ করেন ব্রায়ান লারা। সিড বার্নেসকে নিয়ে ১৯৪৬-৪৭ মরশুমে তিনি পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৪০৫ রান যোগ করেন, যে রেকর্ডটি আজও অক্ষত। একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে টেস্টে ৫ হাজার রান ব্র্যাডম্যান ছাড়া আর কেউ করতে পারেনি, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনি ৫,০২৮ রান করেছেন। কোনও টেস্ট সিরিজে ৫০০ বা তার বেশি রান ব্র্যাডম্যান করেছেন সাতবার, এই রেকর্ডটিও স্পর্শ করেছেন লারা-ই। লাঞ্চের আগে একবার, লাঞ্চ ও চা বিরতির মাঝে দুবার এবং চা বিরতি থেকে দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে তিনবার তিনি শতরান করেছেন। অর্থাৎ শতরান করতে তাঁর একটিই সেশন লেগেছে ৬ বার। ১৯৩০ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লিডসে তিনি একই দিনে ৩০৯ রান করেছিলেন, টেস্টে একই দিনে ত্রিশতরানের এমন নজির আর কারও নেই। একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডটিও ব্র্যাডম্যানেরই দখলে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৯৭৪ রান করেছিলেন। টেস্টে সবচেয়ে বেশি ১২টি দ্বিশতরান রয়েছে ডন ব্র্যাডম্যানের। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার হিসেবে দ্রুততম এক হাজার রানের রেকর্ডটিও তাঁরই দখলে। ডন ব্র্যাডম্যান ও বিল পনসফোর্ড ১৯৩৪ সালের ওভাল টেস্টে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৪৫১ রান যোগ করেছিলেন। যে কোনও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যে কোনও জুটিতে টেস্টে এটি আজও অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে রেকর্ড। ব্র্যাডম্যানদের এই মহাকীর্তি তিনটি জুটি পরে পেরিয়ে যায়। এখন এই রেকর্ডটি দখলে রয়েছে কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়বর্ধনে জুটির (৬২৪), দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে কলম্বোয় ২০০৬ সালে। এ ছাড়া সনথ জয়সূর্য ও রোশন মহানামা ৫৭৬ রানের পার্টনারশিপ গড়েন ভারতের বিরুদ্ধে ১৯৯৭ সালে। নিউজিল্যান্ডের অ্যান্ড্রু জোন্স ও মার্টিন ক্রো ১৯৯১ সালে ওয়েলিংটনে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ভেঙেছিলেন ব্র্যাডম্যান-পন্সফোর্ডের রেকর্ডটি।

মনোভাবেও আলাদা ব্র্যাডম্যান

মনোভাবেও আলাদা ব্র্যাডম্যান

প্রথম টেস্ট খেলার সময় অনেকে যেমন নার্ভাস থাকেন তেমনটা হয়নি ডন ব্র্যাডম্যানের ক্ষেত্রে। কখনও নার্ভাস না হওয়ার জন্য নিজেকে ভাগ্যবান বলেও মনে করতেন ব্যাডম্যান। রীতিমতো আয়েশ করে টেস্ট খেলতেন। কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি যেভাবে মনোনিবেশ করে দলকে উদ্ধার করতেন তাকেও বারবার কুর্নিশ জানিয়েছেন তাঁর সতীর্থ বা প্রতিপক্ষের ক্রিকেটাররা। প্রাক্তনদের কথায় আরও যে বিষয় উঠে এসেছে তা হলো, খেলায় তাঁর মনোনিবেশ বাকিদের চেয়ে আলাদা পর্যায়ের ছিল। খুব ভালো ম্যাচের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে খেলার গতিপ্রকৃতিকে তিনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন। ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক ওয়াল্টার হ্যামন্ড একটি মজার কথা বলেছিলেন ব্র্যাডম্যান সম্পর্কে। তিনি বলেছিলেন, ব্যাটিং করার সময় ব্র্যাডম্যান যে কুল থাকতেন সেটা অস্বীকারের উপায় নেই। এক-দুবার এমনটাও হয়েছে আমি কোনও ফিল্ডার পরিবর্তন করলাম। তা দেখে গ্লাভস পরিহিত অবস্থাতেই ব্র্যাডম্যান আমাকে স্যালুট করলেন। মজা করেই। পরের বলেই দেখলাম যেখান থেকে ফিল্ডার সরালাম সেখান দিয়েই তিনি বল পাঠিয়ে রান করলেন। এতেই বোঝা যায় তিনি সাধারণ ব্যাটসম্যান ছিলেন না, তিনি জিনিয়াস!

খবরের ডেইলি ডোজ, কলকাতা, বাংলা, দেশ-বিদেশ, বিনোদন থেকে শুরু করে খেলা, ব্যবসা, জ্যোতিষ - সব আপডেট দেখুন বাংলায়। ডাউনলোড Bengali Oneindia

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+