ICC Suspends SLC: বিশ্বকাপের মধ্যেই বিরাট পদক্ষেপ আইসিসির! সাসপেন্ড শ্রীলঙ্কা, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
ICC Suspends SLC: বিশ্বকাপ থেকে বিদায় হয়ে গিয়েছে শ্রীলঙ্কার। হতাশাজনক পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে ১৯৯৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগেই শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট পড়ল মহা অনিশ্চয়তায়।
আইসিসি বোর্ড সাসপেন্ড করে দিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটকে। দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণেই আইসিসির এই পদক্ষেপ বলে জানা যাচ্ছে।

আইসিসির তরফে বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, আজ আইসিসি বোর্ডের সভা ছিল। আইসিসি সদস্য হিসেবে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট যেভাবে নিয়ম লঙ্ঘন করেছে তা যথেষ্টই সিরিয়াস বিষয়। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী কোনও দেশের ক্রিকেট বোর্ডকে স্বশাসিত হওয়া বাধ্য়তামূলক। বোর্ড প্রশাসন চালানোয় সরকারি হস্তক্ষেপ পুরোপুরিভাবে নিষিদ্ধ। যা শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট মানেনি বলে দাবি আইসিসির।
এর জেরেই শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটকে সাসপেনশনের পথে হাঁটল আইসিসি। সাসপেনশনের শর্তসমূহ আইসিসির বোর্ডের তরফে পরবর্তীকালে জানানো হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ। বিশ্বকাপে খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে শ্রীলঙ্কা সরকারের তরফে বোর্ডের সমস্ত পদাধিকারীকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছিল।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট ভেঙে দিয়ে অর্জুন রণতুঙ্গার নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি সরকারের তরফে গড়ে দেওয়া হয়েছিল। যদিও আদালতের দ্বারস্থ হয়ে স্বস্তি পেয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। আদালতের নির্দেশে সরকারকে পিছু হঠতে হয়েছে। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের পদাধিকারী আদালতের নির্দেশ মোতাবেক নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন।
বেশ কয়েক মাস ধরেই শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে ডামাডোল চলছে। তবে বিশ্বকাপ চলাকালীন যেভাবে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে সরকারি হস্তক্ষেপ প্রকট হয়ে উঠল তা আগে এতটা খুল্লমখুল্লা হয়নি। তবে দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে শ্রীলঙ্কার নির্বাচকরা দল গঠনের পর তা অনুমোদনের জন্য পাঠাতে হতো সরকারের কাছে। ক্রীড়ামন্ত্রী তথা সরকারের অনুমতিসাপেক্ষে দল ঘোষণা করা হয়।
আইসিসির ত্রৈমাসিক বৈঠক নভেম্বরের ১৮ থেকে ২১ তারিখ হবে আমেদাবাদে। তার আগেই শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি নিয়ে আইসিসি বোর্ড আজ অনলাইন বৈঠক সেরে নেয়। বোর্ড প্রশাসন চালানো, অর্থনৈতিক বিষয় ও দল গঠনে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ আগেই পেয়েছিল আইসিসি। আইসিসি বোর্ড মিটিংয়ের শেষে ২১ নভেম্বর বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
গত সোমবার শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী রোশন রণসিংঘে দেশের ক্রিকেট বোর্ড ভেঙে দিয়ে রণতুঙ্গার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গড়ে দিয়েছিলেন। আদালত সেই পদক্ষেপে ১৪ দিনের স্থগিতাদেশ দেয়। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষে রয়েছেন শাম্মি সিলভা। তবে মনে করা হচ্ছে, সরকার কমিটি গঠন করাতেই পদক্ষেপ করল আইসিসি।
শ্রীলঙ্কাকে আইসিসি সাসপেন্ড করার ঘটনা যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ। ফলে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়লেন শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা। এই সাসপেনশনের প্রেক্ষিতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট কোন পদক্ষেপ করে বা কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয় সেটাই দেখার। ২০১৯ সালে জিম্বাবোয়েকে আইসিসি সাসপেন্ড করেছিল, সেই সরকারি হস্তক্ষেপের কারণেই। জিম্বাবোয়েতে ক্রিকেট থমকে যায়। ফান্ডিং বন্ধ করা হয়েছিল। তবে শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ততটা কড়া নাও হতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications